
বছরের পর বছর মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হচ্ছে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চানন্দী, নলচিরা, সুখচর ও চর ঈশ্বর ইউনিয়নের হাজারো ঘরবাড়ি।
ফসলি জমি ও বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে তীরের কয়েক হাজার পরিবার। একসময় শুধু বর্ষা মৌসুমে ভাঙন দেখা দিলেও বর্তমানে তা চলছে বছরজুড়ে। সম্প্রতি আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে মেঘনা। তীব্র রূপ নিয়েছে ভাঙন।
বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে পড়ায় অনেক পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে বিভিন্ন বেড়িবাঁধে। ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসন বিভিন্ন সময় আশ্বাস দিলেও পদক্ষেপ চোখে পড়েনি এক যুগের বেশি সময়ে। এ নিয়ে উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে বিভিন্ন চর ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। এ সময় চানন্দী ইউনিয়নের ভূমিহীন বাজারের পশ্চিম পাশে নদীতীরে দেখা হয় ৬৫ বছর বয়সী সুজতী বালা মজুমদারের সঙ্গে; যিনি ভিটেমাটি হারিয়ে নাতি-নাতনি, ছেলের বউকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন নদীতীরে। মুখে হাসি নেই। আছে তীব্র হতাশার ছাপ। তাঁর স্বামী-সন্তানেরা নরসুন্দর পেশায় জড়িত।
সুজতী বালা জানান, হাতিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে নদীভাঙনের শিকার হয়ে এই চরে আশ্রয় নিয়েছেন। ভিটেমাটি হারানোর পর টাকাপয়সা না থাকায় ছেলের বউদের গয়না বিক্রি করে ছোট একখণ্ড জমি কিনে বসবাস শুরু করেন চানন্দী ইউনিয়নের নলেরচরে ভূমিহীন বাজারের দক্ষিণ পাশে।
সুজতী বালা জানান, আগ্রাসী মেঘনা মাসখানেক আগে গিলে খেয়েছে তাঁর শেষ সম্বল বাড়িটি। পরে বাধ্য হয়ে পরিবারের আট সদস্যকে নিয়ে চরে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন সুজতী বালা।
জানা গেছে, চানন্দী ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক কেন্দ্র ভূমিহীন বাজার। ৫ শতাধিক দোকান ছিল এই বাজারে। ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ, পাকা রাস্তার সংযোগ থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষজন আসত এই বাজারে। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে বাজারের অর্ধেক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী মমিন ভান্ডারি জানান, এক সপ্তাহ আগে নদীভাঙনে বাজারের অর্ধেকের বেশি বিলীন হয়ে গেছে। অনেকে তাঁদের শেষ সম্বল দোকানঘরও সরিয়ে নিতে পারেননি।
মমিন ভান্ডারি আরও বলেন, ‘এই চরে ২০ বছর আগে বসবাস শুরু করেছি। এখন ভূমিহীন বাজার এলাকাতেও ভাঙন শুরু হয়েছে। একসময় নদী দক্ষিণ দিকে আরও ২০ কিলোমিটার দূরে ছিল। কিন্তু বর্তমানে চর আর দুই কিলোমিটার বাকি আছে। এরপর সুবর্ণচর উপজেলা। এমন পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেতে বিভিন্ন সময় সরকার বা রাজনৈতিক নেতারা শুধু আশ্বাসই দিয়েছেন কিন্তু ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। চরের বাসিন্দারা নিরুপায় হয়ে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভূমিহীন বাজারের পূর্ব পাশে গড়ে তোলা হয়েছে সবচেয়ে বড় মসজিদ। যেখানে দুই হাজার মুসল্লির একসঙ্গে নামাজ পড়ার সুযোগ ছিল। এর পাশেই রয়েছে গণকবরস্থান। এ পর্যন্ত সেখানে প্রায় ৮০০ মরদেহ দাফন করা হয়েছে। কিন্তু নদীভাঙনে সেই মসজিদ ও কবরস্থানও ঝুঁকিতে রয়েছে। এরই মধ্যে কবরস্থানটি ভাঙনের কবলে পড়েছে।
কবরস্থানে পাশে নাজমা আক্তার নামের একজন জানান, ১০ বছর আগে তাঁর বড় বোনকে এখানে কবর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই কবর ভেঙে যাচ্ছে।
নাজমা আরও জানান, অনেকে কবরস্থান থেকে তাঁদের স্বজনদের মরদেহ তুলে অন্যত্র নিয়ে দাফন করছেন। একটি কবর স্থানান্তরে অনেক টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু তাঁদের পক্ষে তা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য সর্বশেষ পরিস্থিতি দেখতে এসেছেন।
সম্প্রতি ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী। নদীভাঙনে নিঃস্ব পরিবারগুলো দুঃখ-দুর্দশার কথা ভেবে তিনি হাতিয়ায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরুর আশ্বাস দেন, পাশাপাশি স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের নদীভাঙন রোধে একটি প্রকল্পের যাচাইবাছাই চলছে। দ্রুততম সময়ে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকার কেরানীগঞ্জের রসুলপুর মাদ্রাসা পশুর হাটে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ১ হাজার ৪০০ কেজি (৩৫ মণ) ওজনের বিশাল আকৃতির ষাঁড়। নাম টাইসন। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ শুধু একনজর টাইসনকে দেখতে হাটে ভিড় করে।
১ ঘণ্টা আগে
গোলাম মোর্তজা ৯০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছেন। রাজশাহীর সিটি হাটে এর জন্য তাঁকে হাসিল দিতে হয়েছে এক হাজার টাকা। হাটের ইজারাদারের লোকজন তাঁকে রসিদও দিয়েছেন, কিন্তু তাতে লেখা নেই টাকার পরিমাণ। কোরবানির আগে এমন কৌশলে উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এই পশুর হাটটিতে পশু ক্রেতাদের গলা কাটছেন ইজারাদার।
১ ঘণ্টা আগে
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন ছড়া থেকে প্রাকৃতিক সম্পদ সিলিকা বালু অবাধে লুট হচ্ছে। এতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু, একটি স্লুইস গেট এবং সিলেট-ঢাকা রেললাইন ও সিলেট-ব্রাহ্মণবাজার সড়কের ওপর নির্মিত সেতু যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করার পরও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে কোরবানির পশুর বেশ কিছু অবৈধ হাট। এসব হাট বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা বসিয়েছেন বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। তবে অবৈধ হলেও এসব হাটে তেমন অভিযান চালাচ্ছে না সিটি করপোরেশন।
১ ঘণ্টা আগে