
সাগরে বড় জাহাজ থেকে তেল খালাস করে সরাসরি ডিপোতে আনার জন্য নির্মাণ করা হয় সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং উইথ ডাবল পাইপলাইন (এসপিএম)। কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে বঙ্গোপসাগরের তলদেশ দিয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ডিপো পর্যন্ত টানা হয়েছে ১১০ কিলোমিটার লম্বা এই পাইপলাইন। এই প্রকল্পে ব্যয় করা হয় ৮ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। চীনের প্রতিষ্ঠান চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (সিপিপিইসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে।
তবে দুই বছর আগে ২০২৪ সালের মার্চে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও অপারেটরের অভাবে পাইপলাইন চালু করতে পারেনি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এরই মধ্যে প্রকল্পের কারিগরি ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্ধারিত ১৮ মাসের গ্যারান্টির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে গত আগস্ট মাসে। এতে করে এখন এই প্রকল্পটিতে যান্ত্রিক বা অন্যান্য কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তার দায়িত্ব নেবে না নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সিপিপিইসি। সেই খরচ বিপিসির নিজস্ব তহবিল থেকেই করতে হবে।
এদিকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময়ও ঘনিয়ে আসছে। সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও এই প্রকল্পের ঋণের ৬৯০ কোটি টাকার কিস্তি পরিশোধ করতে হবে বিপিসিকে।
বিপিসি ও প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এই সংকট মোকাবিলা নিয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে বিপিসি। ইতিমধ্যে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অর্থ মন্ত্রণালয় বিপিসিকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার বিনা সুদে ঋণ দেওয়ার সম্মতি দিয়েছে।
বিপিসির তথ্যমতে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৬৯০ কোটি টাকার কিস্তি পরিশোধ করতে হবে প্রকল্পের ঋণ প্রদানকারী সংস্থাকে। এরই মধ্যে ঋণের ৩ হাজার ৭৭ কোটি টাকা পরিশোধও করেছে বিপিসি।
বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় চীনের সহজ শর্তের ঋণ, সরকারি অর্থ এবং বিপিসির অর্থায়নে এসপিএম প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নির্মাণকাজ করেছে চীনের প্রতিষ্ঠান সিপিপিইসি। বাংলাদেশ সরকার ৫৯৬ কোটি টাকা, চায়না এক্সিম ব্যাংকের ঋণ হিসাবে ৫ হাজার ১১৬ কোটি এবং বিপিসির নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ৫৮৫ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় এই পাইপলাইন।
বিপিসির সচিব শাহেনা সুলতানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, এসপিএম প্রকল্পটি দেখাশোনা করে সরকারি প্রতিষ্ঠান পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানি পিএলসি (পিটিসিপিএলসি)।
পরে পিটিসিপিএলসির সচিব মো. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এখনো এসপিএম প্রকল্পটি দাপ্তরিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি।’ এর বাইরে তিনি বিষয়টি নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
তবে একটি সূত্র বলছে, ইতিমধ্যে প্রকল্পটির দায়িত্ব পিটিসিপিএলসিকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার মহেশখালীতে এসপিএম প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা পিটিসিপিএলসির উপমহাব্যবস্থাপক (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যানিং) জামান নাহিদ রায়হান আজকের পত্রিকাকে বলেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর এসপিএমের অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসপিএম চালু হতে আরও তিন থেকে চার মাস সময় লাগবে।
রায়হান জানান, এই প্রকল্পের কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে; যেগুলো অপারেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। দীর্ঘদিন প্রকল্পটি ফেলে রাখার কারণে যন্ত্রাংশ বা লোহার ট্যাংকগুলো নষ্ট হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, ‘এগুলো নষ্ট হয়নি।’
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এসপিএম প্রকল্প পরিচালনার জন্য পাঁচ বছরের জন্য অপারেটর হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা। বিপিসি নিজস্ব তহবিল থেকে এ অর্থ পরিশোধ করবে।
তথ্যমতে, এই প্রকল্পে প্রথম দিকে ৮০০ কোটি টাকার মতো সাশ্রয় করা যাবে বলে মনে করা হলেও অপারেটর নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতার কারণে তা করতে পারেনি বিপিসি। দুই বছর বিলম্বের কারণে সম্ভাব্য ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা যায়নি বলে বিপিসির একটি হিসাবে উঠে এসেছে।
তবে কর্মকর্তারা জানান, এর প্রকৃত আর্থিক ক্ষতি আরও অনেক বেশি। কারণ এখনো বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে সমুদ্রে তেল স্থানান্তর করতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিপিসির একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পটির কারিগরি ও যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের জন্য ১৮ মাসের গ্যারান্টি ছিল প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। এই গ্যারান্টির মেয়াদ গত আগস্টে শেষ হয়েছে। এতে বর্তমানে প্রকল্পে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে সেটার মেরামত বাবদ খরচ বিপিসিকে বহন করতে হবে।
পাইপলাইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা আফসোস করে বলেন, ‘এত টাকার একটি প্রকল্প দুই বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে আছে। এসপিএমসহ পাইপলাইন পরিচালনার জন্য পিটিসিপিএলসিকে কোটি কোটি টাকা বেতন দেওয়া হচ্ছে। অথচ তারা অপারেশনে যেতে পারছে না।
বিপিসির মতে, এই প্রকল্প দেশের প্রথম সমন্বিত সমুদ্র ও স্থলভিত্তিক তেল সংরক্ষণ ও পরিবহনব্যবস্থা। বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে তেল খালাসের ধীর ও ব্যয়বহুল পদ্ধতি বাদ দিতে কক্সবাজারের ২০১৮ সালের আগস্টে প্রকল্পটির কাজ শুরু করে বিপিসি। এসপিএম ব্যবস্থায় বড় ট্যাংকারগুলো সাগরে ভাসমান একটি বয়ার সঙ্গে নোঙর করতে পারবে। সেখান থেকে অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল সরাসরি সমুদ্রের নিচে থাকা পাইপলাইনে পাঠানো যাবে। এতে তেল খালাসের সময় ১০-১২ দিন থেকে কমে প্রায় ৪৮ ঘণ্টায় নেমে আসার কথা। প্রকল্পে একটি ভাসমান বয়া এবং সমুদ্র ও স্থলভাগ মিলিয়ে ১১০ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি সমান্তরাল পাইপলাইন রয়েছে। একটি পাইপলাইনে অপরিশোধিত তেল এবং অন্যটিতে ডিজেল পরিবহন করা হবে।
এই পাইপলাইনগুলো মহেশখালীর কালারমারছড়ায় থাকা ছয়টি ট্যাংকের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে তিনটি অপরিশোধিত তেল ও তিনটি ডিজেল সংরক্ষণের জন্য। পরে অন্য পাইপলাইনের মাধ্যমে এসব জ্বালানি চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) পাঠানো হবে। কিন্তু এখনো সেই সুফল দিতে পারেনি প্রকল্পটি। চার দফা সময় বাড়ানোর পর ২০২৪ সালের মার্চে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। এতে প্রকল্প ব্যয় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৮ হাজার ২৯৮ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। ২০২৪ সালের আগস্টে সিপিপিইসিকে প্রকল্প বুঝে নেওয়ার সনদ দেয় বিপিসি।

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে বগুড়ায় চালু করা হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) মহিলা বাস সার্ভিস। তবে চালুর এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাশিত যাত্রী পাচ্ছে না বাস দুটি। দিনের বেশির ভাগ সময়ই ৪৫ আসনের বাসে অল্পসংখ্যক যাত্রী দেখা যায়।
২ ঘণ্টা আগে
জনবসতিহীন এলাকায় একটি পরিত্যক্ত মুরগির খামার। সেখানে প্রতিদিন জড়ো হচ্ছে শিশু-কিশোর, প্রাপ্তবয়স্করা। টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন বয়সী মানুষের কাছ থেকে নেওয়া হয় পাসপোর্টের ছবি, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য ও ফেস ভেরিফিকেশন। দিনশেষে এসব তথ্য পাচার হয় বিদেশে।
৩ ঘণ্টা আগে
বর্ষা মৌসুম শেষ হয়েছে দেড় মাস আগে। কিন্তু সেই বর্ষার পানি নিষ্কাশন হতে না পারায় শরতের শেষ সময়ে এসেও যশোরের দুঃখখ্যাত ভবদহ অঞ্চলের অন্তত ২০০ গ্রাম জলাবদ্ধ রয়েছে। বর্ষকাল থেকে শুরু করে তিন মাস ধরে এসব গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী জীবনযাপন করছে।
৩ ঘণ্টা আগে
রংপুরের পীরগঞ্জে শানেরহাট ইউনিয়নের তারবিয়াতুল উম্মাহ্ ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকসহ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে হুমকি, মানসিক নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগ করেছেন ওই প্রতিষ্ঠানেরই এক নারী সহকারী শিক্ষিকা। এ ঘটনায় সুবিচারের দাবি জানিয়ে পীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী...
৩ ঘণ্টা আগে