Ajker Patrika

বিরিয়ানি দিলে বুঝতে পারি ঈদের দিন— হুম্মামের মুখে গুমের অভিজ্ঞতা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
বিরিয়ানি দিলে বুঝতে পারি ঈদের দিন— হুম্মামের মুখে গুমের অভিজ্ঞতা
হুম্মাম কাদের চৌধুরী। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুম করে রাখার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। গুমের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘দিন গুনতাম খাবার দেখে। খাবারের জন্য রুটি আসলে বুঝতে পারতাম নতুন দিন শুরু হয়েছে। একদিন বিরিয়ানি দেওয়া হলে বুঝতে পারি ঈদের দিন।’

আজ সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এ তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। পরে তার জেরার জন্য আগামী ২৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করে দেন ট্রাইব্যুনাল। হুম্মাম কাদের চৌধুরী বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে। যার মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।

সেলের বর্ণনা দিতে গিয়ে হুম্মাম বলেন, ভেতরে একটি চৌকি, একটি অটবির টেবিল ও একটি প্লাস্টিক চেয়ার ছিল। পরদিন সকাল বেলা যখন নাস্তা দেওয়া হয় তখন তিনি টেবিলে বসে রুটি-ডিম খান। টেবিলের নিচের অংশে লাল কালি দিয়ে সিটিআইবি লেখা দেখতে পান। মাঝে মধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই বিল্ডিংয়ের অন্য একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হতো। এই স্থানটিই ছিলো ইন্টারোগেশন সেল। সেখানে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ব্লাইন্ডফোল্ড করা হতো, জমটুপি পরানো হতো এবং হ্যান্ডকাফ লাগানো হতো। বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হলেও একইভাবে নিয়ে যাওয়া হতো। মাঝে মধ্যেই নির্যাতন করা হতো। তার হাতে ইনজেকশন দিতো। যার ফলে মনে হতো পুরো শরীরে যেন আগুন ধরে গেছে। বার বার ইনজেকশন দেওয়ার কারনে হাত কালো হয়ে গিয়েছিল। বেশ কয়েকবার আইভির মাধ্যমেও ক্যামিকেল পুশ করা হতো।

সেলে খাবারের বর্ণনা দিতে গিয়ে হুম্মাম বলেন, দিন গুনতাম খাবার দেখে। খাবারের জন্য রুটি আসলে বুঝতে পারতাম নতুন দিন শুরু হয়েছে। একদিন বিরিয়ানি দেওয়া হলে বুঝতে পারি ঈদের দিন। প্রথম দুই মাস একটি পেরেক দিয়ে দেওয়ালে দাগ দিয়ে দিনের হিসাব রাখতাম। দুমাস পর আমি হিসাব রাখা বন্ধ করে দেই। পেরেকটি আমি জানালার কোনায় পেয়েছিলাম। সবগুলো জানালা কালো পেইন্ট দিয়ে রং করা ছিল। রুমের ভিতরের দেয়ালে অনেককিছু লেখা ছিল। আমি বুঝতে পেরেছিলাম এই রুমে আমার পূর্বে যারা বন্দি ছিল এগুলো তাদের লেখা। আমি যে রুমে ছিলাম তার দৈর্ঘ্য আনুমানিক ১৫/১৮ ফিট, প্রস্থ ৮ / ১০ ফিট। দিন রাত্রীর পার্থক্য বুঝতে পারতাম না। তবে আজানের আওয়াজ শুনতে পেতাম।

শেখ হাসিনার সেকেন্ড চান্স দেওয়ার বিষয়ে হুম্মাম বলেন, ‘‘আমার বিপরীত দিকের সেলে একজন বন্দির কোরআন তেলওয়াত ও কান্নার আওয়াজও অনেকদিন শুনেছি। ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর জানতে পারি যে, তিনি ব্রিগ্রেডিয়ার আমান আযমি ছিলেন। আমার সেলের ভেতরে একটি টিউবলাইট এবং একটি সিলিং ফ্যান ছিল। এই লাইট সব সময় অন থাকতো, বন্ধ করার কোনো সুযোগ ছিল না। সেখানে থাকা অবস্থায় কোন বন্দির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়নি। ইন্টারোগেশন সেলে আমাকে যখন শেষবার নেওয়া হয় তখন আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, যদি ছেড়ে দিলে আমি সবাইকে কি বলব। আমি জবাবে বলেছিলাম আপনারা যা বলতে বলবেন তাই বলব। তারা আমাকে শিখিয়ে দিল আমি যেন বলি কিছু দুষ্ট লোক আমাকে কিডন্যাপ করেছিল, আমি তাদের কাছ থেকে পালিয়ে এসেছি। আমাকে আরও বলা হয়, ‘অনারেবল প্রাইম মিনিস্টার আপনাকে একটা সেকেন্ড চান্স দিতে চান।’ তখন আমি বুঝতে পারি যে, আমাকে গুম এবং নির্যাতনের ঘটনার পিছনে শেখ হাসিনার হাত আছে।’’

উল্লেখ্য, সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটির বিচার শুরু হলো। এর আগে সূচনা বক্তব্য দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এই মামলার ১৩ আসামির মধ্যে ১২ জনই বর্তমান–সাবেক সেনা কর্মকর্তা। আসামিদের মধ্যে তিনজন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন পরিচালক–মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। শুনানির সময় তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। বাকিরা পলাতক।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ভবঘুরের ছদ্মবেশে সিরিয়াল কিলার সম্রাট, সাভারে সাত মাসে ৬ খুন: পুলিশ

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত

অভিজ্ঞতা ছাড়াই কর্মী নেবে আরএফএল

শিগগির চালু হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, সক্ষমতা ৮.২ গিগাওয়াট

ক্রিকেট: সফট পাওয়ারকে বিজেপির হাতিয়ার বানাতে গিয়ে উল্টো চাপে ভারত

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত