Ajker Patrika

ফরিদপুরে আদালত চত্বরে স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে স্ত্রীর আহাজারি

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে আদালত চত্বরে স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে স্ত্রীর আহাজারি
আজ বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুর জজকোর্ট চত্বরে মানববন্ধনে আহাজারি করেন নিহত কৃষক ইউসুফ আলী শেখের স্ত্রী। ছবি: আজকের পত্রিকা

স্বামীকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে ফরিদপুর জজকোর্ট চত্বরে মানববন্ধন করেছেন নিহত কৃষক ইউসুফ আলী শেখের স্ত্রী ডালিয়া বেগমসহ স্বজন ও এলাকাবাসী। বুধবার বেলা ১১টার দিকে অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধনে স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ডালিয়া। আহাজারি করে তিনি বলেন, ‘আমারে যারা বিধবা করেছে, তাদের যেন ফাঁসি হয়।’

ফরিদপুর জজকোর্ট চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে নিহতের স্ত্রী ডালিয়া বেগমসহ অর্ধশতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন। তাঁরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে আসামিদের জামিন না দেওয়াসহ দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষ করার দাবি জানান।

নিহত ইউসুফ আলী শেখ ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের চরঅমরাপুর গ্রামের বাসিন্দা। গত ৩ আগস্ট ভোরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ডালিয়া বেগম বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে চরভদ্রাসন থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

মানববন্ধনে ডালিয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্বামীকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ এখনো তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। কী কারণে, কোন শক্তির কারণে—তা আমি জানি না। আমি প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই। তাঁদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক। যারা আমার স্বামীকে তিলে তিলে মেরেছে, আমি তাঁদের ফাঁসি চাই।’

মানববন্ধনে নিহতের স্ত্রী ডালিয়া বেগমসহ অর্ধশতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন। ছবি: আজকের পত্রিকা
মানববন্ধনে নিহতের স্ত্রী ডালিয়া বেগমসহ অর্ধশতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

স্থানীয়দের ভাষ্য, ইউসুফ আলী শেখ হত্যার প্রায় এক মাস আগে মামলার এক আসামি শামীমের মা আসমা বেগম নিখোঁজ হন। ওই ঘটনায় পুলিশ ইউসুফ আলীসহ ছয়-সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এর জের ধরে গত ১ আগস্ট সন্ধ্যায় ইউসুফ আলীকে ডেকে নিয়ে দুর্গম চর এলাকায় নির্যাতন এবং বিষ খাওয়ানো হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

পরে অসুস্থ অবস্থায় ইউসুফ আলীকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ আগস্ট ভোররাতে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে ধারণ করা একটি ভিডিওতে ইউসুফ আলী ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের নাম বলে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানান। পরে তাঁর উল্লেখ করা সাতজনকে আসামি করে মামলা করা হয়।

মামলার চার আসামি গ্রেপ্তার হলেও বাকি তিনজনকে এক মাস ছয় দিনেও গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা। পাশাপাশি গ্রেপ্তার আসামিদের জামিন না দিয়ে দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষ করার দাবি জানান তাঁরা।

মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আদালত চত্বরে দাঁড়ানোর মূল উদ্দেশ্য হলো, আসামিদের যেন জামিন না হয় এবং মাননীয় বিচারক যেন তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি চরভদ্রাসন থানার ওসিকে অনুরোধ জানাই, বাকি তিনজনকে দ্রুত গ্রেপ্তার করার জন্য।’

চরভদ্রাসন থানা সূত্রে জানা যায়, মামলা দায়েরের পর রাতেই অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁরা হলেন—নিখোঁজ আসমা বেগমের ছেলে শামীম হোসেন (২৫), মেয়ে ইয়াছমিন আক্তার (৩৪), পাশের ওকেল মাতুব্বরের ডাঙ্গী এলাকার আক্কাস মোল্যা (৬০) এবং তাঁর ছেলে জুলহাস মোল্যা (৩৫)।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চরভদ্রাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক বলেন, ‘এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাকি তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত