Ajker Patrika

বিদ্যুৎ লাইনের ‘সুরক্ষা’র বলি মহাসড়কের পাশের গাছ

শিপুল ইসলাম, রংপুর 
বিদ্যুৎ লাইনের ‘সুরক্ষা’র বলি মহাসড়কের পাশের গাছ
মহাসড়কের পাশের গাছের ডালপালা কেটে ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

রংপুরের তারাগঞ্জ থেকে পাগলাপীর পর্যন্ত রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে থাকা গাছের ডালপালা কেটে ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ লাইনের সুরক্ষার কথা বলে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কর্মীরা এসব গাছের ডালপালা কেটেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই এমনভাবে গাছ কাটায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত তিন দিন ধরে মহাসড়কের দুই পাশে বিদ্যুৎ লাইনের কাছাকাছি থাকা গাছের ডালপালা কাটা হচ্ছে। কাটা ডালপালা স্থানীয়দের কাছে কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ডালপালার পাশাপাশি অনেক অপ্রয়োজনীয় ডালও কেটে ফেলায় গাছগুলোর স্বাভাবিক আকৃতি নষ্ট হচ্ছে। ন্যাড়া করে দেওয়া এসব গাছ পরে শুকিয়ে গেলে সেগুলো রাতের আঁধারে কেটে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানার সামনে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা শাহিনুর ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গাছের ডালপালা কম দামে স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। এ জন্য পুরো গাছ ন্যাড়া করে ফেলা হচ্ছে। পরে গাছ শুকিয়ে গেলে রাতের আঁধারে একটি চক্র সেগুলো তুলে নিয়ে যায়। অথচ এসব দেখার কেউ নেই।’

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবেশবাদী সংগঠন রিভারাইন পিপলের পরিচালক তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ লাইনের জন্য যে ডালগুলো কাটা প্রয়োজন, শুধু সেগুলোই কাটা উচিত। কিন্তু অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় ডালও কেটে ফেলা হয়। এভাবে গাছের ক্ষতি করা পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর।’

তারাগঞ্জের বন কর্মকর্তা মো. আখতারুল ইসলাম বলেন, ‘গাছ কাটার কোনো কাগজপত্র বা অনুমতি নেই। অনেক বাধা দেওয়া হলেও তারা মানেন না। ডালপালা সব কেটে শুধু গোড়াটা রেখে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে করে আসছে।’

তবে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জোনাল ম্যানেজার মো. মনোয়ারুল ইসলাম ফিরোজী বলেন, ‘বিভিন্ন সড়কে গাছের ডালপালা কাটা হচ্ছে। লাইনের কাছাকাছি চলে আসা বা বিদ্যুৎ সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন ডালপালাই কাটার কথা। পুরো গাছ কাটার কথা নয়। এমন ঘটনা হলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হবে।’

মনোয়ারুল ইসলাম আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎ লাইনের দুই পাশে নির্দিষ্ট দূরত্বে গাছ না থাকার বিধান রয়েছে। তবে কোনো গাছ ব্যক্তি মালিকানাধীন, সামাজিক বনায়নের নাকি বন বিভাগের—এটার ধারণা তো আমার কাছে ঠিকমতো নেই।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত