Ajker Patrika

খেলার মাঠ নেই, তাই বোরোখেতের নাড়া কেটে ফুটবলের মাঠ বানাচ্ছেন কিশোরেরা

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
খেলার মাঠ নেই, তাই বোরোখেতের নাড়া কেটে ফুটবলের মাঠ বানাচ্ছেন কিশোরেরা
বোরোখেতের নাড়া কেটে ফুটবলের মাঠ বানাচ্ছেন কিশোরেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

গ্রামে নেই কোনো স্থায়ী খেলার মাঠ। নেই কিশোর-তরুণদের খেলাধুলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা। তাই বলে কৈশোর আর তারুণ্যের উদ্যম তো বিনষ্ট হয়ে যায়নি! গ্রামের ছেলেরা নিজেরাই তাই উদ্যোগ নিয়ে বানিয়ে ফেলল রীতিমতো একটা ফুটবল মাঠ।

অবশ্য এ জন্য তাদের সরকারের কাছে আবেদন করতে হয়নি। এক মন্ত্রণালয় থেকে আরেক মন্ত্রণালয়ে ছোটাছুটিও করেনি তারা। খেলার সুযোগ তৈরি করতে মাঠের বোরো ধান কাটার পর খেতে পড়ে থাকা নাড়া পরিষ্কার করে নিজেরাই তৈরি করছে অস্থায়ী ফুটবল মাঠ। হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের চরগোরকপুর গ্রামের একদল কিশোর ও যুবক এ কাজ করেছেন।

আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার চরগোরকপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন ছেলেপেলে বোরোখেতে নেমে কাঁচি দিয়ে নাড়া কাটছেন। কেউ জমি সমান করছেন, আবার কেউ মাঠের পরিসর ঠিক করছেন। দল বেঁধে কাজ করার এই দৃশ্য গ্রামীণ ঐক্য আর খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসারই যেন প্রতিচ্ছবি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে কোনো স্থায়ী খেলার মাঠ না থাকায় কিশোর ও তরুণেরা অবসর সময়ে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত কাজে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। তারা দ্রুত একটি স্থায়ী খেলার মাঠ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

এ সময় কথা হয় স্থানীয় তরুণ কানন মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকায় কোনো খেলার মাঠ নেই। সামনে ঈদ। ঈদের পর থেকে এখানে রেগুলার খেলাধুলা হবে। তাই সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি—এই খেতটাই পরিষ্কার করে মাঠ বানাব।’

আনন্দমোহন কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল সাদ বলেন, ‘মোবাইল ফোন আর বাজে আড্ডায় সময় নষ্ট না করে খেলাধুলায় সময় দিতে চাই। মাঠ না থাকলেও ইচ্ছাশক্তি থাকলে উপায় হয়—আমরা সেটাই দেখাতে চাই।’

তরুণদের ভাষ্য, বোরো ধান কাটার পর কয়েক মাস এই জমি খালি পড়ে থাকে। এই সময়টুকু মাঠ হিসেবে ব্যবহার করলে নিয়মিত ফুটবল খেলা সম্ভব হয়। এতে শরীরচর্চার পাশাপাশি এলাকার ছেলেদের মধ্যে শৃঙ্খলা, বন্ধুত্ব ও সামাজিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।

স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ফুল মাহমুদ বলেন, ছেলেরা নিজেরা কষ্ট করে মাঠ বানাচ্ছে—এটা গর্বের বিষয়। যদি সরকার বা জনপ্রতিনিধিরা উদ্যোগ নিতেন, তাহলে স্থায়ী একটি খেলার মাঠ হলে পুরো এলাকার উপকার হতো।

চরগোরকপুর বাজার ব্যবসায়ী নূরে আলম সুজন বলেন, মাঠ না থাকলেও যে ইচ্ছা, শ্রম আর ঐক্য থাকলে পথ তৈরি করা যায়—বোরোখেতের এই ফুটবল মাঠ তারই জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তরুণদের জন্য শুভকামনা থাকল।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম তৈরি করা হবে। খেলাধুলায় আগ্রহ বাড়াতে ১২টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় গোল্ডকাপ ফুটবল খেলা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত