Ajker Patrika

গাংনীতে এবার খেজুরের রস বেশি পাওয়ায় খুশি গাছিরা

রাকিবুল ইসলাম, গাংনী (মেহেরপুর) 
গাংনীতে এবার খেজুরের রস বেশি পাওয়ায় খুশি গাছিরা
গাছ থেকে সকাল সকাল রস সংগ্রহ করছেন গাছিরা। গাংনী উপজেলার বালিয়াঘাট গ্রামের মাঠ থেকে আজ সকালে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

শীত এলেই বাঙালির ঘরে ঘরে শুরু হয় পিঠা-পায়েসের আয়োজন। পিঠা তৈরির অন্যতম সহায়ক হলো গুড়। অনেকে চিনি দিয়েও তৈরি করে থাকে। তবে এই নাশতাকে সবচেয়ে বেশি সুস্বাদু করে তোলে খেজুর রসের গুড়। আর শীত এলেই জনপ্রিয়তা বেড়ে যায় খেজুর রসের গুড়ের। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দেখা যায় গুড় তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা।

গাংনীর গ্রামাঞ্চলে ভোররাতে গাছিরা খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। পরে বড় কড়াইয়ে জ্বাল দিয়ে সেই রস থেকে তৈরি হয় সুস্বাদু খেজুরের গুড়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেজুরের রস ও গুড়ের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। নিজ উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে এসব গুড় সরবরাহ করা হয় দেশের বিভিন্ন জেলায়।

খেজুর গাছি ছলেমান আলী বলেন, ‘খেজুরের রস ও গুড়ের চাহিদা খুব বেশি। তবে সবাইকে পর্যাপ্ত দিতে পারছি না। দুই কলস রস থেকে প্রায় এক কেজি গুড় তৈরি হয়। রস এক গ্লাস ১০ টাকা আর গুড় কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’ তিনি জানান, মৌসুমে প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস রস সংগ্রহ চলে। এতে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় হয়। তবে ঝুঁকি নিয়েই গাছ প্রস্তুত ও রস সংগ্রহ করতে হয়।

বালিয়াঘাট গ্রামের তছির উদ্দিন বলেন, তাঁর গাছ কম হলেও প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয়। তিনি জানান, রস সংগ্রহে আলাদা খরচ না থাকলেও কাজটি ঝুঁকিপূর্ণ।

তেরাইল গ্রামের খালেক আলী বলেন, ‘শীত আসলেই খেজুরের গুড় দিয়ে ভাপা পিঠা, পুলি পিঠা, পাটিসাপটা ও রস পিঠা তৈরির ধুম পড়ে যায়। খেজুরের গুড়ের পিঠা খেতে খুবই সুস্বাদু।’

গাংনী উপজেলার তেরাইল গ্রামের মাঠ থেকে আজ সকালে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা
গাংনী উপজেলার তেরাইল গ্রামের মাঠ থেকে আজ সকালে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামের মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গাংনী উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামেই গাছিরা খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরি করছেন। চিনি বা আখের গুড়ের তুলনায় খেজুরের গুড়ের তৈরি খাবার বেশি সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদা বেশি।

গাংনী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় পর্যাপ্ত খেজুরগাছ রয়েছে। শীত মৌসুমে এসব গাছ থেকে রস ও গুড় উৎপাদন করে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি খেজুরগাছের পাতার অংশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে নানান নকশার পাটি।

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিয়ার রহমান বলেন, ‘শীত মনে করিয়ে দেয় সুস্বাদু খেজুর রস ও গুড়ের কথা। গাছিরা রস সংগ্রহ করে বিভিন্ন গ্রামে বিক্রি করে বেড়ায়। তা ছাড়া জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করেও বেশি দামে বিক্রি করে। আশা করছি এবার গাছিরা লাভবান হচ্ছে। গাংনী উপজেলার মাটি ভালো হওয়ার কারণে রস ও গুড় সুস্বাদু হয়। আর শীত এলেই খেজুরের রস ও গুড়ের কদর বেড়ে যায় ব্যাপক হারে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত