Ajker Patrika

অফিসে বসেই গুনে গুনে ঘুষ নেন ভূমি কর্মকর্তা, ভিডিও ভাইরাল

ফরিদপুর প্রতিনিধি
অফিসে বসেই গুনে গুনে ঘুষ নেন ভূমি কর্মকর্তা, ভিডিও ভাইরাল
অফিসে বসেই গুনে গুনে ঘুষের টাকা নিচ্ছেন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা ইমরান শেখ। ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় ইমরান শেখ নামের এক ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অফিসে বসেই গুনে গুনে ঘুষের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ওই টাকা সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় অনেকে মন্তব্য করেছেন। যদিও ওই কর্মকর্তার দাবি—ঘুষের টাকা নয়।

জানা যায়, ইমরান শেখ নামের টাকা গ্রহীতা ওই ব্যক্তি বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়ন (খ) ভূমি অফিসের উপসহকারী পদে কর্মরত রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি অফিস কক্ষে চেয়ারে বসেই গুনে গুনে টাকাগুলো নেন। এ সময় টাকা দেওয়া ব্যক্তির নাম-পরিচয়ও নোট করে রাখেন। ওই দৃশ্য গোপনে ধারণের পর আজ রোববার বিকেলে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভিডিওটিতে অস্পষ্ট শোনা যাওয়ায় টাকা দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২ মিনিট ২২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে তিনি তাঁর চেয়ারে বসে গুনে গুনে টাকা নিচ্ছেন। একপর্যায়ে সেই টাকা নিজের প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে রাখেন। এ সময় ভিডিওতে ওই কর্মকর্তা উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নিয়েও মন্তব্য করেন।

তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আজকে রাতে আবেদন হয়ে যাবে, সামনে রোববার জমা হয়ে যাবে। স্যার যত তাড়াতাড়ি শুনানি দিবে, ইনশা আল্লাহ দুই সপ্তাহের মধ্যে হয়ে যাবে।’ এ সময় ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার প্রসঙ্গে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘উনিও ৪০তম বিসিএস, আমিও ৪০তম বিসিএস, উনার কপাল ভালো উনি ক্যাডার হয়েছেন আর আমি নন-ক্যাডার হয়েছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতৈর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা ইমরান শেখ বলেন, ‘এটি ঘুষের টাকা নয়, এটি ধারের টাকা। অনেক মানুষ আমার কাছ থেকে টাকা ধার নেয়, আবার ফেরত দিয়ে যায়।’ সেই ধারের টাকা ফেরত নেওয়ার সময়কার ভিডিও বলে তিনি দাবি করেন। তবে তিনি ধারের টাকা ফেরত দেওয়া ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানাতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে কথা বলতে বোয়ালমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিব্বির আহমেদের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

বিষয়টি নিয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, ‘এর আগেও আমি সরেজমিনে অফিসে গিয়ে তাঁকে না পেয়ে শোকজ করেছি। টাকা নেওয়ার অভিযোগ যদি সঠিক প্রমাণিত হয়, তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত