Ajker Patrika

গরু কাটার ‘খাইট্টায়’ ১৫ টুকরা করে ডোবায় লুকিয়ে রাখা হয় কাস্টমস কর্মীর লাশ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ২০: ১৫
গরু কাটার ‘খাইট্টায়’ ১৫ টুকরা করে ডোবায় লুকিয়ে রাখা হয় কাস্টমস কর্মীর লাশ
উদ্ধার করা হত্যার আলামত ও গ্রেপ্তার দুই আসামি। ছবি: আজকের পত্রিকা

ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন কাস্টমস কর্মী রাকিব রায়হান। রাতে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাঁকে পান করান বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু। ঘুমিয়ে পড়লে রাকিবকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে লাশ টয়লেটে নিয়ে গরুর মাংস কাটার ‘খাইট্টায়’ (গাছের গুঁড়ি) রেখে ১৫ টুকরা করা হয়। এরপর টুকরাগুলো তিনটি ব্যাগে ভরে পরিত্যক্ত ডোবার ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কাস্টমস কর্মী রাকিব রায়হান হত্যার বর্ণনায় এসব তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে গতকাল বুধবার হত্যাকাণ্ডে জড়িত রাজু মির্জা ও তাঁর সহযোগী সোহেল মির্জা ওরফে জিতুলকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার রাজু মির্জা (২২) ফুলবাড়িয়া উপজেলার সোয়াইতপুর গ্রামের ফজলুল হক মির্জার ছেলে এবং জিতুল (২০) একই উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের মো. সুরুজ মির্জার ছেলে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা একটি চাপাতি, একটি লোহার রড, তিনটি ছুরি, কাঠের খাইট্টা ও রক্তমাখা পাঞ্জাবি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, নিহত রাকিব রায়হান (৪০) ফুলবাড়িয়ার সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। তিনি ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২৪ জুলাই তিনি ছুটিতে বাড়ি এসে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও তাঁর কোনো সন্ধান পায়নি। ২৭ জুলাই তাঁর বড় ভাই নুরুল ইসলাম থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরে ২ আগস্ট উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের পরিত্যক্ত খাল থেকে তিনটি ব্যাগে রাকিবের লাশের ১৫ টুকরা উদ্ধার করে পুলিশ। ৪ আগস্ট নুরুল ইসলাম হত্যা মামলা করেন।

ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মামলার প্রধান আসামি রাজু মির্জা ৪ বছর ধরে রাকিব রায়হানের কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন। ২৭ জুলাই রাকিব বাড়িতে এলে রাতে তাঁকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পান করান রাজু। রাকিব ঘুমিয়ে পড়লে তাঁকে রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে গুম করার জন্য অপর আসামি জিতুলের সহযোগিতায় লাশ টয়লেটে নিয়ে ‘খাইট্টায়’ রেখে ১৫ টুকরা করে ব্যাগে ভরে বাড়ির পাশে ডোবায় ফেলে রাখা হয়।

আব্দুল্লাহ আল মামুন আরও বলেন, হত্যার পর ঘটনাস্থলের আলামত নষ্ট ও অপরাধ গোপন করতে বিভিন্ন পরিষ্কারক সামগ্রী ব্যবহার করে ঘর ও বাথরুম পরিষ্কার করেন আসামিরা। এরপর তারা রাকিবের ঘর থেকে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে নেন। এ ছাড়া রাকিবের মোবাইল ও ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে টাকাও উত্তোলন করা হয়। মামলার তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য আলামত যাচাই-বাছাই অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত