Ajker Patrika

ক্রিপ্টো কোটিপতিদের দেশ হতে চায় ‘লিবারল্যান্ড’—আবেদন ৮ লাখের বেশি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ২৪
ক্রিপ্টো কোটিপতিদের দেশ হতে চায় ‘লিবারল্যান্ড’—আবেদন ৮ লাখের বেশি
লিবারল্যান্ডের পাসপোর্ট হাতে এক নাগরিক। ছবি: ডেইলি মেইল

দানিউব নদীর তীরে কাদামাটির বন্যাপ্রবণ একটি ছোট ভূখণ্ডকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা স্বঘোষিত মাইক্রোরাষ্ট্র ‘লিবারল্যান্ড’। অখ্যাত এই রাষ্ট্রেরই নাগরিক হতে আবেদন করেছেন ৮ লাখের বেশি মানুষ! দেশটির প্রতিষ্ঠাতা ও স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট ভিট জেডলিচকা দাবি করেছেন, এখন পর্যন্ত নাগরিকত্বের জন্য ৮ লাখ ৪ হাজার আবেদন জমা পড়েছে।

শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানায়,

সার্বিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার সীমান্তে অবস্থিত প্রায় ৭ বর্গকিলোমিটারের জনমানবহীন এই ভূখণ্ডটি ২০১৫ সালে ‘ফ্রি রিপাবলিক অব লিবারল্যান্ড’ নামে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেন জেডলিচকা। তাঁর লক্ষ্য ছিল ব্লকচেইন প্রযুক্তিনির্ভর একটি উদারপন্থী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা—যেখানে কর ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকবে অত্যন্ত সীমিত। দেশটির মূলমন্ত্র, ‘বাঁচো এবং অন্যকেও বাঁচতে দাও।’

লিবারল্যান্ডের দাবি, বর্তমানে সেখানে নিবন্ধিত নাগরিকের সংখ্যা ১ হাজার ২৬২-এর বেশি। রয়েছে নিজস্ব পাসপোর্ট, ‘লিবারল্যান্ডিশ’ নামের সরকারি ভাষা এবং ‘লিবার্টি’ নামে একটি নৌবাহিনী। চলতি মাসের শেষ দিকে দেশটিতে কংগ্রেস নির্বাচনেরও আয়োজন করা হচ্ছে।

প্রচলিত করব্যবস্থার বদলে লিবারল্যান্ডে রয়েছে স্বেচ্ছামূলক মাসিক অনুদান। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করের চেয়ে উন্নত এবং এর মাধ্যমে নাগরিকেরা রাষ্ট্রের ‘সহ-মালিক’ হতে পারেন। নাগরিকেরা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে এই অর্থ প্রদান করেন। ‘লিবারল্যান্ড ডলার’ ব্যবহার করা হয় মূলত অর্থ লেনদেন ও নেটওয়ার্ক ফি পরিশোধে, আর ‘লিবারল্যান্ড মেরিট’ ব্যবহৃত হয় ভোট ও আইন প্রণয়নে। বিটকয়েনের বিনিময়ে দুটি টোকেনই কেনা যায়।

নাগরিকদের অবদানের ভিত্তিতে ব্রোঞ্জ থেকে ডায়মন্ড পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাজ দেওয়া হয়। মাসিক রেটিং প্রকাশের মাধ্যমে ‘চরম স্বচ্ছতা’ নিশ্চিত করার কথা বলেছে কর্তৃপক্ষ। অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এমন আবেদনকারীদের দ্রুত নাগরিকত্ব দিতে শিগগির একটি অ্যাপ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিকভাবে লিবারল্যান্ড এখনো কোনো রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পায়নি। ভূখণ্ডটিতে অবকাঠামোও সীমিত। এরই মধ্যে প্রায় ২০০টি কোম্পানি নিবন্ধিত হয়েছে এবং ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে সেখানে একটি ছোট স্থায়ী বসতি চালু রয়েছে। প্রথম বাড়ি, মৌলিক অবকাঠামো ও মেরিনা সুবিধাও তৈরি করা হয়েছে।

ভূখণ্ডটি নিয়ে সার্বিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। যুগোস্লাভিয়া ভেঙে পড়া এবং ১৯৯০-এর দশকের বলকান যুদ্ধের পর সীমান্ত নিয়ে বিরোধ আরও জটিল হয়। ২০১৫ সালে লিবারল্যান্ড প্রতিষ্ঠার সময় ক্রোয়েশিয়া সীমান্তরক্ষী ও টহল নৌকা মোতায়েন করে, আর সার্বিয়াও সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা ঠেকায়।

লিবারল্যান্ডের উদ্যোগটি ধনী প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের বিকল্প রাষ্ট্র বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার বৃহত্তর প্রবণতার অংশ। হন্ডুরাসেও পেপ্যালের সহপ্রতিষ্ঠাতা পিটার থিয়েলের আর্থিক সহায়তায় ‘প্রোসপেরা’ নামের বেসরকারি শহর গড়ে উঠছে। ভেনেজুয়েলায় তৈরি হচ্ছে একটি ‘ক্রিপ্টো সিটি’, আর নরওয়েতে গড়ে উঠছে সদস্যভিত্তিক বেসরকারি শহর ‘লিবারস্ট্যাড’।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত