Ajker Patrika

ঘুষের লাখ টাকাসহ দুদকের হাতে সোনাগাজীর পিআইও আটক

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি 
ঘুষের লাখ টাকাসহ দুদকের হাতে সোনাগাজীর পিআইও আটক
ঘুষের টাকাসহ আটক মো. আল সাঈদ ও কার্য সহকারী আবু নাছের। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঘুষের এক লাখ টাকাসহ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সদস্যদের হাতে আটক হয়েছেন ফেনীর সোনাগাজীর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও কার্য সহকারী।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সোনাগাজী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাঁদের আটক করা হয়।

জানা গেছে, হুমায়ুন কবির রানা নামের একজন ঠিকাদারের থেকে ঘুষের এক লাখ টাকা নেওয়ার সময় দুদকের হাতে আটক হন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আল সাঈদ ও কার্য সহকারী আবু নাছের।

ঘুষের টাকাসহ আটক মো. আল সাঈদ ও কার্য সহকারী আবু নাছের। ছবি:  আজকের পত্রিকা
ঘুষের টাকাসহ আটক মো. আল সাঈদ ও কার্য সহকারী আবু নাছের। ছবি: আজকের পত্রিকা

দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে দুদকের একটি টিম এই অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় উপসহকারী পরিচালক চিন্ময় চক্রবর্তী, জাহেদ আলম ও কোর্ট পরিদর্শক মো. ইদ্রিস উপস্থিত ছিলেন।

দুদক জানায়, মো. হুমায়ুন কবির গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনে নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক বরাবর এই মর্মে একটি অভিযোগ দাখিল করেন যে তিনি সোনাগাজী উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অধীন পাঁচটি প্রকল্পের কাজ কন্ট্রাক্টে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করেন। প্রকল্পসমূহের কাজ সম্পন্ন করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসে বিল দাখিল করেন। কিন্তু বিল প্রদানের শর্ত হিসেবে সোনাগাজী উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আল-সাঈদ তাঁর কাছে ১২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষের টাকা প্রদান না করলে তিনি বিল পরিশোধ করবেন না মর্মে জানিয়ে দেন। ফলে বাধ্য হয়ে আসামি মো. আল-সাঈদকে তিনি ১২ লাখ টাকা ঘুষের প্রথম কিস্তি হিসাবে এক লাখ টাকা দিতে রাজি হই।

তুলিতুষি ট্রেডার্সের সাবকন্ট্রাক্টর হুমায়ুন কবির রানা বলেন, ‘পাঁচটি সেতুর কাজ করা শেষ হলে তিনি আমাকে ১২ লাখ টাকা দিতে বলেন। টাকা না দেওয়ায় আমার বিল আটকে রেখেছেন। তারপর বাধ্য হয়ে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা প্রদান করি। বিষয়টি আমি দুদককে অবগত করি। পরে বাকি এক লাখ টাকা নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরে।’

দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক (সমন্বিত জেলা) ফারুক আহমেদ বলেন, ‘বিভিন্ন সময় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ১১টা থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান করি এবং হাতেনাতে টাকাসহ দুজনকে আটক করি।’

সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমা বলেন, ‘আমি অফিসের বাইরে। শুনেছি অনিয়মের অভিযোগে এক লাখ টাকাসহ দুজনকে আটক করেছে দুদক।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত