Ajker Patrika

ওয়াশ ব্লক নির্মাণ: মেয়াদ শেষ হলেও কাজ শুরু হয়নি

  • দরপত্র হলেও তথ্য দেওয়া হয়নি।
  • ১৮০ দিন শেষে সাতটি বিদ্যালয়ে কাজের অগ্রগতি নেই।
ফাহিম হাসান, পঞ্চগড়
ওয়াশ ব্লক নির্মাণ: মেয়াদ শেষ হলেও কাজ শুরু হয়নি
ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ে ১১টি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের ওয়াশ ব্লক নির্মাণের মেয়াদ শেষ হলেও সাতটির কাজ এখনো শুরু হয়নি। এমনকি ওই সব স্কুলের প্রধান শিক্ষকেরা জানেন না এমন প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে। তাঁদের দাবি, বিদ্যালয়ের নামে দরপত্র হলেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তাঁরা সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিলেন। পঞ্চগড় সদর উপজেলায় বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণ প্রকল্পে এমন চিত্র সামনে এসেছে।

জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) আওতায় প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সদর উপজেলার ১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর কাজ শুরু হয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এর মধ্যে ৪টি বিদ্যালয়ে কাজ শুরু হলেও ৭ টিতে কাজের কোনো অগ্রগতি নেই।

বিদ্যালয়গুলো হলো সরদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লালটুগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পতিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেরুবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাতমেড়া প্রধানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লাখেরাজ ঘুমটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নুচড়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণে বরাদ্দ এসেছে বা দরপত্র হয়েছে, এমন কোনো তথ্য আমাদের জানানো হয়নি। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। এখন শুনছি, কাজের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া পরিচালনা করা এবং নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও কাজ শুরু না হওয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতার পরিচয়। তাঁদের দাবি, এই ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হোক।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘একটি চিঠির মাধ্যমে ১১টি বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণের বিষয়টি জানতে পারি। এর মধ্যে চারটি বিদ্যালয়ে কাজ শুরু হলেও বাকি সাতটি বিদ্যালয়ে এখনো কাজ শুরু হয়নি। কাজ শুরুর নির্ধারিত সময়ের ১৮০ দিনের বেশি সময়

শেষ হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ বিলম্ব হওয়া উচিত নয়।’

পঞ্চগড় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মিনহাজুর রহমান জানান, নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলোর কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নতুন কোনো কাজ দেওয়া হয়নি। তবে চলমান চারটি স্কুলের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য তাঁকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরে

নতুন প্রকল্প অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত