Ajker Patrika

জুলাই স্মরণে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা এনডিএফের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
জুলাই স্মরণে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা এনডিএফের
এনডিএফ । সংগৃহীত

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের স্মরণে ৩৬ দিনব্যাপী এই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)। চিকিৎসকদের এই সংগঠনটি এ কর্মসূচির স্লোগান নির্ধারণ করেছে ‘জুলাইয়ের আত্মত্যাগ থেকে আগামীর অঙ্গীকার’।

আজ বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এনডিএফ নেতারা।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, আহতদের চিকিৎসা বন্ধ রাখার নির্দেশ থাকলেও চিকিৎসকদের কৌশলী সেবায় বহু প্রাণ রক্ষা সম্ভব হয়েছে। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক ও সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অবদানেই জুলাই আন্দোলন সফলতার মুখ দেখেছিল। সেই আন্দোলনের দুই বছর পূর্তিতে সংগঠনটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও বৈষম্যবিরোধী চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ‘জুলাই অভ্যুত্থান: ইনসাফ, মেধা ও রাষ্ট্র বিনির্মাণ/রাষ্ট্র সংস্কার’ প্রতিপাদ্যে ৩৬ দিনের জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের অফিস সম্পাদক ডা. একেএম জিয়াউল হক জানান, জুলাই উদ্‌যাপন উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, গবেষণা কার্যক্রম, স্মৃতিচারণ, চিকিৎসাবিষয়ক সম্মেলন, আলোকচিত্র ও তথ্যভিত্তিক প্রদর্শনী, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিতর্ক, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ‘এনডিএফ ৩৬ জুলাই অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হবে। আগামী ৯ আগস্ট রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, শাহবাগে দিনব্যাপী সমাপনী আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই আন্দোলনে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থী, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, অ্যাম্বুলেন্স কর্মীসহ স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের আত্মত্যাগের পাশাপাশি দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ভূমিকাও তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবার ও আহতদের সম্মাননা, নতুন প্রজন্মের মধ্যে ন্যায়বিচার, মেধা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনা বিকাশ এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

এনডিএফের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. আমিনুল হক খান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যকার বৈষম্যের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার বা ইনসাফ। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানও একই চেতনার ধারাবাহিকতা বহন করে। একাত্তরের চেতনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রয়োজন হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংগঠনের জয়েন্ট সেক্রেটারি ডা. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে কোনো জাতি এগোতে পারে না। তাই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং এনডিএফের ভূমিকা যথাযথভাবে তুলে ধরতেই মাসব্যাপী এই আয়োজন করা হয়েছে।

সংগঠনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ডা. নুরুদ্দিন তালুকদার দাবি করেন, সে সময় হাসপাতালগুলোতে আহতদের চিকিৎসা না দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। এ পরিস্থিতিতে অনেক রোগীকে ‘সড়ক দুর্ঘটনায় আহত’ বলে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে এনডিএফের সিনিয়র সহসভাপতি ডা. একেএম ওয়ালিউল্লাহ বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় সাংবাদিকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তথ্য প্রকাশ ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। একইভাবে এনডিএফের চিকিৎসকরাও আহতদের সর্বাত্মক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সংগঠনের উদ্যোগে প্রায় ৮৪ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

ওয়ালিউল্লাহ আরও বলেন, গণ–অভ্যুত্থানে গুরুতর আহতদের চিকিৎসায় চিকিৎসকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। সিডর, আইলা, রানা প্লাজা ধসসহ বিভিন্ন দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ধারাবাহিকতায় জুলাই আন্দোলনেও এনডিএফ চিকিৎসাসেবা দিয়েছে।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ডা. উসামা রাইয়ান অভিযোগ করে বলেন, যেসব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী জুলাই আন্দোলনের সময় আহতদের সেবা দিয়েছিলেন, বর্তমানে তাঁদের তালিকা করে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত