
খাগড়াছড়ির প্রতিটি উপজেলা কৃষিনির্ভর জনপদ। এখানে গ্রীষ্মকালীন ফল আম্রপালির পাশাপাশি বিদেশি বিভিন্ন জাতের সুস্বাদু আম চাষের খ্যাতি রয়েছে। মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পার্বত্য জেলাটিতে কাঁঠাল, লিচু, আনারসও ভালো উৎপাদিত হচ্ছে। কিন্তু এবার ভরা মৌসুমে এসব ফলের দাম নিয়ে হতাশ কৃষকেরা। অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে একই সময় বাজার ধরতে না পারা এবং ঈদের ছুটিতে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ী কম আসায় কৃষকেরা লোকসানের শঙ্কা করছেন।
জেলার একমাত্র প্রতিদিনের জমজমাট কাঁচাবাজার মানিকছড়ি উপজেলার তিনটহরী বাজার। বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎপাদিত ফল নিয়ে পাইকারি বিক্রির জন্য কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এই হাটে আসেন। কিন্তু আশানুরূপ বড় পাইকারি ব্যবসায়ী না আসায় ফলের বিক্রি কম। প্রতিবছর ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এলেও এবার তা কমে গেছে।
এর কারণ হিসেবে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, জেলার আম বাজারে উঠতে দেরি হওয়ায় এই ফাঁকে অন্য অঞ্চলের আম সারা দেশের বাজার দখল করে নিয়েছে। ফলে ঢাকা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এত দূরে আর ফল কিনতে আসতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে বিক্রি কম হওয়ায় ফলের দামও কমে গেছে।
আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর আমের ভরা মৌসুমে খাগড়াছড়িতে আম্রপালি প্রথম পর্যায়ে প্রতি মণ পাইকারি ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। থাইল্যান্ডের কিউজাই ও ব্যানানা আম বিক্রি হয়েছিল প্রতি মণ ৪ হাজার ৮০০ টাকায়। কিন্তু এবার প্রতি মণ আম্রপালি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। আর কিউজাই ও ব্যানানার মণ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে তিনটহরী বাজার ঘুরে কৃষক, আড়তদার ও পাইকারদের সঙ্গে কথা জানা গেছে, বাজারটি প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে সরগরম থাকে। চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে এই হাট বসায় পরিবহন ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ। এখান থেকে ফল নিয়ে বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় সহজে যাতায়াত করা যায়। প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দেড় কোটি টাকার ফল বেচাকেনা হয় এই হাটে। গড়ে ১৮-২০ হাজার ক্যারেট (এক ক্যারেটে ২৫-২৬ কেজি) আম বাজারে ওঠে। ছোট-বড় শতাধিক ট্রাক, পিকআপ ভ্যানে বিক্রীত আম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়।
জানা গেছে, বিগত সময়ে পাহাড়ে কিছুটা ধীরে ধীরে আম পরিপক্ব হলেও এবার অনেকটা (কৃষি ক্যালেন্ডারের) আগেই বিভিন্ন জাতের আম পরিপক্ব হওয়ায় কৃষি বিভাগের ছাড়পত্র নিয়ে ১৫ দিন ধরে বাজারে আম উঠতে শুরু করেছে। কিন্তু একই সময়ে সমতল অর্থাৎ উত্তরবঙ্গের আমও রাজধানীর ফলের আড়ত দখল করেছে। ফলে পাহাড়ি ফল সমতল দখলে নিতে পারেনি।
মহালছড়ি থেকে আম নিয়ে বাজারে আসা বিটন চাকমা বলেন, ‘তিনটহরী বাজারে চট্টগ্রামসহ সমতলের পাইকারদের আনাগোনা বেশি হওয়ায় ৪০-৪২ কিলোমিটার দূরের মহালছড়ি থেকে আম বিক্রি করতে এখানে আসি। কিন্তু কাঁচা ফলমূলের দাম এতটাই কম যে আম্রপালি আমের মণ ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। নিজস্ব বাগান ও পরিবহন থাকায় হয়তো লোকসান সত্ত্বেও টিকে আছি। কিন্তু যাঁদের নিজস্ব পরিবহনের ব্যবস্থা নেই, তাঁরা লোকসানে পড়েছেন।’
বিটন চাকমা আরও বলেন, ‘পাহাড় তথা খাগড়াছড়ির বৃহত্তর আম, কাঁঠাল, লিচুর আবাদ এলাকা মানিকছড়িতে সরকারি উদ্যোগে হিমাগার নির্মাণ এবং আম রপ্তানির উদ্যোগ না নিলে এই অঞ্চলের ফলদ বাগানমালিকেরা নিঃস্ব হবেন।’
লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার কৃষি উদ্যোক্তা রিম্রাচাই মারমা বলেন, ‘আমি একজন কৃষি উদ্যোক্তা এবং একটি কীটনাশক কোম্পানিতে খণ্ডকালীন চাকরি করি। পাহাড়ের উঁচু ভূমিতে বাগান তৈরি করা ব্যয়সাপেক্ষ। কঠোর পরিশ্রমের ফসল বিক্রি করতে এসে যদি পুঁজি হারানোর ঝুঁকি থাকে, তাহলে এখানকার প্রান্তিক কৃষক বাঁচবেন না।’
তিনটহরীর রনি এন্টারপ্রাইজ আড়তের অংশীজন মো. রমজান আলী সেলিম বলেন, ‘রসাল ফলের স্বর্গরাজ্য খাগড়াছড়ির প্রতিটি উপজেলা হলেও একমাত্র মানিকছড়ি উপজেলার তিনটহরী কাঁচাবাজারে প্রতিদিন জমজমাট বেচাকেনা চলে। খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কের পাশে এবং বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রামমুখী এলাকায় বাজারটির অবস্থান হওয়ায় বিগত সময়ে সমতলের পাইকারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল সরব। আম, কাঁঠাল, লিচু, আনারসে বাজার এখন সয়লাব। পাহাড়ে এবার কিছুটা আগেই নানা স্বাদের আম্রপালি, ব্যানানা, কিউজাই, রাংগুইন, বার্মিজ, লক্ষণ আম একই সময়ে পরিপক্ব হওয়ায় হাটে উঠতে শুরু করেছে।’
রমজান আলী সেলিম বলেন, ‘আমাদের বাজারটি প্রতিদিনের হাট হওয়ায় মানিকছড়ি, রামগড়, গুইমারা, লক্ষ্মীছড়ি, মাটিরাঙ্গা, মহালছড়ি উপজেলাসহ খাগড়াছড়ির আমও এই বাজারে আসে। কিন্তু বাজারে পাইকারের উপস্থিতি আগের তুলনায় কম।’
আরেক আড়তদার মীর হোসেন বলেন, ‘ফলের দাম স্মরণকালের নিম্নমুখী। আম্রপালির দাম এখন প্রতিমণ ৭০০ থেকে ৮০০ বা সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে; যা এক সপ্তাহ আগেও বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। ব্যানানা ও কিউজাই আম বর্তমানে প্রতিমণ ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; যা গত সপ্তাহেও ছিল ৪ হাজার ৮০০ টাকা। ফলে এই মূল্য দিয়ে বাগানমালিকেরা পুঁজিও তুলতে পারবেন না।’
তিনটহরী বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মোরশেদ আলম বলেন, ‘বাজারটিতে সূর্যোদয়ের আগে শুরু হয়ে রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত ফল বেচাকেনা চলে। প্রতিদিন এক থেকে দেড় কোটি টাকার লেনদেন হয়। প্রতিবছর ৩০ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়। কিন্তু এবার ফলের দাম অনেক কম।’
মানিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জহির রায়হান বলেন, ‘কৃষিনির্ভর জনপদে প্রান্তিক কৃষকদের বাঁচিয়ে রাখতে হলে তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য এবং বাজারজাত সহজ করতে হবে; বিশেষ করে আম রপ্তানির ব্যবস্থা করা জরুরি। এবার পাহাড়ে আগেভাগেই আম পরিপক্ব হওয়ায় ন্যায্যমূল্য মিলছে না। বাজারে পাইকারও কম।’

ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শেষ হলেও আজ শনিবার থেকে পোশাক কারখানা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পূর্ণোদ্যমে কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এ কারণে গতকাল শুক্রবার মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-আরিচা নৌপথ ও সংযোগ সড়কে কর্মস্থলমুখী মানুষের চাপ বেড়ে যায়।
৩ ঘণ্টা আগে
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
৪ ঘণ্টা আগে
রাত ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটসংলগ্ন কুরিয়ার অপারেশন এলাকায় একটি কনটেইনারের ভেতর ও পাশে আগুনের সূত্রপাত দেখা যায়। বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার ইউনিট, ফায়ার সার্ভিস ও সংলগ্ন বিমানবাহিনীর ঘাঁটি থেকে আসা সদস্যদের তৎপরতায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে...
৫ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় আবারও অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটসংলগ্ন কুরিয়ার শেডে (মালামাল রাখার স্থান) এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে জানা গেছে। তবে আধা ঘণ্টারও কম সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বিমানবন্দরের নিজস্ব ইউনিটসহ ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের...
৬ ঘণ্টা আগে