‘বাইরে বেশ ফিটফাট, কিন্তু ভেতরে সদরঘাট’—এ প্রবাদ বাক্যের মতো অবস্থা দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারীকরণ করা কলেজগুলোতে। ভালো করে খবর নিলে দেখা যাবে, দেশের অধিকাংশ সরকারি কলেজের এমনই চিত্র। এ এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। দেখভাল করার যেন কোনো কর্তৃপক্ষ নেই।
এসব হলো সরকারি কলেজগুলোকে অসম্মান করার নামান্তর। আমাদের অন্তঃসারশূন্য শিক্ষাব্যবস্থার যেন ভিন্ন এক রূপ। সরকারি কলেজগুলোর এমন চিত্র কেবল অনভিপ্রেত নয়, দুঃখজনকও। মনে পড়ে, এই তো সেদিনের কথা; সরকারীকরণের ঘোষণার পর কলেজগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারী থেকে তরুণ শিক্ষার্থীরা উৎসাহ আর উদ্দীপনা সহকারে ঢাকঢোল পিটিয়ে নেচে-গেয়ে আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন! কিন্তু আজ? মাত্র অল্পদিনের ব্যবধানে ফলাফল কী দাঁড়িয়েছে? এই আবেগ আর উচ্ছ্বাস দিনে দিনে ফিকে হয়ে যাচ্ছে না তো?
এখানে মোটাদাগে গলদ একটি আছেই। তা না হলে এমনটি ঘটবে কেন? দূর থেকে কারও পক্ষে সেটা শনাক্ত করা সম্ভব না-ও হতে পারে, তবে কাছের সবারই ওই গলদটি অন্তত শনাক্ত করা কঠিন কোনো কাজ নয়।
গলদটি হলো, ভয়াবহ ফল বিপর্যয়। এ নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়াটাই স্বাভাবিক, এমনটা হলে উপজেলা স্তরের সরকারি কলেজ কিংবা শিক্ষা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণাটা কী পর্যায়ে দাঁড়ায়?
একটি উপজেলায় তিনটি সরকারি কলেজ—এ এক বিরল দৃষ্টান্ত; আমি জানি না এমনটি দেশের আর কোথাও আছে কি না। উপজেলায় উপজেলায় এখন সরকারি কলেজ—এটা ভালো সংবাদ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ব্যবস্থাগত ত্রুটির কারণে সেটা ফিকে হয়ে গেছে। দেশে বর্তমানে সরকারি কলেজবিহীন কোনো উপজেলা নেই। দুটি করে সরকারি কলেজ এমন কিছু উপজেলায়ও রয়েছে। তবে তিনটির কথা কখনো শোনা যায় না। বৃহত্তর ময়মনসিংহের ছয়টি জেলা মিলিয়ে (ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, জামালপুর ও শেরপুর) মোট ৬০টি উপজেলার মধ্যে তো নয়ই, দেশের আর কোনো উপজেলায় তিনটি সরকারি কলেজ থাকার কথা আমার জানা নেই।
এমন ব্যতিক্রমী উপজেলা হলো জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় রয়েছে তিনটি সরকারি কলেজ। সরকারি কলেজ তিনটি হলো উপজেলা সদরের মেলান্দহ সরকারি কলেজ (পৌর এলাকায় অবস্থিত), ঘোষের পাড়া সরকারি কলেজ (ঘোষের পাড়া ইউনিয়ন) ও ঝাউগড়া সরকারি কলেজ (ঝাউগড়া ইউনিয়ন)। তার মানে উপজেলা সদরে একটি আর বাকি দুটি সরকারি কলেজ অবস্থিত দুটি ভিন্ন ইউনিয়নে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালে নাম বদলের আগে ঝাউগড়া কলেজ ‘বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ’ ও ঘোষের পাড়া কলেজটি ‘শেখ কামাল সরকারি কলেজ’ নামে পরিচিত ছিল।
ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর ও শেরপুর—এ চারটি জেলার সরকারি-বেসরকারি মিলে মোট ৩০৬টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ময়মনসিংহ বোর্ডের অধীনে ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৭৪টি, ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ১২৫টি ও ডিগ্রি স্তরের কলেজ ১০৭টি। জেলা সদরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এবং অপেক্ষাকৃত পুরোনো কলেজ ও মহিলা কলেজ (প্রতি জেলায় দুটি করে) আড়ালে রাখলে চার জেলায় উপজেলা স্তরে (৩১টি উপজেলায়) সরকারি কলেজ রয়েছে মোট ৩৩টি। লক্ষ করবার বিষয় যে ওই ৩৩টির মধ্যে আর কোথাও না; একমাত্র জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলাতেই সরকারি কলেজ রয়েছে তিনটি।
গৌরচন্দ্রিকা আর বড় না করে এবার মূল বিষয়ে আসা যাক। জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় একের পর এক তিনটি কলেজ সরকারি করা হলো। কিন্তু কলেজ তিনটিতে লেখাপড়া তথা শিক্ষাক্ষেত্রে এ কেমন হালহকিকত? বিগত এইচএসসি পরীক্ষার ফলে (২০২৫) এ কোন শনির দশা পেয়ে বসে একযোগে একই উপজেলার সরকারি তিনটি কলেজকেই?
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীন চারটি জেলার একটি হলো জামালপুর। জামালপুর সদরসহ জেলার মোট সাতটি উপজেলায় সরকারি প্রতিষ্ঠান (ডিগ্রি কলেজ, ইন্টারমিডিয়েট কলেজ এবং স্কুল অ্যান্ড কলেজ) রয়েছে মোট ১২টি। সদরের বাইরের ছয় উপজেলায় এমন প্রতিষ্ঠান ৯টি। ৯টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাতটিই বোর্ডের পার্সেন্টিজ অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। আরও ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—তিন সরকারি কলেজের উল্লিখিত উপজেলা মেলান্দহ; যেখানকার তিনটি সরকারি কলেজেরই একেবারে করুণ দশা! পৌর এলাকায় অবস্থিত মেলান্দহ কলেজটি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত; সরকারীকরণ হয় ১৯৮৭ সালে। প্রতিষ্ঠা ও সরকারীকরণের সময় বিবেচনায় এটিকে একটি পুরোনো কলেজ বলে গণ্য করা যায়। মেলান্দহ সরকারি কলেজ থেকে ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় মোট ৪১৫ জন আর পাস করে ১২২ জন পরীক্ষার্থী (পাসের হার ২৯.৩৯ শতাংশ)। একই উপজেলার ঝাউগড়া সরকারি কলেজ থেকে পরীক্ষা দেয় মোট ৫৩৬ জন আর পাস করে ১২৯ জন (পাসের হার ২৪.০৬ শতাংশ); অন্যদিকে ঘোষের পাড়া সরকারি কলেজ থেকে অংশ নেয় মোট ১২৫ জন আর পাস করে ১৭ জন (পাসের হার ১৩.৬ শতাংশ)।
উল্লেখ্য, এইচএসসি পরীক্ষায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৫১.৫৪ শতাংশ। কিন্তু খেয়াল করলে সবকিছুর আগে দৃশ্যমান হয় একেকটি সরকারি কলেজের ফল বিপর্যয়ের করুণ চিত্রটি। আহারে, একটি উপজেলায় পাশাপাশি অবস্থিত তিনটি সরকারি কলেজ (বিরল এক দৃষ্টান্ত), পরীক্ষায় পাসের হার ২৯, ২৪ ও ১৩ শতাংশ! শিক্ষার ওপর এ কোন রাহুর দশা চেপে বসেছে?
সময় দ্রুত বয়ে যাচ্ছে। বিষয়টির ওপর বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া দরকার। তা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। কেবল বিগত এইচএসসি পরীক্ষার ফলের ওপর জোর দিয়ে এখানে একটি উপজেলার তিনটি কলেজের নাম উল্লেখ করা হলেও সরকারি-বেসরকারি এমন অসংখ্য প্রতিষ্ঠান সবার চোখের সামনেই সটান দাঁড়িয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন কলেজে আমি শিক্ষকতা করেছি। চোখ-কান খোলা রাখলে কত কিছু ভেসে ওঠে। বিরাজমান পরিস্থিতি কিছু কিছু অবহিত হয়ে মনে বড় অস্থিরতা অনুভব করি। নিজের ভেতরকার দায়বোধ থেকে গত কয়েক মাসে ময়মনসিংহের গফরগাঁও সরকারি কলেজ (স্থাপিত: ১৯৫০ ও সরকারীকরণ ১৯৮৫), নরসিংদীর শিবপুর সরকারি শহীদ আসাদ কলেজ (স্থাপিত: ১৯৬৯ ও সরকারীকরণ: ১৯৮৫) ও টাঙ্গাইলের মওলানা মোহাম্মদ আলী সরকারি কলেজসহ (স্থাপিত: ১৯৫৮ ও সরকারীকরণ: ১৯৭৪) অন্তত এক ডজন সরকারি কলেজের নাম উল্লেখ করে এগুলোর ধারাবাহিক করুণ দশা আমার বিভিন্ন লেখায় তুলে ধরার চেষ্টা করি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গোটা জাতির আবেগের বিষয়টি জড়িত। ওই আবেগের যাতে আর কোনোভাবেই অপচয় না ঘটে, সেদিকে মনোযোগী হওয়া দরকার।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ফলে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ও সরকারি বিএম কলেজসহ দেশের অন্তত সাতটি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের...
১ ঘণ্টা আগে
বহু বছর ধরে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু পাঁচ মাসের যুদ্ধে দেশটির শাসকদের এবং বিশ্ববাসীকে বুঝিয়ে দিয়েছে, ইরানের হাতে এর চেয়েও আরও শক্তিশালী অস্ত্র রয়েছে। আর সেটি হলো, ভৌগোলিক অবস্থান ও সামরিক শক্তি। এই দুইয়ের কারণেই ইরান হরমুজ প্রণালিতে...
১ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে পর্যটক শৌভিক রায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু দেশের পর্যটন খাতের জন্য আরেকটি সতর্কসংকেত হয়ে এসেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্যারাসেইলিং চলাকালে তিনি সমুদ্রে পড়ে যান এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
১ ঘণ্টা আগে
দুই বছর পর এসে পেছন ফিরে তাকানো তেমন জটিল কোনো কাজ নয়। যে কেউ-ই সেটা পারে, সবকিছু পরিষ্কার মনে করা যায়। উপলব্ধি করা যায়, কেন কোথায় কী হয়েছিল। কিন্তু ঘটনাটা যদি হয় জুলাই আন্দোলন, যার মাধ্যমে একটা প্রবল পরাক্রম স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়েছিল, তাহলে বিষয়টা আর অত সহজ থাকে না।
১ দিন আগে