Ajker Patrika

মাগুরার শ্রীপুর: খুঁটিতে আটকে সড়ক সংস্কার

  • সড়কের মধ্যে পড়া ১২টি বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণের জন্য টাকা পরিশোধ হলেও খুঁটি সরেনি।
  • খুঁটির সঙ্গে রয়েছে জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত ডজনখানেক মামলা।
  • প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালে শেষ হলে পুনরায় বাড়িয়েও কাজ হয়েছে ৬৫ শতাংশ।
মোহাম্মদ উজ্জ্বল, মহম্মদপুর (মাগুরা) 
মাগুরার শ্রীপুর: খুঁটিতে আটকে সড়ক সংস্কার
সড়কের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যুতের খুঁটি। অপসারণ না করায় বন্ধ সংস্কারকাজ। সম্প্রতি মাগুরার শ্রীপুরে। ছবি: আজকের পত্রিকা

সড়কের মাঝে থাকা ১২টি বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ না করায় মাগুরার শ্রীপুর বাইপাস সড়ক প্রশস্ত ও উন্নয়নকাজ থমকে আছে। প্রকল্পের আওতায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে টাকা পরিশোধ করার পরও খুঁটিগুলো অপসারণ করেনি কর্তৃপক্ষ। এর সঙ্গে রয়েছে জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত মামলা। এতে কয়েক মাস ধরে সড়ক সংস্কারকাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের যানবাহনে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জানা গেছে, মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী হয়ে নিজনান্দুয়ালী মাঠবাড়ি পর্যন্ত ২০২০ সালের আগস্টের শুরুতে ২৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দে ‘মাগুরা-শ্রীপুর বাঁক সরলীকরণসহ সম্প্রসারণ প্রকল্পের’ কাজ শুরু হয়। এর আওতায় প্রায় ৮ কিলোমিটার বাইপাস সড়ক ও ২০২ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণকাজ করার কথা রয়েছে। কিন্তু পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি কাজ। ২০২৪ সালের জুনে কাজ শেষ করতে না পেরে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের ৬৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু এই কাজ বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সড়কের মাঝখানে পড়া বিদ্যুতের খুঁটি।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রীপুর বাইপাস সড়কের বিভিন্ন অংশে রাস্তার ঠিক মাঝখানেই দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যুতের খুঁটি। কিছু জায়গায় সড়কের আংশিক কাজ শেষ হলেও খুঁটি না সরানোয় পুরোপুরি কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সড়ক প্রশস্তকরণের স্বার্থে খুঁটি স্থানান্তরের জন্য গত জুনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধ করা হয়। এর মধ্যে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডকে (ওজোপাডিকো) প্রায় ১৫ লাখ টাকা এবং মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে প্রায় ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মো. মহিদুল ইসলাম জানান, ওই সড়কে তাঁদের অধীনে বর্তমানে কোনো বিদ্যুতের খুঁটি নেই। যে ১০টি ছিল, তা অপসারণ করা হয়েছে। এ জন্য ৪ লাখ ২৩ হাজার ৬৮৫ টাকা ব্যয় হয়েছে।

ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ঘোষ জানান, বিদ্যুতের খুঁটিগুলো অপসারণের জন্য প্রক্রিয়া চলছে। তবে এখনো দরপত্র আহ্বান করা সম্ভব হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র আহ্বানের পরই খুঁটি অপসারণের মূল কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

এদিকে সড়ক প্রশস্ত ও উন্নয়নকাজ নিয়ে জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত ডজনখানেক মামলা চলছে বলে জানিয়েছে মাগুরা সড়ক বিভাগ। কাজ শুরু হওয়ার পাঁচ বছরেও ৬০ শতাংশের বেশি জমি বুঝে পাওয়া যায়নি।

এই প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যশোরের মেসার্স শামীম চাকলাদার। জানা গেছে, যশোরের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন চাকলাদারের স্বজনেরা এই প্রতিষ্ঠানের মালিক।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক শাহাদত হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ছে। এতে আমাদের ক্ষতি হয়ে গেছে। সরকার জমি এখনো সব বুঝিয়ে দেয়নি। এখন বিপদে পড়ে আছি।’

জানা গেছে, মাগুরা শহরের যানজট কমানোর লক্ষ্যে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। সেই যানজট নিরসন তো দূরের কথা, সরকার পরিবর্তন, সময় বাড়ানো, প্রকল্পের কচ্ছপগতি—সব মিলিয়ে গোটা সড়কের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বেড়েছে জনসাধারণের দুর্ভোগ।

সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করেন স্থানীয় বাসিন্দা জান্নাত সুলতানা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সড়কের উন্নয়ন প্রকল্পের সব প্রস্তুতি শেষ, অথচ রাস্তার মাঝখানে খুঁটির জন্য কাজ আটকে আছে। এই রাস্তা দিয়ে রাতে চলাচল করাটা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ।’

মাগুরা সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী শিমুল হোসাইন বলেন, যাঁরা জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত মামলা করেছেন, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। যেন দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করে কাজ শুরু করা যায়।

মাগুরা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার হামিদ বলেন, ‘সড়ক থেকে বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণের জন্য গত জুনেই ওজোপাডিকোকে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু এত দিন পার হলেও খুঁটি অপসারণ হয়নি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত