Ajker Patrika

হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল গ্রেপ্তার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মিরপুরে গুলি করে এক শিক্ষার্থীর চোখ চিরতরে নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. হামিদুল আলমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এই নির্দেশ দেন।

হামিদুল আলমকে আজ কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো.আশিকুজ্জামান গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন।

ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত পিপি মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই মিরপুর-১০ গোলচত্বর এলাকার শাহ আলী প্লাজার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলছিল। বেলা ২টার দিকে সেখানে ১৪ দলীয় জোটের একটি সমাবেশ হয়। এরপর বেলা আড়াইটার দিকে তৎকালীন সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের নির্দেশে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে বিপথগামী কিছু পুলিশ সদস্যও অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের ওপর দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিয়ে হামলা চালানো হয় এবং সরাসরি গুলি ছোড়া হয়। এতে সিয়াম ব্যাপারী নামের এক শিক্ষার্থীর ডান চোখে গুলি লাগে। তার ডান চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা শেষে সিয়াম কিছুটা সুস্থ হয়ে ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি মিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান নস্যাৎ করার হীন উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা হামিদুল আলম। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অন্যান্য আসামির পাশাপাশি তাঁর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উসকানি, নির্দেশ ও অর্থ জোগানের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর এই নিষ্ঠুর দমনপীড়ন চালানো হয়। এ কারণে মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।

পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা হামিদুল আলমের বাবার নাম এস এম ইবনে আজিজ। তাঁর গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি থানার তাজুরেপাড়ায়। গত ৬ মে বগুড়ায় দায়ের করা একটি দুর্নীতির মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এর আগে ২০২৫ সালে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগের দায়ের করা এক মামলায় তাঁকে কারাগারে নেওয়া হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত