Ajker Patrika

বিদ্যালয়ে ছাত্রী ও যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
বিদ্যালয়ে ছাত্রী ও যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা
কাশিয়ানী উপজেলার একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে এক স্কুলছাত্রী ও এক যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওই ছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে দাবি তার পরিবারের।

গতকাল শুক্রবার রাতে নির্যাতনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী (১৩)।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রকাশ্যে এমন ঘটনার তিন দিন পার হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার ওই ছাত্রী এবং যুবককে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন বলে দাবি করেন কয়েকজন। পরদিন মঙ্গলবার ছাত্রী ও যুবককে ডেকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি দেবদারুগাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে তাদের একসঙ্গে বেঁধে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

এ সময় কিছু লোক পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ওই ছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে স্থানীয় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা নয়ন গোলদার বলেন, ‘ওই ছাত্রী ও যুবককে আমার বাড়ির ওপর দিয়ে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল এলাকার যুবকেরা। তখন আমি দুজনকে স্কুলে নিয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দেই। তবে গাছের সঙ্গে বেঁধে যারা নির্যাতন করেছে তারা ঠিক কাজ করেনি।’

ঘটনার দিন বিদ্যালয়ে ছিলেন না দাবি করে প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিও ঢাকায় ছিলেন। তিনি ফিরে এলে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ের সভাপতি স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা সাগর মজুমদার বলেন, ‘যারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তারা অত্যন্ত গর্হিত কাজ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে সঠিক বিচার করা হবে।’

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। পেলে তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত