Ajker Patrika

বিদ্যালয়ের জমি দখলের চেষ্টা, চিতলমারীতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি 
বিদ্যালয়ের জমি দখলের চেষ্টা, চিতলমারীতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ
বাগেরহাটের চিতলমারী হাসিনা বেগম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের জমি রক্ষার দাবিতে সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে।ছবি: আজকের পত্রিকা

বাগেরহাটের চিতলমারীতে একটি বিদ্যালয়ের জমি রক্ষার দাবিতে সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে চিতলমারী হাসিনা বেগম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

সকাল সাড়ে ১০টা থেকে চলা এই কর্মসূচির কারণে সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় যানজট তৈরি হয়। পরে আন্দোলনকারীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধন শেষে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, প্রধান শিক্ষক শৈলেন্দ্র নাথ বাড়ই এবং শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার ও অর্তি মণ্ডল।

প্রধান শিক্ষক শৈলেন্দ্র নাথ বাড়ই জানান, ১৯৭২ সালে ৩ একর ৫৬ শতক জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পুরোটাই এসএ রেকর্ডে বিদ্যালয়ের নামে রয়েছে। কিন্তু বিআরএস জরিপের সময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামনের রাস্তার পাশের দামি ২৩ শতক জায়গা মল্লিক সিরাজুল হকের নামে রেকর্ড করানো হয়।

বাগেরহাটের চিতলমারী হাসিনা বেগম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের জমি রক্ষার দাবিতে সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে।ছবি: আজকের পত্রিকা
বাগেরহাটের চিতলমারী হাসিনা বেগম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের জমি রক্ষার দাবিতে সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে।ছবি: আজকের পত্রিকা

তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির দোকান ভাড়ার টাকায় স্কুলের উন্নয়নকাজ চলছিল। কিন্তু সম্প্রতি স্কুলের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেত্রী সুলতানা মল্লিক জায়গাটি দখলের পাঁয়তারা করছেন। জমি রক্ষায় এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলুল হক বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষা ও সংঘাত এড়াতে আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলাম। আদালত ১৪৪ ধারা জারি করলেও স্থানীয় প্রশাসন তা কার্যকরে কোনো ভূমিকা রাখছে না। প্রভাবশালী ওই নেত্রী রাতের আঁধারে কাজ করাচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার্থীরা যে কোনো সময় সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।’

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সুলতানা মল্লিক। তিনি দাবি করেন, ‘জমির রেকর্ড ও দাখিলা সবই আমাদের নামে। হয়রানি করার জন্য এসব করা হচ্ছে। উল্টো তারা আইন অমান্য করে আমাদের চারটি দোকানঘর ভেঙে দিয়েছে।’

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুর রহমান বলেন, ‘১৪৪ ধারার নোটিশ জারি করে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত