Ajker Patrika

কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ৪৪
কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার
কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে ময়মনসিংহ থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

আজ শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহ র‍্যাব-১৪-এর সদর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মীর ইশতিয়াক আমিন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর এলাকা থেকে রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আজ সকালে তাঁকে নেত্রকোনা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

রিপন মিয়া (৩৩) নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার অভিযোগ ও র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, সপ্তম শ্রেণির এক কিশোরীকে (১৫) কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন রিপন। গত ৩০ জুলাই রাতে ওই কিশোরীকে ‘জরুরি কথা আছে’ বলে মগড়া নদীর পাড়ে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে রাতেই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন। পর দিন সকাল থেকেই আত্মগোপনে চলে যান রিপন মিয়া।

এদিকে পলাতক রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় ‌র‍্যাব। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহের গৌরিপুর থেকে রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাবের একটি দল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত সোমবার রাতে স্থানীয় বিএনপির কার্যালয়ে সালিস বৈঠকে বসে স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ এলাকার লোকজন। বৈঠকে রিপন অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান। পরে তাঁকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে রিপনের বাড়িটি ভুক্তভোগীকে লিখে দিতে বলা হয়। পাশাপাশি রিপন মিয়াকে এলাকা ছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েলে চারদিকে হইচই শুরু হয়।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযোগ স্বীকার করে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছেন রিপন মিয়া। একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়—‘ভুল করলেও করছি, না করলেও করছি। আমি, আফনেরার লগে থাহন লাগব...! ভুল তো মানুষ করেই, আমি একটা ভুল কইরাইলছি।’ কথার একপর্যায়ে তিনি মাফ চাওয়ার জন্য একজন মাতব্বরের পায়ে ধরেন।

তবে ভিডিও প্রকাশের পর ওই দিন সকাল থেকেই আত্মগোপনে চলে যান কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত