Ajker Patrika

সরকারি কর্মচারীরা কাজ ফেলে সমাবেশে, হয়রানির শিকার সেবাপ্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা 
আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ৩৬
সরকারি কর্মচারীরা কাজ ফেলে সমাবেশে, হয়রানির শিকার সেবাপ্রার্থীরা
খুলনায় সরকারি কর্মচারীদের সমাবেশ। ছবি: আজকের পত্রিকা

খুলনা জেলা প্রশাসন ভবনে অবস্থিত ভূমি অফিসে জমিসংক্রান্ত কাজে এসেছিলেন আব্দুল হামিদ। কিন্তু জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে খুলনা কর্মচারীদের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচির কারণে তিনি সেবা না পেয়েই ফিরে যান।

বটিয়াঘাটা থেকে আসা আব্দুল হামিদই নন, জেলার কয়রা থেকে আসা সুখেন, পাইকগাছার বাবুল হোসেনসহ অনেকেই আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে কাজে আসা মানুষগুলো সেবা না পেয়েই ফিরে গেছেন।

এ ছাড়া বিচার বিভাগের খুলনা অঞ্চলের কর্মচারীদের আন্দোলনের কারণে বিচারিক কাজও ব্যাহত হয়েছে। বিচারিক অফিশিয়াল কাজ আজ দেরিতে শুরু হয়েছে।

অফিসের কাজ বন্ধ রেখে এ ধরনের কর্মসূচি অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন খুলনার নাগরিক নেতারা। তা ছাড়া যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত কর্ম হইতে অনুপস্থিত থাকা সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর লঙ্ঘন।

জানা গেছে, পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও বিচার বিভাগ খুলনা কর্মচারীদের উদ্যোগে এই সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ১০টা থেকে বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে এ কর্মসূচি চলে। খুলনা জেলা তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী কল্যাণ ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সবুর শেখ এতে সভাপতিত্ব করেন।

উপস্থিত ছিলেন খুলনার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম, খান আনিসুজ্জামান, আজিজুর রহমান, আকরাম হোসেন রফিকুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির, সার্ভেয়ার মোকলেছুর রহমান, বিচার বিভাগ খুলনা কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাকসুদ রহমান, জেলা জজকোর্টের নাজির মোহাম্মদ জাকারিয়া, বেঞ্চ সহকারী আবু সাঈদসহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখার ও জজকোর্টের কর্মচারীরা।

বক্তারা আরও বলেন, ‘নবম পে-স্কেল নিয়ে জ্বালানি উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা আজ দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ পালন করলাম। আগামীকাল শুক্রবার কেন্দ্রীয় কর্মসূচি শেষে যে কর্মসূচি আসবে, আমরা সেই কর্মসূচি পালন করব।’

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা মিছিলসহ জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে কেডিএ ঘোষ রোড জেলা ক্রীড়া সংস্থার সামনে দিয়ে কোর্ট মোড়, জজকোর্টের প্রধান ফটক, জজকোর্ট সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিএম কোর্ট হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শেষ হয়।

জনভোগান্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে খুলনা জেলা তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী কল্যাণ ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সবুর শেখ বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি পূর্বনির্ধারিত। কাজেই এক ঘণ্টার কর্মসূচিতে কোনো ক্ষতি হয়নি। কর্মসূচি শেষ করে আমরা সব কাজ করেছি।’

অফিসের কাজ বন্ধ রেখে এ ধরনের কর্মসূচি অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার। তিনি বলেন, সরকারি অফিসে কাজে অবহেলা রয়েছে। ঘুষ, দুর্নীতিতে তাঁরা আসক্ত। এমনিতেই মানুষ সঠিকভাবে সেবা পায় না। তাঁদের কাজ সন্তোষজনক নয়। এরপর তাঁরা অযৌক্তিক আন্দোলন করে সেবা বন্ধ করে দেন। তাঁরা যে বেতন পান, তা তাঁদের জন্য যথেষ্ট।

বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘এখন রাজস্ব আদায়ের সময়, নির্বাচনের সময়। সাধারণ মানুষ সেবা না পেয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সেবা না পেয়ে ফিরে গেছেন। সেবা ফেলে আন্দোলন যৌক্তিক নয়, বরং আন্দোলনের ভাষা অন্য রকম হতে পারত।’

জানতে চাইলে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও পাট ও পাটশিল্প রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ হোসেন বলেন, ‘সরকার সম্প্রতি যে পে-স্কেল ঘোষণা করেছে, সেটি বাস্তবায়ন করতে যে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে—তা জোগাড় করতে জনগণের ওপর স্টিমরোলার চালাতে হবে। মূল্যস্ফিতি কয়েক গুণ বাড়বে। সরকারি কর্মচারীরা নিজেদের স্বার্থ নিয়ে আন্দোলন করছে, তারা জনগণের কথা ভাবছে না। সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর বৈষম্য দূর করার কথা বলে সরকার নিজেই বৈষম্য করছে।’

তিনি আরও বলেন, যে পে-স্কেল বৃদ্ধি করা হয়েছে তা অনেক বেশি। শ্রমিকদের মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন হয়নি। শ্রমিকদের মজুরি বাড়েনি। এটি একধরনের বৈষম্য। সরকারি সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে অন্যায় করছে সরকার।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

প্রয়োজনে ইরান থেকে নিজেদের বিজ্ঞানীদের সরিয়ে নিতে প্রস্তুত রাশিয়া

স্কুলছাত্রকে হত্যা: ফেনীতে ছাত্রদল কর্মীসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

ইরানে মার্কিন হামলার ৭ সম্ভাব্য পরিণতি

তেহরান পুড়লে জ্বলবে রিয়াদও, ইরানের অস্তিত্বের লড়াই যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্যনিয়ন্তা

গণভোটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট চাওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ: ইসি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত