Ajker Patrika

সালমান শাহ হত্যা: খলনায়ক ডন ৫ দিনের রিমান্ডে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
সালমান শাহ হত্যা: খলনায়ক ডন ৫ দিনের রিমান্ডে
ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা রিমান্ডে নেওয়ার এই নির্দেশ দেন।

রিমান্ডের আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ডনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত ৫ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রমনা মডেল থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই শাহ আলম বিষয়টি জানান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান গত ২০ আগস্ট ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। পরে আদালত শুনানির তারিখ আজ ধার্য করেন।

৯ আগস্ট এই মামলায় ডনকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে ওই দিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে গ্রেপ্তার করে। খবর পেয়ে সিআইডির একটি টিম এসে ডনকে নিয়ে যায়। সিআইডি সালমান শাহ হত্যা মামলা তদন্ত করছে।

সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে গত বছরের ২১ অক্টোবর রমনা থানায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলাটি করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলার এজাহারে ১১ জনকে আসামি করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামিও করা হয় কয়েকজনকে।

যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁরা হলেন সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক আশরাফুল হক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবি, আব্দুস সাত্তার, সাজু ও রিজভি আহমেদ ফারহাদ।

এর আগে, গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) সালমান শাহর ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ মামলাকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

রমনা থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পর গত বছরের ২৭ অক্টোবর সামিরা হক ও খলনায়ক আশরাফুল হক ওরফে ডনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

রিমান্ডের আবেদনে যা বলা হয়েছে

তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেছেন, তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেছেন, মামলার ঘটনাটি অত্যন্ত আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর এবং হত্যার শিকার সালমান শাহ জনপ্রিয় চিত্রনায়ক। তাঁর মা ঘটনার পর থেকে অর্থাৎ, ১৯৯৬ সাল থেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৎপর রয়েছেন। এই অবস্থায় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ডনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবেদনে ডনকে অত্যন্ত সুকৌশলী ও ধূর্ত প্রকৃতির লোক হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, তাঁকে পুলিশের হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এ ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগী আসামিদের অবস্থান নির্ণয় করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। রহস্য উদ্‌ঘাটন ও নিবিড় তদন্তের স্বার্থে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ডন বিভিন্ন কৌশলে, কী কারণে ও কার ইন্ধনে বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছিলেন, এ-সংক্রান্ত তথ্যসহ মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্যও আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত