Ajker Patrika

আরএসআরএমের কারখানা উচ্ছেদ করল চা বোর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮: ৪০
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হুসাইন মোহাম্মদের নেতৃত্বে আজ আরএসআরএম গ্রুপের একটি কারখানা উচ্ছেদ করে সীমানা প্রাচীর দেওয়া হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হুসাইন মোহাম্মদের নেতৃত্বে আজ আরএসআরএম গ্রুপের একটি কারখানা উচ্ছেদ করে সীমানা প্রাচীর দেওয়া হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রামে ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আরএসআরএম গ্রুপের একটি কারখানা উচ্ছেদ করেছে বাংলাদেশ চা বোর্ড। দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া পরিশোধ না করা, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জমি দখলে রাখা ও উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ এলাকায় অবস্থিত মডার্ন স্টিল মিলস লিমিটেড নামের কারখানাটি আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হুসাইন মোহাম্মদের নেতৃত্বে উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্র জানায়, বায়েজিদ শিল্প এলাকায় চা বোর্ডের মালিকানাধীন প্রায় ৬৫ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখলে রেখে কারখানাটি পরিচালনা করা হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক জমিটি দখলে রাখা হয়। একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি জায়গা ছাড়েনি।

চা বোর্ডের তথ্যমতে, ২০০৮ সালে মডার্ন স্টিল মিলস লিমিটেড ভাড়ার ভিত্তিতে ওই জমি নেয়। পরে ২০১৮ সালে চার বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জমিটি খালি করে দেওয়ার কথা ছিল। সেখানে চা বোর্ডের প্রধান কার্যালয় ও আবাসন প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কারখানা কর্তৃপক্ষ জমি ছাড়েনি। চা বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, ভাড়া বাবদ প্রতিষ্ঠানটির কাছে প্রায় ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। গত প্রায় চার বছরে একাধিকবার লিখিত নোটিশ দেওয়া হলেও বকেয়া পরিশোধ বা জমি হস্তান্তরের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

চা বোর্ডের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বকেয়া আদায়ের উদ্যোগ নিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেওয়া হয় এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখানো হয়। এসব কারণে দীর্ঘদিন ধরে জমি উদ্ধার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।

গত বছরের ১ জুন উচ্চ আদালত এক মাসের মধ্যে সব বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেন। তবে আদালতের আদেশের সাত মাস পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটি কোনো অর্থ পরিশোধ করেনি। আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষার বিষয়টিও উচ্ছেদের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছে চা বোর্ড।

এদিকে আরএসআরএম গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। ঋণের ভার, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ও ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের সংকটে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে গ্রুপটির দুটি কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত মেসার্স রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড—যা আরএসআরএম নামে পরিচিত—একসময় বছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার ব্যবসা করত। এতে প্রায় ৮০০ শ্রমিক কর্মরত ছিলেন।

বর্তমানে গ্রুপটির কাছে ১০টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ আটকে রয়েছে। এসব ঋণ আদায়ে এ পর্যন্ত অন্তত ৩০টি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোতে গ্রুপটির কর্ণধারদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, পাসপোর্ট জব্দ ও সম্পত্তি নিলামের আদেশ রয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আরএসআরএম গ্রুপের পরিচালক মারজানুর রহমানের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্রে সড়কপথে জয়শঙ্করের ৪০০ মাইলের রুদ্ধশ্বাস যাত্রা, নেপথ্য কাহিনি

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: মূল নকশার বাইরে চারটি র‍্যাম্প নির্মাণের ভাবনা

ওয়াশিংটন সফরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, যা আলোচনা হলো মার্কিনদের সঙ্গে

আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প

পাবনা ১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিত

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত