Ajker Patrika

মাগুরায় শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা মামলা: রায় ঘিরে উৎকণ্ঠা, মৃত্যুদণ্ড বহালের দাবি

মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি 
আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ০২
মাগুরায় শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা মামলা: রায় ঘিরে উৎকণ্ঠা, মৃত্যুদণ্ড বহালের দাবি
সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন আছিয়ার মা আয়েশা আখতার । ছবি: আজকের পত্রিকা

মাগুরার বহুল আলোচিত আট বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়রা। একই সঙ্গে মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে দ্রুত তা কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তারা।

গত বছরের ৫ মার্চ রমজানের ছুটিতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায় শিশুটি। ওই রাতেই বোনের শ্বশুর হিটু শেখের বিরুদ্ধে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় উচ্চ আদালতে মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শিশুটির পরিবারসহ মাগুরার মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। তবে পরে মামলার পরবর্তী রায় ঘোষণার তারিখ ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

শিশুটির মা বলেন, ‘আমার মেয়েকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমি চাই হিটু শেখের ফাঁসির রায় বহাল থাকুক এবং দ্রুত তা কার্যকর করা হোক। সঠিক তদন্ত ও বিচার ছাড়া যদি সে ছাড়া পেয়ে যায়, তাহলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হবে। আমার মেয়ের আত্মার শান্তির জন্য আমি এই রায় কার্যকর দেখতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেড় বছর হয়ে গেলেও বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হয়নি। হিটু শেখের ছেলে সজীবকে এখনও আমাদের বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখি। এতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

শিশুটির নানী বলেন, ‘আমরা যদি সুষ্ঠু বিচারই না পাই, তাহলে আমার নাতনিকে ফিরিয়ে দিক। নাতনিকে তো আর ফিরে পাব না। তাই অন্তত আমরা ন্যায়বিচার চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা চন্দ্রনা মজুমদার বলেন, ‘একটি শিশুর সঙ্গে এমন নির্মম ঘটনা মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। এ মামলায় সঠিক বিচার নিশ্চিত হলে মানুষের আইনের প্রতি আস্থা আরও বাড়বে।’

এলাকাবাসীর দাবি, এই ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের ভাষ্য, অপরাধীরা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে গেলে সমাজে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, প্রধান আসামি হিটু শেখের পরিবারের দাবি, তিনি কোনো অপরাধ করেননি এবং ষড়যন্ত্র করে তাঁকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

হিটু শেখের স্ত্রী জায়েদা বেগম বলেন, ‘আইনের প্রতি আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। আমরা আশা করি, সবকিছু সঠিকভাবে তদন্ত ও বিচার-বিশ্লেষণ করেই আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।’

মামলাটির পরবর্তী রায় ঘোষণার তারিখ ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। রায় ঘোষণায় বিলম্ব হওয়ায় শিশুটির পরিবার ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত