Ajker Patrika

ফেসবুকে পাওয়া গেল মৃত্যুর খবর, মামলা করবে না পরিবার

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ৪২
ফেসবুকে পাওয়া গেল মৃত্যুর খবর, মামলা করবে না পরিবার
প্রতীকী ছবি

বাসে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকার পর ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন আব্দুল হামিদ (৪৬) নামের এক ব্যক্তি। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হাসপাতালের ইনফেকশন ওয়ার্ডে তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশের ধারণা, বাসে তাঁকে নেশাজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়ে থাকতে পারে।

আব্দুল হামিদ রাজশাহী জেলার পুঠিয়া থানার ঝলমলিয়া গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে। তিনি জেবি কেব্‌ল কোম্পানির সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় দিনাজপুর জেলার ১০ মাইল এলাকায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঠাকুরগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন আব্দুল হামিদ। স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নেয় পুলিশ। সেখানে তাঁকে ইনফেকশন ওয়ার্ডে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি হিসেবে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুর রহমান বলেন, আব্দুল হামিদ জেবি কেব্‌ল কোম্পানির সেলসম্যান ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির দিনাজপুরের ১০ মাইল এলাকার কার্যালয় থেকে তিনি গতকাল মঙ্গলবার দিনের কোনো এক সময় ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। পরে তাঁকে ঠাকুরগাঁও বাসস্ট্যান্ডে একই দিন সন্ধ্যার দিকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা, বাসের মধ্যে তাঁকে নেশাজাতীয় কোনো কিছু খাওয়ানো হয়ে থাকতে পারে। স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আব্দুল হামিদের শ্যালক মোহাম্মদ রতন বলেন, ‘গতকাল দুপুর ১২টার পর থেকে দুলাভাইকে ফোনে আর পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করি। মেডিকেলসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেওয়ার পর আজ সকালে ফেসবুকে তাঁর ছবি দেখতে পাই। পরে ঠাকুরগাঁওয়ে এসে নিশ্চিত হই, তিনি মারা গেছেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে তাঁর লাশ রাজশাহীতে নিয়ে যাব।’

আব্দুল হামিদের ভাই তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা মামলা করব না। মামলা করে তো ভাইকে আর ফেরত পাব না।’ তাঁর দুই ছেলে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বড় ছেলে দশম শ্রেণিতে পড়ে, আর ছোট ছেলের বয়স সাত বছর। ‘ওরা এখন বাবাহারা হলো’—এ কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তসলিম উদ্দিন।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক মাজেদুর রহমান বলেন, আব্দুল হামিদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত