Ajker Patrika

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কলেজের জমি ও মসজিদের রাস্তা কেটে গাছ রোপণ

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি  
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কলেজের জমি ও মসজিদের রাস্তা কেটে গাছ রোপণ
১৯৯৯ সালে চতরা বিজ্ঞান ও কারিগরি কলেজটি প্রতিষ্ঠার সময় স্থানীয় বজলার রহমান সরকারের কাছ থেকে ৩৩ শতাংশ জমি ক্রয় করা হয়েছিল। ছবি: আজকের পত্রিকা

রংপুরের পীরগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঐতিহ্যবাহী চতরা বিজ্ঞান ও কারিগরি কলেজ এবং সংলগ্ন জামে মসজিদের চলাচলের রাস্তা কেটে জোরপূর্বক গাছ রোপণ করার অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জমি নিজের দাবি করে স্থানীয় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত আশরাফুল সরকার ও তাঁর সহযোগীরা এই কাণ্ড ঘটান। এ সময় বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা কলেজের প্রধান ফটক, প্রাচীর ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে চতরা বিজ্ঞান ও কারিগরি কলেজটি প্রতিষ্ঠার সময় স্থানীয় বজলার রহমান সরকারের কাছ থেকে ৩৩ শতাংশ জমি ক্রয় করা হয়েছিল। কলেজের নামে পূর্ব-পশ্চিমে ১৪৪ ফুট এবং উত্তর-দক্ষিণে ১০০ ফুট প্রস্থের এই জায়গাটি কেনার পর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়। তখন থেকেই ওই জায়গার একাংশ কলেজ ও স্থানীয় জামে মসজিদের যাতায়াতের সাধারণ রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির মালিকানা দাবি করে আসছিলেন আশরাফুল সরকার নামের এক ব্যক্তি।

বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় ওই জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করে সব ধরনের কার্যকলাপে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের সেই স্থিতাবস্থা বা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আশরাফুল ও তাঁর সহযোগীরা দলবল নিয়ে জোরপূর্বক লাঠিসোঁটা ও কোদাল হাতে ওই জায়গায় প্রবেশ করেন। তারা রাস্তা কেটে সেখানে বিভিন্ন গাছের চারা রোপণ করতে শুরু করলে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকেরা এতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আশরাফুলের লোকজন শিক্ষক ও কর্মচারীদের সঙ্গে চরম বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে।

অভিযুক্ত আশরাফুল সরকার। ছবি: সংগৃহীত
অভিযুক্ত আশরাফুল সরকার। ছবি: সংগৃহীত

একপর্যায়ে হামলাকারীরা অত্যন্ত উগ্র রূপ ধারণ করে কলেজের সীমানা প্রাচীর, প্রধান ফটক এবং নিরাপত্তার জন্য লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ভাঙচুর করে ধ্বংস করে দেয়। বহিরাগতদের এই আকস্মিক তাণ্ডব ও ভাঙচুরের মুখে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রব প্রধান তাৎক্ষণিকভাবে মুঠোফোনে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে পীরগঞ্জ থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীদের ধাওয়া করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রব প্রধান বলেন, ‘আদালত কর্তৃক ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও তা সম্পূর্ণ ভঙ্গ করে কলেজের জমি এবং মসজিদের যাতায়াতের রাস্তা কেটে জোরপূর্বক গাছ রোপণ করা হয়েছে, যা সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল।’ তিনি আরও বলেন, এই বর্বরোচিত হামলার পর থেকে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি রাস্তা কেটে ফেলার কারণে সাধারণ মুসল্লিরা ঐতিহ্যবাহী জামে মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতে পারছেন না। তিনি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ১৯৬৭ সালে কবলা মূলে তাঁর বাবা এই জমির প্রকৃত মালিক ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে তারাই এখন এই জমির মালিক এবং নিজেদের ক্রয়কৃত জমিতেই তাঁরা গাছ রোপণ করেছেন, কোনো অন্যায় বা ভাঙচুর করেননি। পীরগঞ্জ থানা-পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত