Ajker Patrika

ইউএনওকে ‘আপা’ ডাকায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

সিলেট প্রতিনিধি
আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ০০: ০৪
ইউএনওকে ‘আপা’ ডাকায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
ওসমানীনগরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা। ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের ওসমানীনগরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশাকে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করে ক্ষমা চাওয়ার পর বনফুলের এক কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, ঈদুল আজহার আগে পার্শ্ববর্তী বালাগঞ্জ উপজেলার ইউএনও তাজপুর বাজারের বনফুল শোরুম থেকে মিষ্টি কেনেন। পরে বাসায় নিয়ে গিয়ে তিনি মিষ্টি পুরোনো বলে অভিযোগ করেন। বিষয়টি তিনি ওসমানীনগরের ইউএনওকে অবহিত করেন।

ঈদের পরদিন শুক্রবার বিকেলে ওসমানীনগরের ইউএনও সাধারণ ক্রেতা পরিচয়ে তাজপুর বাজারের বনফুল শোরুমে যান। সেখানে কর্মচারী মান্নানের কাছে মিষ্টির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ড্রাই মিষ্টিগুলো ঈদের আগের এবং সাধারণ মিষ্টিগুলো সেদিনের তৈরি।

এ সময় ইউএনও অভিযোগ করেন, তাঁর কাছে বাসি মিষ্টি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। মান্নান বিষয়টি নিয়ে ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলতে বললে তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং নিজের পরিচয় দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এতে ভয় পেয়ে মান্নান দোকান ছেড়ে চলে যান।

পরে শোরুমের ব্যবস্থাপক সুহেল বড়ুয়া ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং মান্নানকে ডেকে আনেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মান্নান ইউএনওর কাছে ক্ষমা চাইতে গিয়ে বলেন, ‘আপা, ভুল হয়েছে, আমাকে মাফ করে দেন।’ এর পরপরই তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ঘটনার পর বনফুল কর্তৃপক্ষ মান্নানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনার হস্তক্ষেপে তাঁর চাকরি পুনর্বহাল করা হলেও তাঁকে সিলেট নগরীর খাদিম বিসিক শিল্প এলাকায় বনফুলের কারখানায় বদলি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মান্নান বলেন, ‘আমি ৩২ বছর ধরে বনফুলে চাকরি করছি। কোনো খারাপ রেকর্ড নেই। একজন সাধারণ ক্রেতা ভেবে তথ্য দিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি তিনি ইউএনও। ম্যানেজারের পরামর্শে ক্ষমা চাইতে গিয়ে ‘‘আপা’’ বলেছিলাম। এরপর আমাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এটি আমার প্রতি অবিচার।’

বনফুলের তাজপুর শোরুমের ব্যবস্থাপক সুহেল বড়ুয়া জানান, কর্মচারী মান্নান ইউএনও ম্যাডামকে চিনতে পারেননি এবং যথাযথ গুরুত্ব দেননি। পরে তাঁকে ক্ষমা চাইতে বললে তিনি ‘আপা’ বলে সম্বোধন করেন। এরপর জরিমানা করা হয়।

এ প্রসঙ্গে বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, শুধু ‘আপা’ ডাকার কারণে কোনো ইউএনও জরিমানা করতে পারেন না। হয়তো ভোক্তা অধিকার বা অন্য কোনো অনিয়মের কারণে জরিমানা করা হয়েছে। বিষয়টি বিস্তারিত না জেনে মন্তব্য করা কঠিন।

বক্তব্য জানতে ইউএনও মুনমুন নাহার আশার সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। খোঁজ নিয়ে পরে বলতে হবে।’

সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আশরাফুর রহমানও জানান, তিনি এ বিষয়ে অবগত নন। ঘটনার কারণ ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানার পরই মন্তব্য করা সম্ভব হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত