Ajker Patrika

পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা

প্রতিবেশী সোহেলের দায় স্বীকার, লাশ লুকাতে বিচ্ছিন্ন করা হয় মাথা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২০ মে ২০২৬, ১৯: ১৯
প্রতিবেশী সোহেলের দায় স্বীকার, লাশ লুকাতে বিচ্ছিন্ন করা হয় মাথা
গ্রেপ্তার সোহেল রানা। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় আট বছরের শিশুকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার সোহেল রানা (৩৪) ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি দেওয়ার পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানো হয়।

আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের খাস কামরায় জবানবন্দি দেন তিনি।

দুপুরের দিকে সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রীকে আদালতে হাজির করে পল্লবী থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন করেন ও স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। পরে সোহেল রানার জবানবন্দি নেন আদালত।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, সোহেল রানা শিশুটির লাশ গোপন করতে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন বলে জানিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পল্লবীতে নিহত শিশুটির প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে প্রথমে মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। কিছুক্ষণ পর রঙের বালতি থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। শিশুটি দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

উদ্ধারের সময় সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার দাঁড়ানো ছিলেন। তিনি জানান, তাঁর স্বামী সোহেল রানা শিশুটিকে বাথরুমে আটকে ধর্ষণ করার পর মেরে ফেলেন। পরে লাশ গায়েব করার জন্য ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে ফেলেন। কাঁধ থেকে দুই হাত বিচ্ছিন্ন করেন।

এরপর শিশুটির বাবা পুলিশকে খবর দেন এবং স্বপ্না আক্তারকে আটক করেন। পরে অভিযান চালিয়ে সোহেলকে আটক করে পুলিশ।

আজ বুধবার ভোরে নিহত শিশুর বাবা পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, যে বাসা থেকে তাঁর মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তার পাশের বাসায় থাকেন তাঁরা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় তাঁর মেয়ে বাসা থেকে বের হলে তাকে পাশের বাসায় নিয়ে আটকে রাখে এবং ধর্ষণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

আদালতে ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ

দুপুরের পর সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালত চত্বরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁর শাস্তি দাবি করেন।

সোহেল রানাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়। আদালতে আনার সময় অনেকে উচ্চ স্বরে স্লোগান দিয়ে তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি ‘ফাঁসির’ দাবি জানান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত