Ajker Patrika

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অস্বীকারকারীদের পাকিস্তান চলে যেতে বললেন ফজলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ২১: ৫২
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অস্বীকারকারীদের পাকিস্তান চলে যেতে বললেন ফজলুর রহমান
বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকের স্মরণে আয়োজিত নাগরিক স্মরণসভায় ফজলুর রহমান। ছবি: আজকের পত্রিকা

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অস্বীকারকারীদের পাকিস্তানে চলে যেতে বলেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ কিন্তু হয়েছে। অবিশ্বাস করলে পাকিস্তানে যান। যারা বাংলাদেশ স্বীকার করে না, তারা পাকিস্তানে যান।’

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকের স্মরণে আয়োজিত নাগরিক স্মরণসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘একটি পক্ষ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে ভারতের ষড়যন্ত্র হিসেবে প্রচার করছে। অথচ মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় ও খাবার দিয়েছে। অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করেছে। ভারতের সহযোগিতা ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতো। এ ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ভারতীয় সেনারাও প্রাণ দিয়েছেন।’

মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেন, যুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রতিবাদ করায় তাঁকে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাঁর বাসা ঘেরাও করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে নিরাপত্তা দেয়।

দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও অর্জন রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি আপনাদের আশীর্বাদে আর পাঁচটা বছর বাঁচতে চাই। আমি বাংলাদেশটাকে দেখে যেতে চাই, এটা কি বাঙালির বাংলাদেশ থাকবে, নাকি রাজাকারদের পাকিস্তান—এটা দেখে যেতে চাই।’

সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। অথচ আজ মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির উত্থান তাঁকে উদ্বিগ্ন করছে।

ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি বলেন, হিন্দু-মুসলমানের ধর্ম আলাদা হলেও বাঙালি হিসেবে তাঁদের পরিচয় এক। ধর্ম পালনের স্বাধীনতা সবার রয়েছে। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের সংকট ও প্রয়োজনগুলো সবার জন্যই একই। বাজারে চাল, ডাল কিংবা চায়ের দাম হিন্দু-মুসলমানের জন্য আলাদা নয়। তাই ধর্মীয় বিভাজন নয়, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

ফজলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং মা-বোনের সম্ভ্রম রয়েছে। এই আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে বাংলা ও বাঙালির সংস্কৃতির পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও আদিবাসীদের সংস্কৃতিকেও সমৃদ্ধ করতে হবে।

ফজলুর রহমান আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই চার মূলনীতি পুনরুদ্ধার করতে হবে। অন্যথায় সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ও বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর প্রচেষ্টা দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে ব্যর্থ করে দেবে।

প্রয়াত অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, নিম চন্দ্র ভৌমিক আজীবন মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের পক্ষে কাজ করেছেন। কখনো সশস্ত্রভাবে, কখনো নিরস্ত্রভাবে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লড়াই করে গেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত