
বিমল সরকার
বিমল সরকার
সকল লেখা

শিক্ষার করুণ দশা কি চলতে থাকবে
‘বাইরে বেশ ফিটফাট, কিন্তু ভেতরে সদরঘাট’—এ প্রবাদ বাক্যের মতো অবস্থা দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারীকরণ করা কলেজগুলোতে। ভালো করে খবর নিলে দেখা যাবে, দেশের অধিকাংশ সরকারি কলেজের এমনই চিত্র। এ এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। দেখভাল করার যেন কোনো কর্তৃপক্ষ নেই।

পরীক্ষার ফল প্রকাশ: ছোট ছোট পরিবর্তনে বড় বদল আসুক
শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে অনুষ্ঠিত একেকটি পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের সঙ্গে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কার্যনির্বাহী প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি সম্পৃক্ত করা বা না করার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। স্বাভাবিকভাবে মনে প্রশ্ন আসে, পাবলিক পরীক্ষার মতো বিষয়েও যদি খোদ প্রধানমন্ত্রীকে...

মাস্টার্স পড়ার সেকাল-একাল
১৯ শতকের প্রথমার্ধে আমাদের দেশে ইংরেজি তথা আধুনিক শিক্ষার গোড়াপত্তন ঘটেছিল মূলত ইংরেজদের হাত ধরে। তবে আর কিছু যেমনই হোক, শত বছরেও এখানকার কোনো প্রতিষ্ঠানে মাস্টার্স পড়ার কোনো সুযোগ সৃষ্টি কিংবা বন্দোবস্ত পরিলক্ষিত হয়নি। অথচ বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি ১৭০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে

স্কুল অ্যান্ড কলেজগুলোর গুণগত ‘অর্জন’
ছয় জেলার সাতটি সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ বিগত আওয়ামী সরকারের শাসনামলে ২০১৪ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে সরকারীকরণ করা হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ‘স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ শুধু ‘স্কুল’ থাকার সময়ের গৌরব ও সুনাম বহন করে চলেছে। স্কুল থেকে কলেজে উন্নীতকরণের পর সেভাবে সুনাম অর্জন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানগুলো।

এভাবে কি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চলতে পারে
পাবলিক পরীক্ষায় ফল বিপর্যয়ের সঙ্গে শূন্য পাসের হার বা শতভাগ পরীক্ষার্থী ফেলের বিষয়টিও সম্পর্কযুক্ত। যদিও অনেক বছর আগেই এর সূত্রপাত। শতভাগ পরীক্ষার্থী ফেল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বিভিন্ন বোর্ডে বছর বছর কমে এলেও, ধারাবাহিকভাবে এক মন্দ উদাহরণ সৃষ্টি করেছে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড।

শিক্ষায় অশনিসংকেত
শুনতে যেমনই শোনা যাক, বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গত এক-দেড় দশকে উপজেলা পর্যায়ে সরকারি হওয়া কলেজগুলোতে চলমান শিক্ষা কার্যক্রমটি একদম ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ কোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা এলাকা নয়, বলতে গেলে সারা দেশেরই এ এক অভিন্ন চিত্র। কলেজে কলেজে শিক্ষক সংকট খুবই ভয়াবহ।

শিক্ষায় দুর্নীতি দমনে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত
শিক্ষা তো বটেই; বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাত্রাভেদে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অব্যবস্থা আগেও ছিল। তবে এসবের শাখা-প্রশাখা ও ডালপালা আজকালকার মতো এত সুবিস্তৃত ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের মানবতাবাদী নেতা মার্টিন লুথার কিং বলেছেন, ‘কোথাও অবিচার হলে তা সবখানের ন্যায়বিচারকে হুমকির মধ্যে ফেলে।’

পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে ভাবনা
পাবলিক পরীক্ষা, তার ফলাফল নিয়ে এবং আরও স্পষ্ট করে বললে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে মাঝেমধ্যে যে কাণ্ডকারখানা দেখা যায়, তা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক। এর মাশুল দিতে হয় লাখ লাখ শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ গোটা জাতিকে।

শিক্ষাক্ষেত্রে গফরগাঁওয়ের করুণ দশা
ময়মনসিংহ থেকে আলাদা হয়ে টাঙ্গাইল ১৯৬৯ সালে স্বতন্ত্র একটি জেলা হিসেবে পরিচিতি পায়। একইভাবে ১৯৭৮ সালে দেশের ২০তম জেলা হিসেবে জামালপুরের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৯৮৪ সালে মহকুমা ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে দেশের সব মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করা হয়। ফলে ঢাকা বিভাগের অধীন ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও জামালপুর ছাড়াও...

৫ টাকার অফিসার ও ভোট গ্রহণে টিমওয়ার্ক
প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। ১৯৮৫ সালের ২০ মে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ পাই। এবারই আমার জীবনে প্রথম ভোট গ্রহণ। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর বাজারের অদূরে ভান্ডা মজলিসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি আমার নির্ধারিত কেন্দ্র।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ও পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকার সরকারি সাতটি কলেজ ইস্যুতে গত কয়েক বছরে যা ঘটেছে, তা শিক্ষাক্ষেত্রে এককথায় নজিরবিহীন। শিক্ষার্থী-শিক্ষক, সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে এমন সংশয়-সন্দেহ এবং অনাস্থা-অবিশ্বাস আমাদের গৌরব-গরিমাকে অনেকাংশেই ম্লান করে দিয়েছে।

নির্বাচন বড় মজার জিনিস
প্রবাদপ্রতিম বাঙালি রাজনীতিক শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ঢাকার এক জনসভায় (১১ জুলাই ১৯৫৮) বলেছিলেন, ‘ইলেকশন বড় মজার জিনিস। এ সময় যে যা-ই বলেন তা-ই সত্য।’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশে আজ এমনই পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে মনে হচ্ছে।

পঞ্চাশ বছরের উচ্চশিক্ষা
বেশ খেদের সঙ্গে অনেকেরই জিজ্ঞাসা—স্বাধীনতা লাভের পর বিগত পাঁচ দশক তথা ৫৪ বছরে (১৯৭১-২০২৫) শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের অর্জন কী; কী পেয়েছি এই সুদীর্ঘ সময়ে? আবার তৃপ্তির ঢেকুর তুলে খুবই উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অনেককে এ কথাও বলতে শোনা যায়...

মন্ত্রীদের বেতন-ভাতা নিয়ে কথা
শুরুটা ছিল বেশ আশাজাগানিয়া। বিধি অনুযায়ী আমাদের দেশে মন্ত্রিসভার সদস্যদের কী বেতন বা সম্মানী এবং ভাতা ও সুবিধাদি এক্ষণে জানা নেই। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়েই নিশ্চয় তা নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রী ছাড়া যাঁরা সংসদ সদস্য, তাঁদের বেলায়ও একই কথা; মোটা অঙ্কের বেতন-ভাতা এবং বলতে গেলে অবাধ সুযোগ-সুবিধা আছে বলেই

নির্বাচনী মোর্চা নিয়ে কথা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সমাগত। কথায় আছে, ঠেলাঠেলির ঘর খোদায় রক্ষা কর। বহু মত আর পথের অনুসারীদের এক মঞ্চে অবস্থান মানে কখনো কখনো টানাপোড়েনকেও মেনে নেওয়া। নানা রকমের দ্বিধা-সংকোচ, শর্তের বেড়াজাল, নিন্দা-অপবাদ, সমালোচনা; তাও ‘বৃহত্তর স্বার্থে’ একতাবদ্ধ হওয়া।

সরকারি কলেজে শিক্ষার হযবরল অবস্থা
গত সরকারের আমলে দেশের অনেক বেসরকারি কলেজ সরকারীকরণ করা হয়। তবে ২০১৮ সালে সরকারি হওয়ার আদেশ জারির পর থেকে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোতে এক নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকদের সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণের কথা বিবেচনা করেই তো সরকারীকরণ করা হয়েছিল...
