Ajker Patrika

ডাকসু সংগ্রহশালায় যুক্ত হলো জিন্নাহ, নেই শেখ মুজিবুর রহমানের একক ছবি

ঢাবি প্রতিনিধি
ডাকসু সংগ্রহশালায় যুক্ত হলো জিন্নাহ, নেই শেখ মুজিবুর রহমানের একক ছবি
নতুন করে সংস্কারের পর সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি স্থান পেয়েছে। সংস্কারের পর নতুন করে সাজানো সংগ্রহশালায় জিন্নাহর তিনটি ছবি দেখা গেছে। তবে সেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো একক ছবি চোখে পড়েনি। মুক্তিযুদ্ধের একটি ম্যুরাল বা খোদাইচিত্রে শুধু তাঁর অবয়ব দেখা গেছে। এ ছাড়া শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ের আর্টওয়ার্ক থাকার দাবি করেছেন ডাকসুর সংশ্লিষ্ট সম্পাদক।

আজ সোমবার দুপুরে ডাকসু ভবনের নিচতলায় সংস্কার করা সংগ্রহশালাটি ঘুরে এসব চিত্র দেখা যায়। গতকাল রোববার মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা সংগ্রহশালাটির উদ্বোধন করেন। এ সময় ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংগ্রহশালায় জিন্নাহর যে তিনটি ছবি রাখা হয়েছে, তার একটি ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে তাঁর দেওয়া বক্তব্যের সময়কার। ওই অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নিয়ে তিনি বক্তব্য দিয়েছিলেন। আরেকটি ১৯৪০ সালের লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সম্মেলনের গ্রুপ ছবি। তৃতীয়টি ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে পাকিস্তানের ডন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের পেপার কাটিং।

তবে জিন্নাহর ব্যক্তিচিত্র হিসেবে তাঁর ছবি সংগ্রহশালায় রাখা হয়নি বলে জানিয়েছেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সে সময় জিন্নাহকে ঘিরে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন ইভেন্ট প্রাসঙ্গিক ভাবে সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাই জিন্নাহর ব্যক্তিচিত্র হিসেবে নয়, বরং ওই সময়ের ইভেন্টের প্রতীকী উপস্থাপন হিসেবে তাঁর ছবি সংগ্রহশালায় রাখা হয়েছে।’

প্রথমবারের মতো ডাকসুর সংগ্রহশালায় স্থান পেয়েছে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি। ছবি: সংগৃহীত
প্রথমবারের মতো ডাকসুর সংগ্রহশালায় স্থান পেয়েছে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি। ছবি: সংগৃহীত

সংগ্রহশালায় শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, ছয় দফা আন্দোলনসহ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের আর্টওয়ার্ক রয়েছে বলে দাবি করেছেন জুমা। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে একাত্তরের ৭ মার্চের আর্টওয়ার্ক সংগ্রহশালায় রাখা হয়েছে।’

তবে আজ সংগ্রহশালা ঘুরে শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ম্যুরাল ছাড়া কোনো একক ছবি দেখা যায়নি। মুক্তিযুদ্ধের অংশে একটি ম্যুরাল বা খোদাইচিত্রে তাঁর অবয়ব দেখা গেছে। এ ছাড়া ১৯৭৪ সালে তাঁর দুই ছেলে শেখ কামাল ও শেখ জামালের বিয়ের ছবি এবং তাঁর ছবি সংবলিত কয়েকটি সংবাদপত্রের কাটিং রয়েছে।

সংস্কারের পর সংগ্রহশালায় ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও গণ-আন্দোলনের ছবি স্থান পেয়েছে।

ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন দৃশ্য, আন্দোলনের সংগঠক পিয়ারু সরদারের ছবি এবং মাহবুব উল আলম চৌধুরীর ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতার উল্লেখ রয়েছে সেখানে।

মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরের কমান্ডার, পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী এবং সাত বীরশ্রেষ্ঠের ছবিও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আবদুল হামিদ খান ভাসানী, এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, এম এ জি ওসমানী, নবাব সলিমুল্লাহ, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ছবিও রয়েছে।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অংশে শহীদ নূর হোসেনের আলোচিত ছবি, ডাকসুর আন্দোলনের বিভিন্ন দৃশ্য এবং ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত আন্দোলনে নিহতদের তালিকা রাখা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত