Ajker Patrika

বরগুনায় স্কুল ফিডিং প্রকল্পে কাঁচা কলা–পচা ডিম

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।
বরগুনায় স্কুল ফিডিং প্রকল্পে কাঁচা কলা–পচা ডিম
তালতলীতে স্কুল ফিডিং প্রকল্পে কাঁচা কলা–পঁচা ডিম। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরগুনার তালতলীতে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের শিশুশিক্ষার্থীদের মধ্যে পচা ডিম ও রুটি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে আগামী সোমবার সভা ডেকেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

জানা গেছে, উপকূলীয় অঞ্চলের শিশুশিক্ষার্থীদের শিক্ষায় মনোনিবেশ এবং পুষ্টির চাহিদা পূরণে সরকার স্কুল ফিডিং প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে। তালতলী উপজেলার ৭৯টি বিদ্যালয়ের ৭ হাজার ২৭০টি শিশুকে এ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়।

বিদ্যালয় চলাকালে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দৈনিক একটি ডিম, রুটি, কলা, বিস্কুট ও দুধ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ডিম, কলা ও রুটি ক্রয়ের দায়িত্ব পায় গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা। গত ২৯ মার্চ ওই সংস্থা ডিম, রুটি ও কলা সরবরাহ শুরু করে। কিন্তু শুরুতেই কাঁচা কলা, পচা ডিম ও রুটি সরবরাহের অভিযোগ ওঠে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুই দিনের রুটি একসঙ্গে বিদ্যালয়ে দিয়ে যায়। মেয়াদ থাকলেও ওই রুটি পচা। এ ছাড়া কাটা ডিম সরবরাহ করলেও এর অধিকাংশই পচা। সিদ্ধ করার সময় ধরা না পরলেও বাচ্চারা যখন ডিম খায়, তখন দুর্গন্ধ ছড়ায়।

উপজেলার সরদারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইয়াসিন ও মারিয়া বলে, ‘ডিম ও রুটি পচা। খাওয়ার উপযোগী না, তাই ফেলে দিয়েছি।’ তারা আরও বলে, ‘আমরা তো ডিম, রুটি ও কলা সরকারের কাছে খেতে চাইনি। যখন দিয়েছে, তা পচা হবে কেন?’

ছাতনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলে, ‘পচা ডিম ও রুটি না খেয়ে ফেলে দিয়েছি।’

গাবতলী রফিক মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, সরবরাহ করা ডিমের মধ্যে বেশ কিছু পচা ডিম বের হয়েছে। তিনি বলেন, দুই দিন আগে রুটি দিয়ে গেলে ওই রুটি ভালো থাকে না। রুটির ওপর ফাঙ্গাস পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। তখন আর খাওয়ার উপযোগী থাকে না।

জানতে চাইলে ঠিকাদারের খাবার সরবরাহকারী মো. ইউনুস মিয়া বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা আমাকে যে পণ্য দেয়, আমি তা বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিই। তবে ডিম ও রুটি পচার বিষয়টি আমাকেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার প্রকল্প পরিচালক মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘ডিম তো কেউ নিজে থেকে পেড়ে দেয় না। শুনেছি কিছু পচা ডিম বের হয়েছে। তবে পরবর্তী সপ্তাহ থেকে মান যাচাই করে ভালো পণ্য দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা কাঁচা কলা, পচা ডিম ও রুটির বিষয়ে অবহিত করেছেন। আমি সকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছি—কোনো অবস্থায় পচা ডিম ও রুটি শিশুদের হাতে দেওয়া যাবে না।’

মো. আবুল বাশার আরও বলেন, এ বিষয়ে করণীয় নিয়ে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে আগামী সোমবার সভা ডাকা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বাংলাদেশ সীমান্তে নদী-খালে সাপ-কুমির নামাবে বিএসএফ

অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আটক, ট্রাক জব্দ

বৃদ্ধকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে

এভারেস্টে মৃত্যুফাঁদ: পর্যটকদের বিষ খাইয়ে ১৫০ কোটি টাকার বিমা জালিয়াতি, নেপথ্যে গাইড-হাসপাতাল

হরমুজ খুলতে জাতিসংঘে ইরানকে চাপ প্রয়োগের প্রস্তাব রুখে দিল তিন দেশ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত