
ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য নতুন স্থানে ও নতুন করে নির্মাণের জন্য জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডারকে আহ্বায়ক করে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শহরের প্রবেশমুখে বর্তমান স্থানটি ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ হিসেবেই সংরক্ষণ করা হবে। তবে পরিবারের সদস্যরা আগের স্থানেই ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণের দাবিতে লিখিত আবেদন দিয়েছেন।
আজ বুধবার দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক নেতারা, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন আজকের পত্রিকাকে জানান, ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের জন্য স্থান নির্ধারণে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডারকে আহ্বায়ক করে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটিতে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, কমিটির স্থান-সুপারিশের ভিত্তিতে জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্বাচিত স্থানে পূর্ণ মর্যাদায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি নতুন ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, ঝিনাইদহ-যশোর ছয় লেন সড়ক প্রকল্পের আওতায় শহরের প্রবেশমুখে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের আদলে একটি ইন্টারসেকশন নির্মাণ করা হবে। এ কারণে সেখানে আগের অবকাঠামো রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ওই স্থানটি ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ হিসেবেই সংরক্ষণ করা হবে। ভবিষ্যতে সেখানে আরও বড় পরিসরে একটি ভাস্কর্য নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে ঝিনাইদহে প্রবেশকারী সবাই বুঝতে পারেন এটি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের জেলা।
‘ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বরের ভাস্কর্য কে ভাঙছে জানে না কেউ’ শিরোনামে ১৪ জুলাই আজকের পত্রিকার অনলাইনে এবং ১৫ জুলাই প্রিন্ট পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর জেলা প্রশাসক ভাস্কর্য অপসারণের কাজ স্থগিত করেন এবং আজ ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেন।
সভায় জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিষ বিন হাছান, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্রনাথ রায়, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ঝিনাইদহ জেলা শাখার কমান্ডার আব্দুল মজিদ মাস্টার, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমানসহ সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে বর্তমান স্থানেই পূর্ণাঙ্গভাবে ভাস্কর্যটি পুনঃস্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে। সকালে এ নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে পৃথক একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, ‘শহরের প্রবেশমুখে স্থাপিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর শুধু একটি ভাস্কর্য নয়, এটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, দেশপ্রেম ও জাতীয় গৌরবের প্রতীক। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ভাস্কর্য অপসারণের উদ্যোগে পরিবার গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছে।'
পরিবারের দাবি, ভাস্কর্যটির নকশা, সৌন্দর্য বা নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে তা সংস্কার, আধুনিকায়ন বা পুনর্নির্মাণ করা যেতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই এটি অন্যত্র স্থানান্তর করা উচিত হবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের স্বার্থে ভাস্কর্যটি আগের স্থানেই পুনঃস্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানের টেনিস গ্রাউন্ডের পাশের জায়গাটি যেন ছোট্ট সবুজ এক অরণ্য। নানা ধরনের দেশি, বিদেশি ফুল আলো করে রেখেছে জায়গাটি। পাশাপাশি রয়েছে রঙিন ফল ধরা নানা জাতের গাছ। মাসব্যাপী বৃক্ষ মেলা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বনজ, ফলদ, ঔষধি গাছ পর্যন্ত আনা হয়েছে এ মেলায়।
১১ মিনিট আগে
আওয়ামী লীগকে নিষ্কৃতি দেওয়ার জন্য, খুনিদের সঙ্গে আঁতাত করার জন্য বিএনপি নিজের এক পালকপুত্রকে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
১৬ মিনিট আগে
লাইসেন্স নবায়ন না থাকা, চিকিৎসক ও লেবারদের বসার জন্য কক্ষ না থাকা এবং প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক বিভাগে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে আল রাফী জেনারেল হাসপাতাল, যমুনা জেনারেল হাসপাতাল ও মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
২৩ মিনিট আগে
উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবেশ, প্রতিবেশ, কৃষিজমি ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে; সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। প্রশাসন অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে।
২৭ মিনিট আগে