Ajker Patrika

ব্রহ্মপুত্র নদী পারাপার: ৫ গ্রামের মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো, দুর্ভোগ

  • সোনারগাঁয়ের পঞ্চমীঘাট বাজারের পাশে স্থায়ী সেতু চান স্থানীয়রা
  • বর্ষায় সাঁকো তলিয়ে গেলে নদ পারাপারের একমাত্র অবলম্বন হয় নৌকা
শেখ-ফরিদ, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)
ব্রহ্মপুত্র নদী পারাপার: ৫ গ্রামের মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো, দুর্ভোগ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পাঁচ গ্রামের মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো। ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন ব্রহ্মপুত্র নদ পার হচ্ছেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি পঞ্চমীঘাট বাজারের পাশে। ছবি: আজকের পত্রিকা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পাঁচ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। তিন যুগের বেশি সময় ধরে ব্রহ্মপুত্র নদী পারাপারে তাদের একমাত্র ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো। এ অবস্থায় সোনারগাঁয়ের পঞ্চমীঘাট বাজারের পাশে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি স্থায়ী সেতু চান স্থানীয়রা।

জানা গেছে, সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের পঞ্চমীঘাট গ্রাম এবং সনমান্দী ইউনিয়নের কুমারচর গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। ঝুঁকিপূর্ণ একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে আশপাশের কুমারচর, জোয়ারদী, দৌলরদী, মুছারচরসহ পাঁচ থেকে সাত গ্রামের মানুষ পারাপার হয়। এলাকাবাসী প্রতিবছর খরা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। আবার বর্ষা মৌসুমে তা পানিতে তলিয়ে যায়। তখন নদ পারাপারের একমাত্র অবলম্বন হয় নৌকা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা দিয়ে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রী, অন্তঃসত্ত্বা, অসুস্থ রোগীসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষ নদী পারাপার হয়।

কুমারচর গ্রামের বাসিন্দা শামসুল আলম জানান, বাজারের সদাই, দোকানির মাল ও কৃষিপণ্য পারাপারে ভোগান্তি হয়। ফসলের বোঝা নিয়ে অতিকষ্টে সাঁকোটি পার হন। গত ৫০ বছরে সাঁকোটি পারাপার হতে গিয়ে কয়েক শ লোক আহত হয়েছে। কেউ কেউ পঙ্গু হয়ে গেছেন।

ইয়াকুব আলীর নামের স্থানীয় একজন বলেন, ‘পঞ্চমীঘাটে সেতু নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন এলাকাবাসী। তবে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসন কথা দিলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি।’

ষষ্ট শ্রেণির ছাত্র নয়ন ইসলাম বলে, ‘সাইকেল কাঁধে করে স্কুলে যেতে হয়। খুব ভয় লাগে কখন যে সাঁকো থেকে পড়ে যাই। নদে একটি সেতু হলে আমার মতো অনেক ছাত্র-ছাত্রীর ভোগান্তির অবসান হবে।’

কলেজশিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে নৌকা ডুবে সুমাইয়া নামের এক স্কুলছাত্রী পানিতে ডুবে মারা গেছে। আশা করি, সরকার দ্রুত এখানে সেতু নির্মাণ করে প্রায় ২০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করবেন।’

সোনারগাঁ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আলমগীর হোসেন চৌধূরী বলেন, ‘আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় সেতু নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আশা করি, দ্রুত সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত