Ajker Patrika

সিলেট-ম্যানচেস্টারের ফ্লাইট চালু রাখার দাবিতে মঙ্গলবার ‘মার্চ ফর বিমান’

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট  
সিলেট-ম্যানচেস্টারের ফ্লাইট চালু রাখার দাবিতে মঙ্গলবার ‘মার্চ ফর বিমান’
সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু রাখার দাবিতে আজ রোববার সিলেট নগরের একটি রেস্তোরাঁর হলরুমে প্রবাসীদের দুটি সংগঠন যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করে।

সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু রাখার দাবিতে ‘মার্চ ফর বিমান’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে সিলেট নগরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিমান কার্যালয় অভিমুখে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) সিলেট নগরের জিন্দাবাজার এলাকার একটি রেস্তোরাঁর হলরুমে প্রবাসীদের দুটি সংগঠন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ইউকে এনআরবি সোসাইটি ও নর্থ ইউকে বাংলাদেশি হেরিটেজ কাউন্সিলরস ফোরাম এই আয়োজন করে।

আগামী ১ মার্চ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেডের ঢাকা/সিলেট-ম্যানচেস্টার-ঢাকা রুটে ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ও বাস্তবতা তুলে ধরে গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে একটি ব্যাখ্যামূলক বিবৃতি পাঠিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি।

এর প্রতিবাদে সিলেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান ইউকে এনআরবি সোসাইটির পরিচালক এম জুনেদ আহমদ। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনীতিক নজরুল ইসলাম বাসন, মিজানুর রহমান ও ওল্ডহাম বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জামাল উদ্দিন, ইউকে এনআরবি সোসাইটির সিলেটের সমন্বয়ক সাংবাদিক ওয়েছ খছরু, ওল্ডহামের ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব কামাল রব, কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হক, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি প্রথম মাউন্ট এভারেস্ট জয়ী আঁখি রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জুনেদ আহমদ বলেন, ২০২০ সালে যখন সিলেট থেকে ইংল্যান্ডের শহর ম্যানচেস্টারে সরাসরি ফ্লাইট চালু হয়, তখন বিমানের প্রচারণার অভাবে বিজনেস ক্লাসে যাত্রী কম ছিল। কিন্তু গত হজ মৌসুমের পর থেকে বিজনেস ক্লাসে কোনো সিট খালি থাকেনি। প্রতি সপ্তাহে রবি ও মঙ্গলবার সিলেট থেকে ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চালু ছিল।

জুনেদ আহমদ বলেন, যুক্তরাজ্যের নর্থ ইংল্যান্ডে বসবাসরত সাত-আট লাখ প্রবাসীর যাতায়াত সুবিধার কথা বিবেচনা করে বিমান কর্তৃপক্ষ এই রুট চালু করে। ওই অঞ্চলের প্রবাসীরা ১২-১৩ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট এসে পৌঁছতে পারেন। যদি রুটটি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে প্রবাসীদের আসতে সময় লাগবে ২২ থেকে ২৪ ঘণ্টা। কারণ, তাঁরা সড়কপথে চার থেকে ছয় ঘণ্টার জার্নি করে হিথ্রো হয়ে ঢাকা কিংবা সিলেট আসতে হবে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হবেন সিনিয়র সিটিজেন, নারী ও শিশুরা। অতিরিক্ত ভোগান্তিতে পড়বে সব বয়সী মানুষ। জার্নির বিরক্তির কারণে অনেকেই দেশে আসতে ভয় পান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘জুনেদ জানান—গত ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ ম্যানচেস্টার ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িক স্থগিত প্রসঙ্গে যে বক্তব্য দিয়েছে, তা দেখে আমরা বিস্মিত, মর্মাহত, ক্ষুব্ধও। এমন মিথ্যাচার রাস্ট্রীয় একটি সংস্থা করতে পারে, সেটি আমরা কল্পনা করতে পারছি না। বিমান কর্তৃপক্ষ বলেছে, সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটটিতে লোকসান হচ্ছে।’

প্রয়োজনে আইনি লড়াইয়ে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে জুনেদ আহমেদ বলেন, ‘আমাদের প্রশ্ন হলো—যে রুটে বিমান কর্তৃপক্ষ ৮৩ শতাংশ ব্যবসা করে, সেই রুটটি কীভাবে লোকসান হয়। বেশির ভাগ যাত্রী ৭০০ থেকে ৮০০ পাউন্ডের টিকিট ১২০০ থেকে ১৫০০ পাউন্ডে কেনেন। বিমানের একটি অসাধু চক্র এই টাকা লোপাট করে প্রতিমুহূর্তেই ফ্লাইটটিকে লোকসান দেখানোর পাঁয়তারা করছে। আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলছি, সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটটি অলাভজনক নয়। বরং যাত্রীসংখ্যা এত বেশি যে কয়েক মাস ধরে ওই ফ্লাইটের টিকিট মিলছে না। লাখ লাখ পাউন্ডে ব্যবসা করা বিমান কর্তৃপক্ষ সব সময় এই রুটে ফ্লাইট বন্ধের চেষ্টা চালিয়েছে, এখনো চালাচ্ছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত