Ajker Patrika

সাপের ছোবলে জীবন-সংকটে জেলে বাবলু, অর্থাভাবে থমকে চিকিৎসা

শিমুল চৌধুরী, ভোলা 
সাপের ছোবলে জীবন-সংকটে জেলে বাবলু, অর্থাভাবে থমকে চিকিৎসা
অসুস্থ জেলে বাবলু। ছবি: আজকের পত্রিকা

মেঘনা নদীতে মাছ ধরেই চলত চার সদস্যের সংসার। প্রতিদিনের আয়েই জুটত স্ত্রী ও দুই সন্তানের খাবার। কিন্তু জীবিকার সেই নদীতেই বিষধর সাপের ছোবলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ভোলার দৌলতখানের জেলে বাবলু (৩০)। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে তা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। একদিকে শয্যাশায়ী বাবলু, অন্যদিকে সংসারের আয় বন্ধ—দুই সন্তানকে নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাঁর পরিবারের। স্বামীকে সুস্থ করে তুলতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহায়তা কামনা করেছেন স্ত্রী সুরমা বেগম।

বাবলু দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কেরামত আলী বাড়ির মৃত আহমদ আলীর ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১৮ জুলাই রাতে দৌলতখান উপজেলার বিএনপি বাজারসংলগ্ন মেঘনা নদীতে মাছ শিকার শেষে তীরে ফেরার সময় বিষধর একটি সাপ তাঁকে কামড় দেয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সর্বশেষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে স্বজনেরা জানান, সাপের বিষের প্রভাবে বাবলুর একটি পা ও কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁকে সুস্থ করে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ব্যয়বহুল ওষুধ প্রয়োজন। চিকিৎসায় প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। এর পাশাপাশি রক্তশূন্যতার কারণে চিকিৎসা ব্যয় আরও বাড়ছে।

অসুস্থ জেলে বাবলুর পাশে তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলে। ছবি: আজকের পত্রিকা
অসুস্থ জেলে বাবলুর পাশে তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলে। ছবি: আজকের পত্রিকা

দৈনিক আয়ে চলা এই জেলে পরিবারের পক্ষে এত বড় ব্যয় বহন করা সম্ভব হয়নি। আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে এতদিন চিকিৎসা চালানো হলেও এখন সেই পথও বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থসংকটের কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় বাবলুকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে পরিবার। বর্তমানে তিনি বাড়িতেই সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবলুর স্ত্রী সুরমা বেগম বলেন, ‘স্বামীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন কী করব বুঝতে পারছি না। আমার স্বামীকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে সহযোগিতা চাই।’

এ বিষয়ে দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল মতিন খান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত