
খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানের টেনিস গ্রাউন্ডের পাশের জায়গাটি যেন ছোট্ট সবুজ এক অরণ্য। নানা ধরনের দেশি, বিদেশি ফুল আলো করে রেখেছে জায়গাটি। পাশাপাশি রয়েছে রঙিন ফল ধরা নানা জাতের গাছ। মাসব্যাপী বৃক্ষ মেলা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বনজ, ফলদ, ঔষধি গাছ পর্যন্ত আনা হয়েছে এ মেলায়। বর্ষা মৌসুমে বৃক্ষ রোপণের সুবর্ণ সময়টিতে তাই নানা জায়গা থেকে ক্রেতারাও ছুটে আসছেন নিজেদের পছন্দসই গাছ কিনতে।
বৃক্ষমেলার মাত্র ১১ দিনেই ২১ হাজার ২৩৭টি গাছের চারা বিক্রি হয়েছে। গত ১১ জুলাই থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত বিক্রি হওয়া এসব চারার মোট মূল্য প্রায় ৩০ লাখ ৭ হাজার ১১০ টাকা।
বিক্রেতারা বলছেন, মেলায় ফলদ, ফুল, ঔষধি, বনজ ও শোভাবর্ধক চারার চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে।

মেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিক্রয়কৃত চারার মধ্যে ৯৪১টি ঔষধি গাছ, ১ হাজার ৭৫৪টি বনজ গাছ, ৫ হাজার ৮৪৬টি ফলদ গাছ, ৫ হাজার ৫৫১টি ফুলগাছ, ৫ হাজার ৬৬৪টি শোভাবর্ধক গাছ এবং ১ হাজার ৪৮১টি অন্যান্য গাছ ছিল।
বৃষ্টি সত্ত্বেও প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক উদ্ভিদপ্রেমী মেলায় আসছেন। আয়োজক ও বিক্রেতারা আশা করছেন, এ বছর বিক্রি গতবারের চেয়েও বেশি হবে।
গত ১১ জুলাই শুরু হওয়া এ মেলার লক্ষ্য তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশগত সচেতনতা বৃদ্ধি করা। মেলায় দর্শনার্থীরা বিভিন্ন ধরনের ফলদ, ফুলগাছ ও ঔষধি গাছ পাচ্ছেন। একটি সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বৃক্ষরোপণের গুরুত্বও আয়োজনে তুলে ধরা হয়েছে।
মেলার নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, প্রকৃতিপ্রেমীদের আকৃষ্টকারী এ বৃক্ষমেলা প্রায় এক দশক ধরে এখানে প্রতি বছর আয়োজিত হয়ে আসছে। মেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় মোট ৬২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে, যা গত বছরের চেয়ে একটি বেশি। এর মধ্যে ১০টি সরকারি সংস্থা।
মেলাটি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রবেশে কোনো ফি নেই। স্টল ও খোলা জায়গাজুড়ে নানাবিধ গাছ সুশৃঙ্খলভাবে সাজিয়ে রাখায় মেলা প্রাঙ্গণে বাগানের মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
মেলায় ছাদবাগানের উপযোগী গাছসহ দেশি-বিদেশি নানা ধরনের গাছ পাওয়া যাচ্ছে। স্ট্রবেরি পেয়ারা গাছের চারা ফলগাছপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয়। ছাদবাগানের জন্য বামন প্রজাতির কাঁঠাল, সাদা জাম এবং কালো জামও রয়েছে, যা আকারে ছোট এবং টবে চাষের জন্য উপযোগী।
খুলনা নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি এসএম বদরুল আলম রয়্যাল বলেন, `এখানে ছাদবাগানের উপযোগী গাছসহ নানা ধরনের দেশি ও বিদেশি গাছ পাওয়া যাচ্ছে। শুরু থেকেই ক্রেতাদের কাছ থেকে দারুণ সাড়া পাওয়া গেছে। বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসন নিয়মিত আমাদের খোঁজখবর রাখছে।'
এসএম বদরুল আলম রয়্যাল আরও বলেন, `একটি সবুজতর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এবং তরুণদের প্রকৃতির সাথে সম্পৃক্ত করতে হলে অবশ্যই বৃক্ষমেলায় যাওয়া এবং গাছপালার সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন।'
আব্দুল করিম নার্সারির বিক্রয়কর্মী সাকিব জানান, সামগ্রিকভাবে গাছের চারা ভালো বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে আম, স্ট্রবেরি ও পেয়ারার চারার চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
নার্সারির মালিক মো. নিজাম শেখ জানান, আবহাওয়া ভালো থাকলে দর্শনার্থী ও ক্রেতার সংখ্যা দ্বিগুণ হবে।
সাফায়েত গার্ডেনের মালিক মো. ফারুক বলেন, এ বছর অনেক দর্শনার্থীই বিদেশি জাতসহ বিভিন্ন ফল ও শোভাবর্ধক গাছের চারা কিনছেন।
আয়োজকদের তথ্যমতে, মেলায় দেশি ও বিদেশি নানা ধরনের ফলের গাছ প্রদর্শিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পার্সিমন, বিভিন্ন জাতের পেয়ারা ও আম, সফেদা, জলপাই, লেবু, বাতাবি লেবু, আতা, জাম, কাজু বাদাম, করমচা, গোলাপজাম, আমলকী, আঙুর, কুল ও বুনো জলপাই।
বিদেশি বা এক্সোটিক ফলের মধ্যে রয়েছে অ্যাভোকাডো, পার্সিমন, রামবুটান, লংগান ও ডুরিয়ান। কোনো কোনো স্টলে শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম এবং ভারতের কেরালা থেকে আনা নারিকেলের চারাও পাওয়া যাচ্ছে।
নগরীর টুটপাড়া এলাকা থেকে আসা ক্রেতা মকবুল হোসেন বলেন, এ বছর চারার দাম বেশ কম। মেলায় এলাচ, পাইপার, গোলমরিচ, দারুচিনি ও তেজপাতার মতো মসলাজাতীয় গাছের চারাও পাওয়া যাচ্ছে।
দর্শনার্থী চন্দনা দাস জানান, ফলজ চারার পাশাপাশি মেলায় নানা জাতের ফুলের চারা দেখা যাচ্ছে। গোলাপ, জবা, জুঁই, চাঁপা, বেল, শিউলি, টগর, রঙ্গন, বাগানবিলাস, করবী ও মাধবীলতাসহ নানা ধরনের ফুলের সমাহার রয়েছে।
ঊসুপাড়া এলাকার সির্থী শিকদার বলেন, `গাছপালার প্রতি আমাদের ভীষণ আগ্রহ। আমরা গাছের পরিচর্যা দিয়েই আমাদের দিন শুরু করি। আজ আমরা শোভাবর্ধক গাছসহ নানা ধরনের পরিচিত ও অপরিচিত প্রজাতির চারা কিনেছি। আগামী সপ্তাহে আবার আসব।'
ম্যানগ্রোভ সিলভিকালচার বিভাগের পরিচালিত সুন্দরবন স্টলে সুন্দরী, খলশি, কাঁকড়া, গর্জন, ধুণ্ডুল ও পশুর প্রজাতির উদ্ভিদ প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। সেখানে বাঘের মাথার খুলি এবং এ অঞ্চলের স্থানীয় বিভিন্ন মাছের সংরক্ষিত নমুনাও রয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য তথ্যসমৃদ্ধ লিফলেট সরবরাহ করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত চারাগাছ বিক্রিতে এগিয়ে রয়েছে ‘মো. নিজাম নার্সারি’। নার্সারিটির বিক্রয়কর্মী মনিরুল জানান, তাদের স্টলে প্রায় ১৫ জাতের পেয়ারা চারা, থাই কদবেল এবং থাই ও বাতাবি লেবুর চারা রয়েছে।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের ডিএফও এ জেড এম হাসানুর রহমান বলেন, `আমরা আশা করছি, গত বছরের তুলনায় এবারের মেলায় আরও বেশি উদ্দীপনা দেখা যাবে। বিক্রিও ভালো হবে।'

সম্পর্কের বিচ্ছেদের পর স্বামী আলমগীরকে জোরপূর্বক পুনরায় বিয়ে করতে বাধ্য করেন আকলিমা। পরে সেই বিয়ের কাবিননামাকে ভিত্তি করে আকলিমা পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
২৩ মিনিট আগে
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর এই দেশে জনগণের সরকার ছিল না। একটি অবৈধ, অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক সরকার প্রশাসনযন্ত্র ব্যবহার করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল। তাঁরা গুম, খুন, হামলা, মামলা ও নির্যাতনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার হরণ করেছে।
২৬ মিনিট আগে
নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার পাশে দাঁড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এক দিনের বেতন দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
৩১ মিনিট আগে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এফ রহমান হলের পাশের ফুটপাত থেকে এক মেয়ে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নবজাতকটির বয়স হবে আনুমানিক এক দিন...
৩৫ মিনিট আগে