Ajker Patrika

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

সিলেট প্রতিনিধি
আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮: ১৭
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন
সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ মামলায় দণ্ডিত আসামিদের কারাগারে নেওয়া হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এক গৃহবধূকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় ৮ আসামির মধ্যে একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে রায় পাঠ শুরু করেন এবং বেলা ১টা ৫৩ মিনিটে রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ও খালাসপ্রাপ্ত সবাই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত। এর আগে অভিযুক্ত সব আসামিকে কারাগার থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় আজ সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে আদালতে আনা হয়। রায় ঘোষণার সময় সব আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন। তিনি বলেন, মামলার রায়ে আদালত সাইফুরকে মৃত্যুদণ্ড এবং সঙ্গে আরও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। আর তারেক, অর্জুন ও রনিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামি পক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী বলেন, এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষ্য দেয়নি। ভিকটিমও আসামিদের শনাক্ত করেনি। অপরাধ প্রমাণ না হওয়া সত্ত্বেও কয়েকজনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জৈনপুরের ২৪ বছর বয়সী এক যুবক তাঁর ১৯ বছর বয়সী নববিবাহিতা স্ত্রীকে নিয়ে প্রাইভেট কারযোগে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে ঘুরতে যান। প্রাইভেট কারসহ গৃহবধূ ও তাঁর স্বামীকে জোরপূর্বক জিম্মি করে কলেজের ছাত্রাবাসের অভ্যন্তরে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। সেখানে স্বামীকে আটকে রেখে ছাত্রাবাসের ৭ নম্বর ব্লকের ৫ম তলা বিল্ডিংয়ের সামনে প্রাইভেট কারের মধ্যেই গৃহবধূকে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করে। ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি ধর্ষকেরা, গৃহবধূর সঙ্গে থাকা টাকা, স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আটকে রাখে তাদের প্রাইভেট কারও। এ ঘটনায় নির্যাতিতার স্বামী বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৩-৪ জনকে আসামি করে শাহপরান (র.) থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত