Ajker Patrika

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৯ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৯ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা
ফাইল ছবি

রাজধানীর শনিরআখড়ায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের দনিয়া শাখা থেকে ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকের চার কর্মকর্তাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নারগিস আক্তার নামে এক গৃহিণী। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে তিনি মামলাটি দায়ের করেন।

আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) অভিযোগটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।​

মামলার আসামিরা হলেন— ডাচ-বাংলা ব্যাংক দনিয়া শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড ডেপুটি ম্যানেজার মোহিত মোরশেদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার সৌরভ সাহা, রেমিট্যান্স অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম, ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মো. গোলাম কিবরিয়া, গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্র্যাফট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুব হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাকিম আলী সরদার, ম্যানেজার কাজী এনামুল কবির ও শওকত হাসান এবং গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্র্যাফট লিমিটেড। এ ছাড়া মামলায় আরও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাদী নারগিস আক্তার একজন গৃহিণী। তিনি তাঁর জমি ও গাড়ি বিক্রি এবং বাড়ি ও দোকান ভাড়ার সঞ্চিত মোট ১ কোটি ১১ লক্ষ ৮৫ হাজার ৩১৯ টাকা ডাচ-বাংলা ব্যাংকের দনিয়া শাখার অ্যাকাউন্টে জমা রাখেন। নিরক্ষর হওয়ার কারণে ব্যাংক কর্মকর্তারা তাঁকে চেক পূরণ ও টাকা জমার কাজে সহযোগিতা করতেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বাদী ৫ লাখ টাকা তুলতে ব্যাংকে গেলে আসামিরা সুকৌশলে তাঁর চেক বই থেকে একটি অতিরিক্ত চেক এবং ডিপিএস খোলার কথা বলে কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। পরে গত ৪ অক্টোবর বাদী ব্যাংকে গিয়ে অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স জানতে চাইলে আসামিরা জানান তাঁর হিসাবে মাত্র ৩ লাখ ৩৫ হাজার ২০৪ টাকা অবশিষ্ট রয়েছে। বাদী হতবাক হয়ে বাকি টাকার খোঁজ নিলে ব্যাংক কর্মকর্তা মোহিত মোরশেদ জানান, ২৩ সেপ্টেম্বরে ‘পজিটিভ পে ইন্সট্রাকশন’ ফরমের মাধ্যমে গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্র্যাফট লি.-কে একটি চেকে ৮৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

বাদী নারগিস আক্তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি ব্যাংকে যাননি এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানকে কোনো চেক দেননি। গত ১৭ সেপ্টেম্বর কর্মকর্তারা প্রতারণা করে যে চেকটি রেখে দিয়েছিলেন, সেটিতে জাল স্বাক্ষর ও টাকার পরিমাণ বসিয়ে এবং পজিটিভ পে ফরম তৈরি করে পূবালী ব্যাংক পিএলসি-এর রাজবাড়ী শাখায় গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্র্যাফট লি.—এর অ্যাকাউন্টে ক্লিয়ারেন্সের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর উক্ত কোম্পানির পক্ষে আসামি শওকত হাসান পূবালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখা থেকে নগদ ৮৫ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন।

​বাদী উল্লেখ করেন, তিনি কোনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন এবং ১ সেপ্টেম্বর খোলা উক্ত ভুয়া কোম্পানির অ্যাকাউন্টে প্রতারণামূলকভাবে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই অর্থ পাচার করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত