Ajker Patrika

ছেলে নিখোঁজ, পুলিশ পরিচয়ে ফোন, বিকাশে ৮ হাজার টাকা খোয়ালেন বাবা

বগুড়া প্রতিনিধি
ছেলে নিখোঁজ, পুলিশ পরিচয়ে ফোন, বিকাশে ৮ হাজার টাকা খোয়ালেন বাবা
নিখোঁজ আব্দুল মুহাইমিন রাধিন । ছবি: সংগৃহীত

চশমা কিনতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছেন কলেজছাত্র আব্দুল মুহাইমিন রাধিন (২৪)। নিখোঁজের তিন দিন পর তাঁর বাবাকে ফোন করে এক ব্যক্তি নিজেকে এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পরিচয় দিয়ে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন রাধিন। জরুরি চিকিৎসা ও ওষুধ কেনার কথা বলে বিকাশে ৮ হাজার টাকা নেওয়ার পর বন্ধ করে দেওয়া হয় ফোন। পরে থানায় যোগাযোগ করে পরিবার জানতে পারে, ওই ফোনকারী পুলিশের কেউ নন।

আব্দুল মুহাইমিন রাধিন বগুড়ার সৈয়দ আহমেদ কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নিশিন্দারা উপশহরের বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক আব্দুর রহিমের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় চশমা কিনতে নিশিন্দারা উপশহরের বাসা থেকে বের হন রাধিন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাকে ফোন করে তিনি জানান, রিকশায় করে বাসায় ফিরছেন। এরপর তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি আর বাসায় ফেরেননি।

পরদিন এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর বাবা আব্দুর রহিম। পুলিশ শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার একটি চশমার দোকান ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে রাধিনের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করছে।

আব্দুর রহিম বলেন, ‘১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার আগে একজন ফোন করে নিজেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার এসআই আরিফ পরিচয় দেন। তিনি জানিয়েছেন আমার ছেলে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসার জন্য টাকা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘এরপর আমি জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সোহাগ ফকিরের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি ফোন নম্বরটি যাচাই করে বলেন, নম্বরটি সঠিক আছে। আমাকে এলেঙ্গা যেতে বলেন। পরে ওই নম্বরে যোগাযোগ করে ছেলের চিকিৎসার খরচের জন্য বিকাশে ৮ হাজার টাকা পাঠাই।’

আব্দুর রহিম আরও বলেন, ‘এলেঙ্গার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ওই নম্বরে আবার ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে এলেঙ্গা হাইওয়ে থানায় যোগাযোগ করে জানতে পারি, ওই ব্যক্তি পুলিশের কেউ নন। আমি প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েছি।’

নিখোঁজ ছেলের সন্ধান না পাওয়ার পাশাপাশি প্রতারিত হয়ে টাকা হারানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আব্দুর রহিম বলেন, ‘জিডি করার পরও ছেলের সন্ধানে পুলিশের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছি না। এর মধ্যে প্রতারক চক্রের কারণে ৮ হাজার টাকা হারালাম।’

তবে পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজে রাধিনকে অপহরণের কোনো দৃশ্য পাওয়া যায়নি। উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই ও জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা সোহাগ ফকির বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মনে হচ্ছে না তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে। তাঁর মোবাইল ফোন ওই দিন থেকেই বন্ধ। মোবাইলের কললিস্ট পাওয়া গেলে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত