Ajker Patrika

সিবিএর তিন নেতাকে নিয়ে ‘নমনীয়’ কর্তৃপক্ষ

  • ১১ দিন জেল খাটায় ১৯৯৯ সালে চার কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়।
  • দীর্ঘদিন ধরে সিবিএর সভাপতি-সম্পাদক জেল খাটলেও নেওয়া হয়নি ব্যবস্থা।
সবুর শুভ, চট্টগ্রাম    
সিবিএর তিন নেতাকে নিয়ে ‘নমনীয়’ কর্তৃপক্ষ

একটি ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ১১ দিন জেল খেটেছিলেন যমুনা অয়েল কোম্পানির চার কর্মচারী। ১৯৯৯ সালের সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বরখাস্ত করা হয় তাঁদের। তবে এখন আর আগের সেই অবস্থানে নেই সরকারি এ প্রতিষ্ঠান। ৮ মাস আগে ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন কোম্পানির শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি মো. আবুল হোসেন; একই ধরনের মামলায় দুই মাস ধরে কারাগারে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এয়াকুব এবং কার্যকরী সভাপতি, ফতুল্লা ডিপোর ম্যানেজার জয়নাল আবেদীন টুটুল ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর লাপাত্তা। তবে প্রভাবশালী এই তিন নেতার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যমুনার শক্তিধর সিবিএ নেতা হিসেবে তিনজনের আলাদা পরিচিত আছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁরা শ্রমিক লীগ করলেও এখন শ্রমিক দলে ভিড়েছেন। তিনজনের নামে জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে মামলা রয়েছে। সেই মামলায় আবুল হোসেন ও এয়াকুব কারাগারে আছেন। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। যদিও সরকারি চাকরি আইন-২০১৮-এ বলা হয়েছে, কোনো কর্মচারী দেনার দায়ে কারাগারে আটক থাকলে অথবা কোনো ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হলে বা তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গৃহীত হলে, সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ আটক, গ্রেপ্তার বা অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন হতে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারবে।

তবে বাস্তবতা ভিন্ন। গত বছরের ২০ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার সিমেন্ট ক্রসিং এলাকা থেকে সিবিএ সভাপতি আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে জুলাই-আগস্টে আন্দোলন চলাকালে সহিংসতার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। গত ১২ ডিসেম্বর নগরের ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ এলাকা থেকে সাধারণ সম্পাদক এয়াকুব গ্রেপ্তার হন। তাঁকেও একই ধরনের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। এই দুজনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এদিকে যমুনা তেল কোম্পানির চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী জয়নাল আবেদীন ওরফে টুটুলও বর্তমানে কর্মস্থলে নেই। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি জ্বালানি তেল চুরিসহ দুর্নীতি এবং অবৈধ আয়ে জমি, ফ্ল্যাটসহ অনেক সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি এক দশক ধরে যমুনা অয়েল কোম্পানি লেবার ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি। ইউনিয়নের কার্যালয় শুধু চট্টগ্রামে হলেও তিনি ফতুল্লার ডিপোতে ইউনিয়নের নামে নিজের একটি কার্যালয়ও বানিয়েছেন। বিগত সরকারের সময় নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ হন তিনি। গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি লাপাত্তা হয়ে যান। এই বিষয়ে জয়নাল আবেদীন টুটুলের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তাঁর বিরুদ্ধেও নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে যমুনা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আমীর মাসুদ বলেন, ‘তিনজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত