Ajker Patrika

হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট: ভাঙতে ভাঙতে মেঘনা এগোচ্ছে মূল বাজারে

  • দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় মাছের আড়ত চেয়ারম্যান ঘাট
  • ঘাটের একটি অংশ ধসে গেছে। আতঙ্কে দিন পার করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা
  • ভরা মৌসুমে দিনে ৫০ কোটির মাছ বেচাকেনা হয়, বলছেন ব্যবসায়ীরা
ইসমাইল হোসেন কিরণ, হাতিয়া (নোয়াখালী)
হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট: ভাঙতে ভাঙতে মেঘনা 
এগোচ্ছে মূল বাজারে
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান ঘাটের দক্ষিণ পাশে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। সম্প্রতি তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

নোয়াখালীর হাতিয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় মাছের আড়ত চেয়ারম্যান ঘাট মেঘনা নদীতে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। ইতিমধ্যে ঘাটের একটি অংশ নদীতে ধসে পড়েছে। এখন ভাঙছে মূল বাজারের অংশ। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ভাঙনের আতঙ্কে দিন পার করছেন।

উপজেলার হরনী ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে চেয়ারম্যান ঘাটের অবস্থান। দুই যুগ ধরে ঘাটটি মাছের ব্যবসার বড় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ছোট-বড় মাছধরার ট্রলার (ইঞ্জিনচালিত নৌকা) ঘাটে এসে মাছ বেচাকেনা করে। ভরা মৌসুমে গভীর সমুদ্রের বড় বড় শতাধিক ট্রলার ঘাটে মাছ নিয়ে ঘাটে আসে। ভরা মৌসুমে প্রতিদিন ৫০ কোটি টাকার মতো মাছ বেচাকেনা হয়। বর্ষা মৌসুমে ভোলা, বরিশাল ও চাঁদপুর থেকে আসা জেলেদের হাঁকডাকে ঘাট সরগরম হয়ে ওঠে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুরের বড় বড় পাইকারেরা ঘাট থেকে মাছ কিনে নিয়ে যান। সাগর মোহনা ও সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হওয়ায় চেয়ারম্যান ঘাটে মাছের সরবরাহ ও বিক্রি অনেক ভালো।

ঐতিহ্যবাহী ঘাটটি এখন মেঘনার ভাঙনের কবলে পড়েছে। গত বছর তীব্র ঢেউয়ে ঘাটের একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। মূল ঘাট থেকে ১০-১৫টি দোকানপাট সরিয়ে নিতে হয়েছে। এখন মূল বাজারের দিকে এগিয়ে এসেছে নদী। ঢেউয়ের তীব্রতায় মূল বাজার ভাঙছে। মেঘনার ভাঙনে ঘাটে গড়ে তোলা দোকান ও বাড়িঘর নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা।

ঘাটের প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী আকবর হোসেন জানান, প্রতিদিন অসংখ্য মাছ ধরার ট্রলার ঘাটে আসা-যাওয়া করে। ঘাটকে কেন্দ্র করে সহস্রাধিক পাকা, আধা পাকা দোকানপাট গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া আছে পুলিশ ফাঁড়ি, আইস কারখানাসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এখন নদীভাঙনে জেলে, শ্রমিক, ব্যবসায়ী সবার মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মাছ ঘাটের চায়ের দোকানদার নুর উদ্দিন জানান, তাঁর তিন ছেলেই মাছ ঘাটের শ্রমিক। বয়স হওয়ায় তিনি ঘাটে চায়ের দোকান করেন। ঘাটের পূর্ব পাশে বেড়ির ঢালে তাঁর বসবাস। ঘাট ভেঙে গেলে তাদের বাড়িঘর, দোকানপাট, কাজ সব হারাতে হবে।

চেয়ারম্যান ঘাটের সাদিয়া ফিশ এজেন্সির পরিচালক মো. বাবু বলেন, ভাঙতে ভাঙতে এখন বাজারের একেবারে দক্ষিণ পাশে চলে এসেছে নদী। নৌকাগুলো মাছ বিক্রি করতে বাজারের পাশে নোঙর করলে ঢেউয়ের তোড়ে তীব্র দোল খেতে থাকে। গত বছর বাজারের মেইন শেডের একাংশ ভেঙে গেছে। সেখান থেকে ১০-১৫টি মাছের গদি অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে।

চেয়ারম্যান ঘাট মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাহেদ উদ্দিন বলেন, ঘাটটি নদীভাঙন থেকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। এ বছর কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এখানে ব্যবসা করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, এই ঘাট থেকে সরকার প্রতিবছর বিশাল অঙ্কের টাকা ট্যাক্স পায়। এখানে মাছ ঘাটের পাশাপাশি ফেরিঘাট ও সি-ট্রাক ঘাট রয়েছে। ফেরিঘাটকে কেন্দ্র করে যাত্রীছাউনিসহ অনেকগুলো স্থাপনা রয়েছে। এসব এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে।

নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জামিল আহমেদ পাটোয়ারী বলেন, সম্প্রতি ঘাট রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে কিছুটা ভাঙন ঠেকানো গেছে। স্থায়ীভাবে ব্লক বাঁধ দিয়ে কাজ করার জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঐতিহ্যবাহী ঘাটটি রক্ষা পাবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত