Ajker Patrika

জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থান দেখাতেই ছবি: ডাকসু জিএস

ঢাবি প্রতিনিধি
আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ২৭
জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থান দেখাতেই ছবি: ডাকসু জিএস
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। তাঁর দাবি, ভাষা আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরতেই জিন্নাহর ছবি ও তাঁর বাংলা ভাষাবিরোধী বক্তব্য সংগ্রহশালায় প্রদর্শন করা হয়েছে।

আজ সোমবার বিকেলে ডাকসু আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলেন ফরহাদ।

এস এম ফরহাদ বলেন, ‘১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন হঠাৎ করে সংঘটিত হয়নি। এর আগে ধারাবাহিকভাবে অনেক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল। জিন্নাহ সরাসরি বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন—পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। তাঁর সেই বক্তব্য আমরা ভাষা আন্দোলনের পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করেছি। ছবির নিচে ইংরেজিতে তাঁর বক্তব্যের সরাসরি উদ্ধৃতিও দেওয়া হয়েছিল।’

ডাকসু জিএস বলেন, ‘আমরা যদি জিন্নাহর ছবি এবং তাঁর “উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা”—এই বক্তব্য-সংবলিত ক্যাপশনটি না দিতাম, তাহলে হয়তো বলা হতো, জিন্নাহ যে বাংলা ভাষার বিরোধিতা করেছিলেন, আমরা তা লুকিয়েছি কিংবা তাঁকে দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছি। অথচ এখন ছবি ও ক্যাপশন দেওয়ার পর সেটির বিরোধিতা করা হচ্ছে।’

ছাত্রদলের প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করে ডাকসু জিএস বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, ছাত্রদল পক্ষান্তরে জিন্নাহর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা ছবিটি সরিয়ে নিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে। এর অর্থ দাঁড়ায়, জিন্নাহ যে বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেই ইতিহাস তারা আড়াল করতে চায়। আমরা সেখানে সঠিক ইতিহাসই তুলে ধরেছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয় হতে পারে—হয় তারা ইতিহাস জানে না এবং পড়াশোনা করেনি, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে জিন্নাহর ভূমিকা আড়াল করার চেষ্টা করছে। সম্ভবত জিন্নাহর প্রতি তাদের আলাদা প্রীতি রয়েছে।

এদিকে জিন্নাহর ছবি ভাঙচুরের ঘটনায়ও মন্তব্য করেন এস এম ফরহাদ। তিনি বলেন, ‘আজ একজন শিক্ষার্থী ছবিটি ভেঙেছেন বলে দেখলাম। শুনেছি, তিনি উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী। আমরা ছবি ও ক্যাপশনের মাধ্যমে দেখিয়েছি যে, জিন্নাহ উর্দুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। সম্ভবত ওই শিক্ষার্থী চান না, উর্দুর বিষয়ে জিন্নাহর সেই অবস্থান মানুষ জানুক। এ কারণেই তিনি ছবিটি ভেঙে থাকতে পারেন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত