Ajker Patrika

কাউনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত যুবকের মৃত্যু, মামলা

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি
কাউনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত যুবকের মৃত্যু, মামলা
নিহত পলাশ মিয়া। ছবি: আজকের পত্রিকা

রংপুরের কাউনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত যুবক পলাশ মিয়া (২৭) মারা গেছেন। আজ বুধবার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ হাসপাতাল থেকে নিহত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ ব্যাপারে হারাগাছ থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

নিহত পলাশ মিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের আরাজি বিরচরণ গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে।

পুলিশ ও নিহত পলাশের স্বজনেরা জানায়, পলাশদের অংশীদারি সম্পত্তির এক শতাংশ জমি তাঁর চাচা একই এলাকার জাফরের কাছ থেকে গোপনে ক্রয়ের চেষ্টা করেন একই এলাকার মোজাহার আলী। পরে ১০ আগস্ট (সোমবার) সন্ধ্যায় সাহেবগঞ্জ বাজারে মোজাহারের কাছে জমি ক্রয়ের বিষয়ে জানতে চান পলাশ। এতে ক্ষিপ্ত হন মোজাহার। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে চাচা জাফর সেখানে গিয়ে পলাশকে চড়-থাপ্পড় দেন। এরই মধ্যে মোজাহার বাগ্‌বিতণ্ডার বিষয়টি তাঁর দুই ছেলে সাব্বির, সজিবসহ আত্মীয়দের জানান। পরে রাতে পলাশ ও তাঁর মা সাহেবগঞ্জ মাছের বাজারে এক ব্যক্তির কাছে টাকার জন্য যান। সেখানে মোজাহারের আত্মীয় সোনা মিয়া প্রথমে পলাশকে মারধর করেন। আত্মরক্ষায় পলাশ সেখান থেকে দৌড়ে তিনমাথা মোড়ে বাজারে যান। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা মোজাহার ও তাঁর ছেলেরাসহ কয়েকজন যুবক লোহার রড, এসএস পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পলাশকে মারধর করেন। চিৎকারে ছেলেকে বাঁচাতে পলাশের মা ও মেজ ভাই আশরাফুল এগিয়ে গেলে তাঁদেরও মারধর করেন মোজাহারের লোকজন। পরে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর আহতাবস্থায় পলাশকে উদ্ধার করে প্রথমে হারাগাছ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পলাশকে গত সোমবার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোর ৫টার দিকে পলাশের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন।

নিহত পলাশের স্বজনদের দাবি—মোজাহার, তাঁর দুই ছেলে ও আত্মীয়রা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পলাশের মাথা, মুখ, হাত, পা, বুক, পিঠ ও কোমরে মারধর করেন। এতে মাথা ও কিডনিতে প্রচণ্ড আঘাতের কারণে পলাশ মারা গেছেন।

পলাশের মা আকলিমা খাতুন বলেন, ‘ছেলে শুধু জানতে চেয়েছিল, তাঁদের অংশীদারি জমি কেন চাচার কাছ থেকে গোপনে ক্রয়ের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। জানতে চাওয়া কি আমার ছেলের অপরাধ ছিল? আর এ জন্য আমার সামনে ছেলেটাকে নির্মমভাবে মারধর করেছে তারা।’

আকলিমা আরও বলেন, ‘সে সময় বাজারে শত শত লোক ছিল কেউ এগিয়ে আসেনি। প্রতিবাদ করলে হয়তো আমার ছেলেটা বেঁচে যেত। আট বছর বয়সের একটি নাতনি আছে, তার কী হবে এখন?’ ছেলের হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রংপুর মেট্রোপলিটনের হারাগাছ থানার পরিদর্শক (ওসি) অশোক চৌহান বলেন, আরপিএমপি সহকারী কমিশনার (মাহিগঞ্জ জোন) মো. অলিউর রহমান দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ব্যাপারে নিহত পলাশের বড় ভাই বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত