Ajker Patrika

ঝিকরগাছায় আলু চাষ: বাম্পার ফলনেও লোকসান

  • ২০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ
  • বিঘাপ্রতি আলু চাষে ৫-৭ হাজার টাকা লোকসানের দাবি কৃষকের
  • ডায়মন্ড ও কার্ডিনাল আলু বেশি চাষ
  • ১০ টাকা কেজি দরে কিনছেন পাইকার ব্যবসায়ীরা
মাসুদুর রহমান মাসুদ, ঝিকরগাছা (যশোর)
ঝিকরগাছায় আলু চাষ: বাম্পার ফলনেও লোকসান
যশোরের ঝিকরগাছার নারাঙ্গালী মাঠে আলু প্যাকেজিংয়ে ব্যস্ত কৃষক। ছবিটি সম্প্রতি তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

যশোরের ঝিকরগাছায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও মুখে হাসি নেই কৃষকের। তাঁরা বলছেন, পাইকারি বাজারে আলুর দাম কম হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ছেন তাঁরা। বিঘাপ্রতি আলু চাষে ৫-৭ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁদের। বাজারের ব্যবসায়ীরাও বলছেন, বাজারে আলুর তেমন চাহিদা নেই।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব মতে, চলতি বছর এই উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৫০ হেক্টর জমি। চাষ হয়েছে ২০০ হেক্টর জমিতে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় আলু চাষে কৃষকের তেমন বেগ পেতে হয়নি। বিশেষ করে চাষের শুরুতে বৃষ্টিপাত না হওয়ায়, সহনীয় পর্যায়ে শীত ও ঘন কুয়াশা বেশি দিন না থাকায় আলুর ফলন ভালো হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে বীজ আলুর দাম একটু কম থাকায় এবার খরচও অন্য বছরের তুলনায় কিছুটা কম হয়েছে। এ বছর ডায়মন্ড ও কার্ডিনাল আলু বেশি চাষ হয়েছে। এসবের পাশাপাশি বেনেলা, মালটা, স্টিকসহ কয়েকটি জাতের আলু কমবেশি চাষ হয়েছে।

কৃষকেরা জানান, লাগানোর ৯০ দিন পর আলু ওঠাতে হয়। তবে যাঁরা বীজের জন্য চাষ করেন তাঁরা ৭৫ দিনের মাথায় ওঠাতে পারেন। অবশ্য তাঁদেরকে চাষ শুরু করতে হয় অপেক্ষাকৃত পরে। ইতিমধ্যে চাষিরা আলু ওঠাতে শুরু করেছেন। তবে বাজারে আলুর কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে কৃষকেরা হতাশ হয়ে পড়ছেন।

সরেজমিনে কথা হয়, নারাঙ্গালী গ্রামের আলুচাষি আবু হেনার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এ বছর দুই বিঘা জমিতে ডায়মন্ড জাতের আলু চাষ করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে ৩৫ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। আলুর ফলন পেয়েছি ১০০ মণ বিঘাপ্রতি।’ আবহাওয়া অনুকূলের কারণে ফলন ভালো হলেও দাম না থাকায় লোকসানের হয়েছে। আবু হেনা আরও বলেন, ‘পাইকারি বাজারে প্রতি মণ আলু বিক্রি করেছি ৫৬০ টাকা। জমি নিজেদের হওয়ায় লোকসান না হলেও কোনো লাভ হয়নি। তবে বর্গাচাষিদের মাথায় হাত।’

বেনেয়ালী গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর এক বিঘা জমিতে ডায়মন্ড জাতের আলু চাষ করেছি। খুব ভালো ফলন পেয়েছি। এক বিঘা এক শতক জমির আলুর ফলন পেয়েছি ১১৮ মণ। প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১৫ টাকার ওপরে। পাইকারি বাজারে তা বিক্রি করেছি ১৪ টাকা কেজি দরে। এ বছর ফলন ভালো হলেও

দামের কারণে লোকসান গুনতে হচ্ছে। সে হিসেবে প্রতি বিঘা জমিতে ৫-৭ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।’

ঝিকরগাছার আলু ব্যবসায়ী মো. মোস্তাক আহমেদ জানান, প্রতিদিন আলুর দাম কমছে। বাজারে আলুর তেমন চাহিদা নেই। আজ দুই দিন আলু পাইকারি কেনা হচ্ছে ১০ টাকা করে কেজি। তারপরও আলু তেমন কোনো কেনাবেচা নেই বাজারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর আলুর ফলন ভালো হলেও কৃষক দাম না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। লাগাতার ফসলের দাম না পাওয়ায় কৃষক চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এটা শুধু কৃষকের জন্য না দেশের জন্যও খারাপ।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত