Ajker Patrika

নাটোর-১: বিএনপির ঘাঁটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জামায়াতের চ্যালেঞ্জ

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১: ১২
নাটোর-১: বিএনপির ঘাঁটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জামায়াতের চ্যালেঞ্জ
ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও অ্যাডভোকেট তাইফুল ইসলাম টিপু। ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনটি জেলার সবচেয়ে আলোচিত আসনে পরিণত হয়েছে। তফসিল ঘোষণার আগ থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে এখানে। পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও নতুন সমীকরণে এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে।

লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনের আয়তন ৪৬৬ বর্গকিলোমিটার। ১৫টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা রয়েছে। মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৯৫, নারী ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৭৯ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন প্রার্থী।

নাটোর-১ বরাবরই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকায় বিএনপির জন্য একক সুবিধার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহদপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাইফুল ইসলাম টিপু স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় পাল্টে গেছে চিত্র। ফলে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে।

বিএনপির প্রার্থী সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মরহুম ফজলুর রহমান পটলের কন্যা ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। তিনি বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ও টক শো ব্যক্তিত্ব। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য এবং লালপুর উপজেলা আমির মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন বিএনপির বিদ্রোহী নেতা অ্যাডভোকেট তাইফুল ইসলাম টিপু।

স্থানীয় রাজনীতিবিদদের মতে, তিন প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। জামায়াত দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে মাঠে কাজ করছে। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী টিপু বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের জেল-জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দিয়ে তিনি ‘সফট কর্নার’ তৈরির চেষ্টা করছেন। তাঁর দাবি, কলস প্রতীকের বিজয়ের মাধ্যমে এলাকায় বিএনপির পুনর্জাগরণ ঘটবে। জয়ী হলে পুনরায় বিএনপিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। ২৭ নভেম্বর তিনি ২৩ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেন এবং লালপুর-বাগাতিপাড়াকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।

স্থানীয় বিশ্লেষকদের ধারণা, এবার এক লাখের কম ভোট পেয়েও কেউ নির্বাচিত হতে পারেন। ফল নির্ধারণে আওয়ামী লীগের ভোটাররা ‘এক্স ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠতে পারেন। তাঁদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি ও পছন্দের ওপর অনেকটা নির্ভর করবে ফলাফল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ধানের শীষ প্রতীকের কারণে পুতুল দলীয় ভোটে এগিয়ে থাকতে পারেন। উপজেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির অধিকাংশ নেতা তাঁর পক্ষে। তবে অতীতে বহিষ্কৃত ও বঞ্চিত নেতাদের বড় অংশ ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন টিপুর পক্ষে।

পুতুলের মনোনয়নের বিরোধিতা করে তাঁর বড় ভাই ডা. মোহাম্মদ ইয়াসির আরশাদ রাজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। প্রতীক বরাদ্দের পর তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে পুতুলকে সমর্থন জানান। তবে তাঁর অনুসারীদের একটি অংশ ইতিমধ্যে টিপুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে ধানের শীষের একচেটিয়া বিজয় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

জামায়াতও দলীয় শৃঙ্খলা ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে পুঁজি করে মাঠে সক্রিয় রয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, তাঁদের একনিষ্ঠ সমর্থক প্রায় ৩০ হাজার। পাশাপাশি বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ভোটের একটি অংশ পাওয়ার আশাও করছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে নাটোর-১ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলছে।

চূড়ান্ত ফল জানতে অপেক্ষা করতে হবে আগামীকাল ভোট গণনা পর্যন্ত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

‘ক্রিকেট ডিপ্লোমেসিতে বাংলাদেশ গোল্ড মেডেল পেয়েছে’

নির্বাচনে টংয়ের দোকানে বসাসহ যেসব কাজ করতে পারবে না পুলিশ

নভোএয়ারে কক্সবাজার ভ্রমণ প্যাকেজ, পরিশোধ করা যাবে কিস্তিতে

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ

পদ হারানোর পথে স্টারমার, প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী পেতে পারে যুক্তরাজ্য

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত