Ajker Patrika

সিরাজগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে সাত দোকান পুড়ে ছাই

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি  
আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ১০: ৪৯
সিরাজগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে সাত দোকান পুড়ে ছাই
আজ ভোর ৬টার দিকে কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল পূর্ব বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ছবি: আজকের পত্রিকা

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল পূর্ব বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতটি দোকান পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। বুধবার ভোর ৬টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের ধারণা, শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত বাজারের বিভিন্ন দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে একটি ভাতের হোটেল, দুটি মিষ্টির দোকান, একটি সেলুন, একটি ইলেকট্রনিকস দোকান, একটি মনিহারি দোকান এবং একটি মাটির আসবাবের দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হলেন—মাটির আসবাবপত্রের দোকানদার লাল মোহন, সেলুন মালিক রতন দাস, মনিহারি ব্যবসায়ী রেজাউল করিম, মিষ্টির দোকানদার চাঁন মিয়া ও শাহজাহান, ভাতের হোটেল মালিক লাল মিয়া এবং ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী রিপন।

আজ ভোর ৬টার দিকে কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল পূর্ব বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ছবি: আজকের পত্রিকা
আজ ভোর ৬টার দিকে কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল পূর্ব বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ছবি: আজকের পত্রিকা

খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে দোকানগুলোর সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, দোকানে থাকা মালামাল ও নগদ অর্থসহ সবকিছু আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে।

ভাতের হোটেল ও মিষ্টির দোকানের মালিক লাল মিয়া বলেন, ‘আমার দুটি দোকান ছিল। আগুনে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ফ্যান, চাল, মিষ্টিসহ সবকিছু পুড়ে গেছে। এখন আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই।’

ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী রিপন বলেন, ‘দোকানে ফ্যানসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল ছিল। আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে।’

মনোহারি দোকান ও বিকাশ এজেন্ট রেজাউল করিম বলেন, ‘বিকাশের টাকা, কার্ড এবং দোকানের সব মালামাল পুড়ে গেছে। আমার প্রায় পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, সাতটি দোকান মিলিয়ে মোট ক্ষতির পরিমাণ ৪০ লাখ টাকারও বেশি।

সেলুন ও মাটির আসবাব ব্যবসায়ী লাল মোহন জানান, তাঁর প্রায় ছয় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা নিম্নআয়ের মানুষ। আগুনে আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।’

কামারখন্দ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।

কামারখন্দ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর ফরিদ উদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে বলা যাবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত