Ajker Patrika

নড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত

নড়াইল প্রতিনিধি 
নড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ট্রাস্টের আয়োজনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। আজ শনিবার জেলা প্রশাসন ও বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ট্রাস্টের আয়োজনে দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও পুষ্পস্তবক অর্পণ, গার্ড অব অনার এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় কোরআনখানি ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

নড়াইল সদর উপজেলার চণ্ডীবরপুর ইউনিয়নের নূর মোহাম্মদ নগর (মহিষখোলা) এবং বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক। স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আহসান মাহমুদ রাসেল, নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টি এম রাহসিন কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুর-ই-আলম সিদ্দিকী এবং বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের জ্যেষ্ঠ পুত্র এস এম মোস্তফা কামালসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের অসীম সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন।

জানা যায়, ১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের (ইপিআর) সদস্য হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন নূর মোহাম্মদ শেখ। দীর্ঘদিন দিনাজপুর সীমান্তে দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই তিনি যশোর সেক্টরে বদলি হন। পরে ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতি পান।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধে অংশ নেন। ওই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের গোয়ালহাটি ও ছুটিপুর এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন তিনি।

যুদ্ধের একপর্যায়ে সহযোদ্ধাদের জীবন রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেন নূর মোহাম্মদ শেখ। শত্রুর গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পরও তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যান এবং গুলি করতে করতে সামনে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে তিনি শাহাদাতবরণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সামরিক বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত