Ajker Patrika

নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় আরেক আসামির ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

গাজীপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৬: ৪০
নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় আরেক আসামির ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
প্রতীকী ছবি

নরসিংদীর মাধবদীতে দলবদ্ধ ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার কাছ থেকে অপহরণের পর এক কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত আরেক আসামি ইছাহাক ওরফে ইছার (৪০) আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে নরসিংদীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (দ্বিতীয়) আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান এই আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন। তিনি আরও জানান, ইছাহাক নরসিংদী সদর উপজেলা মাধবদীর বাসিন্দা। গতকাল সোমবার তাঁকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে হাজির করা হলে আজ মঙ্গলবার শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় করা মামলায় এজাহারনামীয় ৯ আসামির মধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে এখন পলাতক রয়েছেন আবু তাহের (৫০)। আজ পর্যন্ত গ্রেপ্তার আট আসামি হলেন ঘটনার মূল হোতা নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮), এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০), মো. গাফফার (৩৭), আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), ইমরান দেওয়ান (৩২), মো. আইয়ুব (৩০) ও ইছাহাক ওরফে ইছা (৪০)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাধবদী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ওমর কাইয়ুম জানান, পলাতক আসামি আবু তাহেরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন যুবক ওই কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যান এবং তাকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কিশোরীর পরিবার স্থানীয় মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে বিচার চায়। কিন্তু সেখানে সুষ্ঠু বিচার না পেয়ে বরং উল্টো হুমকির মুখে পড়ে পরিবারটি। গ্রাম্য মাতব্বরদের কাছে অভিযোগ করায় নূরা ও তাঁর সহযোগীরা কিশোরীর পরিবারের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হন।

নিরাপত্তাহীনতার কারণে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে কিশোরীকে তার খালার বাড়িতে রেখে আসার জন্য বাড়ি থেকে রওনা দেন তার বাবা। পথে বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে ছয়জন বখাটে পথরোধ করে এবং বাবার সামনে থেকেই কিশোরীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। স্বজনেরা সারা রাত বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়েও তার কোনো হদিস পাননি।

পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিলপাড় ও দড়িকান্দী এলাকার মাঝামাঝি একটি শর্ষেখেতে কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে মাধবদী থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহত কিশোরীর মা বাদী হয়ে নূরাকে প্রধান আসামি, স্থানীয় মেম্বার ও বিএনপি নেতাসহ ৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় নূরাসহ চারজনকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে এবং স্থানীয় মেম্বার ও বিএনপি নেতা আহম্মদ আলী দেওয়ানসহ পাঁচজনকে সালিসকারী হিসেবে আসামি করা হয়।

মাধবদী থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, আগে গ্রেপ্তার হওয়া সাত আসামির আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তাঁদের মধ্যে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা নূরাসহ চারজনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাঁদের রিমান্ড শেষে অন্য আসামিদের পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

ওসি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে সেসব প্রকাশ করা যাবে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত