
খুলনা জেলা প্রশাসন ভবনে অবস্থিত ভূমি অফিসে জমিসংক্রান্ত কাজে এসেছিলেন আব্দুল হামিদ। কিন্তু জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে খুলনা কর্মচারীদের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচির কারণে তিনি সেবা না পেয়েই ফিরে যান।
বটিয়াঘাটা থেকে আসা আব্দুল হামিদই নন, জেলার কয়রা থেকে আসা সুখেন, পাইকগাছার বাবুল হোসেনসহ অনেকেই আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে কাজে আসা মানুষগুলো সেবা না পেয়েই ফিরে গেছেন।
এ ছাড়া বিচার বিভাগের খুলনা অঞ্চলের কর্মচারীদের আন্দোলনের কারণে বিচারিক কাজও ব্যাহত হয়েছে। বিচারিক অফিশিয়াল কাজ আজ দেরিতে শুরু হয়েছে।
অফিসের কাজ বন্ধ রেখে এ ধরনের কর্মসূচি অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন খুলনার নাগরিক নেতারা। তা ছাড়া যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত কর্ম হইতে অনুপস্থিত থাকা সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর লঙ্ঘন।
জানা গেছে, পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও বিচার বিভাগ খুলনা কর্মচারীদের উদ্যোগে এই সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ১০টা থেকে বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে এ কর্মসূচি চলে। খুলনা জেলা তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী কল্যাণ ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সবুর শেখ এতে সভাপতিত্ব করেন।
উপস্থিত ছিলেন খুলনার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম, খান আনিসুজ্জামান, আজিজুর রহমান, আকরাম হোসেন রফিকুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির, সার্ভেয়ার মোকলেছুর রহমান, বিচার বিভাগ খুলনা কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাকসুদ রহমান, জেলা জজকোর্টের নাজির মোহাম্মদ জাকারিয়া, বেঞ্চ সহকারী আবু সাঈদসহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখার ও জজকোর্টের কর্মচারীরা।
বক্তারা আরও বলেন, ‘নবম পে-স্কেল নিয়ে জ্বালানি উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা আজ দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ পালন করলাম। আগামীকাল শুক্রবার কেন্দ্রীয় কর্মসূচি শেষে যে কর্মসূচি আসবে, আমরা সেই কর্মসূচি পালন করব।’
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা মিছিলসহ জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে কেডিএ ঘোষ রোড জেলা ক্রীড়া সংস্থার সামনে দিয়ে কোর্ট মোড়, জজকোর্টের প্রধান ফটক, জজকোর্ট সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিএম কোর্ট হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শেষ হয়।
জনভোগান্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে খুলনা জেলা তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী কল্যাণ ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সবুর শেখ বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি পূর্বনির্ধারিত। কাজেই এক ঘণ্টার কর্মসূচিতে কোনো ক্ষতি হয়নি। কর্মসূচি শেষ করে আমরা সব কাজ করেছি।’
অফিসের কাজ বন্ধ রেখে এ ধরনের কর্মসূচি অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার। তিনি বলেন, সরকারি অফিসে কাজে অবহেলা রয়েছে। ঘুষ, দুর্নীতিতে তাঁরা আসক্ত। এমনিতেই মানুষ সঠিকভাবে সেবা পায় না। তাঁদের কাজ সন্তোষজনক নয়। এরপর তাঁরা অযৌক্তিক আন্দোলন করে সেবা বন্ধ করে দেন। তাঁরা যে বেতন পান, তা তাঁদের জন্য যথেষ্ট।
বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘এখন রাজস্ব আদায়ের সময়, নির্বাচনের সময়। সাধারণ মানুষ সেবা না পেয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সেবা না পেয়ে ফিরে গেছেন। সেবা ফেলে আন্দোলন যৌক্তিক নয়, বরং আন্দোলনের ভাষা অন্য রকম হতে পারত।’
জানতে চাইলে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও পাট ও পাটশিল্প রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ হোসেন বলেন, ‘সরকার সম্প্রতি যে পে-স্কেল ঘোষণা করেছে, সেটি বাস্তবায়ন করতে যে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে—তা জোগাড় করতে জনগণের ওপর স্টিমরোলার চালাতে হবে। মূল্যস্ফিতি কয়েক গুণ বাড়বে। সরকারি কর্মচারীরা নিজেদের স্বার্থ নিয়ে আন্দোলন করছে, তারা জনগণের কথা ভাবছে না। সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর বৈষম্য দূর করার কথা বলে সরকার নিজেই বৈষম্য করছে।’
তিনি আরও বলেন, যে পে-স্কেল বৃদ্ধি করা হয়েছে তা অনেক বেশি। শ্রমিকদের মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন হয়নি। শ্রমিকদের মজুরি বাড়েনি। এটি একধরনের বৈষম্য। সরকারি সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে অন্যায় করছে সরকার।

গত এক দশকে এমন কোনো অনিয়ম নেই, কুমিল্লা ডায়াবেটিক সমিতি ও তাদের পরিচালিত ডায়াবেটিক হাসপাতালে ঘটেনি। সমিতির জমি কেনাবেচা, সংস্কারকাজ, সফটওয়্যার প্রকল্প, ফার্মেসি পরিচালনা এবং কর ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে বার্ষিক প্রতিবেদনে।
২ ঘণ্টা আগে
র্যাম্প না থাকা আর লিফট বিকলের কারণে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। হাসপাতালের দুটি লিফটের একটি ১০-১২ দিন ধরে অকেজো। অন্যটি সচল থাকলেও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে রোগীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
২ ঘণ্টা আগে
উত্তরের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা তিস্তা নদীকে পুঁজি করা হচ্ছে এবারের নির্বাচনেও। বিগত নির্বাচনগুলোর মতোই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার প্রতিশ্রুতির শীর্ষে তিস্তা মহাপরিকল্পনা।
২ ঘণ্টা আগে
গাদাগাদি করে শ্রেণিকক্ষে বসা, ধুলাবালুতে কাপড় নষ্ট আর বৃষ্টি এলে ভিজে নষ্ট হয় বই-খাতাসহ বিভিন্ন কাগজপত্র। এমন পরিবেশে ৯ বছর ধরে পাঠদান চলছে বান্দরবানের থানচি উপজেলার টুকটংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন ভবন নির্মাণকাজ শুরু হলেও, তা এখনো শেষ হয়নি।
৩ ঘণ্টা আগে