Ajker Patrika

ফরিদপুরে ৪০ পাম্পের অধিকাংশেই তেল নেই—জেলা পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির সভাপতি

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে ৪০ পাম্পের অধিকাংশেই তেল নেই—জেলা পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির সভাপতি
সভায় বক্তব্য দেন ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফরিদপুর জেলা পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির সভাপতি ওয়াহিদ মিয়া কুটি বলেছেন, ‘জেলার ৪০টি পাম্পের অধিকাংশ পাম্পেই তেল নেই। চট্টগ্রাম থেকে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। যে কারণে কাঙ্ক্ষিত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এখনই যদি কোনো সমাধান না করা যায়, তাহলে ঈদযাত্রায় বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে হবে।’

আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক জরুরি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ওয়াহিদ মিয়া কুটি বলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের আড়াই লাখ লিটার তেলের চাহিদা রয়েছে। তেলের ডিপো থেকে চাহিদার অর্ধেক তেল পাঠানো হচ্ছে। যেসব কারণে আমাদের নাজুক অবস্থা।’ তিনি উপস্থিত সংসদ সদস্যের উদ্দেশে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার আমাদের তেল দেওয়া হবে, শুক্র ও শনিবার তেল দেওয়া হবে না। এ দুদিন তেল যদি না দেওয়া হয়, তাহলে রোববার থেকে আমরা কাউকে আর তেল দিতে পারব না। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় উচ্চপর্যায়ে কথা বলে ফরিদপুরে তেলের সরবরাহ বাড়াতে হবে।’

এ ছাড়া বিভিন্ন পাম্পে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করেন ওয়াহিদ মিয়া বলেন, ‘তেল কম দেওয়ার কারণে বিভিন্ন পাম্পে আমাদের কর্মচারীদের মারধরও করা হয়েছে। কেউ সাংবাদিক, কেউ পুলিশ, কেউ রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে তেল বেশি নিতে চাচ্ছে।’ এগুলো বন্ধ করতে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ।

সংসদ সদস্য বলেন, ‘এটি আন্তর্জাতিক ইস্যু। সে ক্ষেত্রে আমাদের সকলকে সাশ্রয়ী ও সচেতন হতে হবে। তারপরও আজ চট্টগ্রাম বন্দরে পাঁচটি জাহাজ এসেছে। আমাদের ফরিদপুরে যাতে সরবরাহ ঠিক থাকে, সে ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নকরণ, সরকার নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রয় ও এর সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতকরণ’ শিরোনামে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে হয় এই সভা। এ সময় জেলা পেট্রলপাম্প মালিক সমিতি ও জেলা বাস মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তাঁরা জানান, জেলায় ৪০টি তেলের পাম্প রয়েছে; যার মধ্যে ইতিমধ্যে ১০টি পাম্প বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং অধিকাংশ পাম্পে তেলসংকট রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংকট মোকাবিলায় তাঁদের জরুরি সভায় সরকার নির্ধারিত তেল বিক্রির বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দৈনিক মোটরসাইকেলে ১০০, প্রাইভেট কারে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার এবং অ্যাম্বুলেন্স ও দূরপাল্লার গাড়িগুলোয় প্রয়োজন অনুযায়ী তেল দেওয়া হবে।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন, জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি কামরুজ্জামান সিদ্দিকী, জেলা পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলামসহ অনেকে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জামায়াতের মঞ্চে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি

নেতানিয়াহু নিহত বা গুরুতর আহত হওয়ার দাবি ইরানি গণমাধ্যমের, ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েল

ইরান যুদ্ধ থেকে ‘প্রস্থানের পথ’ খুঁজছে ইসরায়েল

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মানুষের ৪৭টি মাথার খুলি, বিপুল পরিমাণ হাড়সহ গ্রেপ্তার ৪

ইরান থেকে ট্রাম্পকে বেরিয়ে আসতে পরামর্শ দিচ্ছেন উপদেষ্টারা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত